নিম্ম-মধ্যবিত্ত পরিবারে জম্ম হওয়াতে জম্ম তারিখ নিয়ে আমার কোন আগ্রহ ছিল না।আস্তে আস্তে যখন বড় হতে শিখলাম তখনি পৃথিবী দেখলাম জম্ম তারিখ নিয়ে বড় হইচই বিশেষ করে ফেসবুক নামক দুনিয়ায়।
সবার যখন জম্মদিন পালন করা,জম্ম দিনের ছবি দেখা,গল্প শুনি ঠিক তখনি আমার জম্ম তারিখ জানার ব্যাপারে আগ্রহ বেড়ে গেল।এমন কি জম্ম তারিখ না জানায় মহা মুসিবতে পড়তে হয়েছে,ইজ্জত কা মামলা।
তাই একদিন আম্মা কে জিজ্ঞেস করলাম।
আম্মা আমার জম্মদিন কবে?
আম্মা আমকে যা বলল তা হ্ল,বাংলা মাসের নাম,বৃষ্টি আর আমার ছোট বেলার একটি গল্প।
ছোটবেলায় আমার নাকি হিসু করার প্রবনতা ছিল অনেক বেশি।এত বেশি হিসু করে ছিলাম যে,আমার জন্য বানানো ছেড়া কাপড়ের তেনা,কাথা সব গুলই নাকি একদিন ভিজিয়ে দিয়েছিলাম। আমার গায়ে দেওয়ার জন্য অবশিষ্ট কোন কাপড় থাকত না।তারপর আম্মা তার ট্রাঙ্ক থেকে পরনের জন্য তুলে রাখা কাপড় আমার গায়ে দেয়া লাগত।
আমার জম্মের গল্প শেষ হওয়ার পরও আম্মা আমার জম্ম তারিখ টা বলতে পারল না।অবশেষে,আম্মা বলল,আমার জম্মের তিন দিন আগে আমার জেঠাত বোনের একটা মেয়ে হয়েছিল।ব্যাস আর কখনোই আম্মা কে আমার জম্ম তারিখ নিয়ে কোন প্রশ্ন করা হয় নাই।তারপর আমি নিজেই একদিন আমার জেঠাত বোনের বাসায় গিয়ে তার মেয়ের কাছ থেকে জম্ম তারিখ জেনে আসি।সেই ভাগ্নি এখন মাস্টাস্ শেষ করে এক সন্তানের জননী !! সেদিন ফেবুতে শুনলাম আরেকটা হয়েছে।মাসাল্লাহ
জম্ম তারিখ জানার পর আম্মা কে যখন বললাম,আম্মা আমার জম্ম তারিখ হ্ল ২৭ জুন।তবে আম্মা আমার জম্ম তারিখ টা মনে না রাখতে পারলেও মেজ ভাই এর মনে ছিল।কিন্তু মেজ ভাই কে জম্ম তারিখ নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করা হয় নাই।মেজ ভাই কে সব সময় ভয় পেয়েছি।আজ ও পাই।
আমরা ৫ ভাই।আমি সবার ছোট। ৪ ভাই এর পর মা-বাবার ইচ্ছা ছিল আমি মেয়ে হয়ে জম্মাবো।জম্মেছি ছেলে হয়ে।আমি যে বাবা_মা র অপ্রত্যাশিত তা ভাল ভাবেই বোঝতে পারি।তাদের এই অপ্রত্যাশিত আশায় আমাকে সুন্দর পৃথিবী দেখানোর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছি।
বেচেঁ থাক বাবা-মা অনেকদিন,অনেক বছর আমাদের মাঝে।
বিঃদ্রঃ- নিম্মবিত্ত জড়তা থেকে আব্বা-আম্মার সাথে কোনদিন ছবি তোলা হয় নাই।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




