somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাতকাহন

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সবে তো মাত্র ১৬ তে স্কুল ছেড়েছিলাম ।
বাবার কাছে জোড় করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিয়েছিলাম।
বাবা আমি বড় হয়েছি । কলেজে পড়ছি ।
বাবা বলেছিল, ঠিক আছে । তবে, আর কি ?
আমি বলেছিলাম, কিছুনা বাবা । এমনি !
বাবা বলেছিল, কি ভ্রু কুঁচকাচ্ছো কেন ?
আকাশসম শির কি তবে নুইয়ে গেল !
বিরক্তিভাজন চিন্হ মুখে ছাপিয়ে বাবাকে বলেছিলাম,
বাবা ছি ! তুমি এইসব কি কথা বলো ।
উনি মুখ চেপে গাল বাঁকিয়ে মুচকি হাঁসলেন
আর বললেন, আব্বু আপনি কি আর কিছু বলবেন ?
আমি বললাম, বাবা তোমায় অনেক ভালবাসি ।
উনি দাঁতে দাঁত চেপে ক্ষীণ গলায় বললেন,
আব্বু তুমি না অনেক বড় হয়ে গেছো !
আমি উচ্চস্বরে হাঁসতে হাঁসতে দাঁড়িয়ে গিয়ে
ক্ষনিকের মত তাকে দৃষ্টিগোচর করলাম।
সেদিনের মত সাতকাহন এখানেই শেষ হলো।

এরই মাঝে কেটে গেল সময়বাঁধা কয়েকটি বছর।
কলেজের সীমানা পেরিয়ে এসে দাঁড়ালাম ভার্সিটির চত্বরে ।
সেদিন বাবা কাঁদছিল। সেইসাথে আমিও কাঁদছিলাম ।
ফোটা ফোটা জল লুকোচুরি খেলছিল বাবার পরনের চাদরে ।
আজ বহুদূরে চলে যাচ্ছি, অনেক দূরে।
ষাটোর্ধ বাবা আজ একলা হয়ে যাবে ।
হাজারো ভাবনা উঁকি দিচ্ছিল সেইদিন পিঞ্জরের ভিতরে ।
শেষের কথাগুলো বলতে বলতে বাবা থমকে যাচ্ছিল ।
আব্বু তুমি কোথায় যাচ্ছো জানো ?
কোথায় আবার ! তোমার স্বপ্নের সেই দুর্গম দ্বারগোড়ায় ।
না আব্বু তুমি যাচ্ছো আকাশ ছুঁতে,
আমার কল্পনায় আঁকা সাগর ডিঙ্গাতে।
সেখানে নিঃসঙ্গ তুমি । একমাত্র ঈশ্বর সহায় ।
আমি হতভম্ব হয়ে কিছুই বলতে পারিনি ।
শুধু দূর থেকে হাত নেড়ে জানিয়েছিলাম বিদায় ।

আজ অলস ব্যক্তিত্বের ব্যস্ত জীবনের সন্ধিক্ষণে
নিজের পরিচয়টুকু বলতে বারবার গা শিহরে যায় ।
কি ছিলাম, কি হলাম আর কতটুকুই বাকি !
তবে, যতটুকু এগিয়েছি সবটুকুই ঈশ্বর আর বাবার দয়ায়।
সেইতো আড়াই দশক আগে বাবা হারিয়েছে
বছর দশেক আগে ঘরে গিন্নীও এসেছে । চল্লিশের সীমান্তে দাঁড়িয়ে আজ আমিও একজন বাবা ।
আমার ছেলেমেয়েরাও আমাকে আব্বু বলে ডাকে ।
এসবের মাঝে ডুবে আজ আমার সহস্রবার
পরলোকগত স্বর্গবাসী বুড়ো বাপটার কথা মনে পড়ে ।
তবুও কিছু করার নেই, সবই ঈশ্বরের হাতে ।
আসলে মিথ্যে মায়ার এই ভবে জীবনের সাতকাহন
মৃত্যুর পরেও পরম্পরায় পরম্পরায় চলতেই থাকে।

→→→রাত : ১১.৫০ মিনিট
→→→২৫/০৯/২০১৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার সোভিয়েত শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১





বাংলা ব্লগের জগতে সহব্লগাররা যারা আমাকে অনেকদিন ধরে চেনেন, তারা জানেন—আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।
শুনতে একটু অদ্ভুত লাগে, তাই না?

রাশিয়ায় আমি কোনোদিন যাইনি।

তবু আমার একটা রাশিয়ান শৈশব ছিল।

আমার সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এটা একটা ফাকিবাজি পোষ্ট

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫



বাংলাদেশে একটার পর একটা বিষয়বস্তু সামনে আসে, আর সবাই সেটা নিয়ে ঝাপায়ে পড়ে। দেখে বিমলানন্দ অনুভবস করি। ''অনুভবস'' বললাম, কারন ছাত্রাবস্থায় আমরা বন্ধুরা কোন বিষয়ে ওভার-ক্যাজুয়ালি ফানি আলাপ করলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ভালোবাসার কাব্য=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:১১


মন পিঞ্জরে করবো বন্দি, পালাবি আর পাখি?
জানিস কী তুই তোকে নিত্য, নজরবন্দি রাখি!

স্বাধীন ডানায় উড়িস ঘুরিস, আমায় দূরে ফেলে,
আমারও তো ইচ্ছে লাগে, উড়ি ডানা মেলে!

মনের ভিতর ঘূর্ণি তুফান, বেসুরো সুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×