somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আবু সুফিয়ান সোহাগ
মানুষ যা জানে এবং দেখে তাতে সে সন্তুষ্ট নয়

ইসলাম ও জীবন

০২ রা মে, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“To the Mohammedan rule we owe. The Mohammedan rule came to us with a great blessing & the destruction of exclusive privilege. The Mohammedan conquest of India came as a salvation to the downtrodden, to the poor. That is why one-fifth of our people have became Mohammedans. It was not the sword that did it all . It would be the height of madness to think it was all the work of sword and fire”
“ অর্থাৎ মুসলিম শাসনের নিকট আমরা ঋণী । মুসলিম শাসন এসেছিল এক মহান আশীর্বাদ রূপে । কোন কোন গোষ্ঠীর উপভোগকৃত সুযোগ সুবিধার ধ্বংসকারী রূপে । দরিদ্র এবং দলিতদের মুক্তিবারতা নিয়েই মুসলমানদের ভারত বিজয় সংঘটিত হয়েছিল । এ কারনেই ভারতের এক-পঞ্চমাংস জনসমষ্টি মুসলমান হয়ে গিয়েছিলেন । তরবারির ভূমিকা এখানে ছিল গৌণ । কেউ যদি বলেন, এ জন্য দায়ী তরবারি এবং আক্রমণ তাহলে তা হবে মস্ত পাগলামি।“
কথা গুলো আমার নয়, কথা গুলো বলেছেন বাংলার এক কৃতি সন্তান বিবেকানন্দ তাঁর রাজযোগের তৃতীয় অধ্যায়ে ।
ইসলাম যে শান্তির ধর্ম এবং শান্তির ললিত বানী নিয়েই যুগে যুগে মানুষকে দাওয়াত দিয়েছেন তা ইতিহাসে সুস্পষ্ট । ইসলাম এক সার্বজনীন ধর্ম এবং হযরত মুহাম্মাদ (সা) –কে পাঠানো হয়েছিল শুধুমাত্র মুসলমানদের জন্য নয় , সমগ্র মানব জাতির জন্য । ইসলামের মূলমন্ত্র হল সাম্য , সহিষ্ণুতা এবং সৌভ্রাতৃত্ব ।
আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) এর মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব হয়। আর তারই ধারাবাহিকতায় আজ যারা ইসলাম ধর্মের অনুসারী তারাই বিশ্ব দরবারে মুসলিম হিসাবে পরিচিত। আল্লাহ্ তায়ালা বলেছেন “ আমার কাছে একমাত্র গ্রহনযোগ্য দ্বীন হচ্ছে ইসলাম” অথচ এই সম্মানিত ধর্মের অনুসারী হয়েও আজ আমরা মুসলিমরা অসহায় , অবহেলিত । বিশ্ব দরবারে আমরা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছিনা । আমরা আজ মৌলবাদী , জঙ্গি ইত্যাদি বিশেষণে বিশেষায়িত । কিন্তু কেন ? কেন আমরা মাথা তুলে এই বিশ্ব দরবারে দাঁড়াতে পারছিনা ? ইসলামতো মানবতার মুক্তির সমাধান । তবে কেন আমরা পিছিয়ে আছি ? কোথায় আমাদের ব্যার্থতা যার কারনে আমরা আজ নিগৃহীত ? আমার মনে হয় উত্তরটা আমরা সবাই জানি কিন্তু আমরা সমাধান করতে পারছিনা । আজ আমরা দলে দলে বিভক্ত , বিচ্ছিন্ন । একেক দল একেক ভাবধারা নিয়ে আমরা আমাদের মতবাদ পেশ করছি । আল্লাহ্ , আল্লাহ্র কুরআন এবং মুহাম্মাদ (সা) যদি আল্লাহ্র মনোনীত শেষ রাসুল এক হন তাহলে আমরা কেন সেই কুরআন ও হাদিসের অনুসারী হয়ে আজ দলে দলে বিভক্ত ? আমাদের মধ্যে একতা নেই কেন ?
আজ আমরা আমাদেরকে লাইন থেকে বিচ্যুত করে ফেলেছি । আমরা আমাদের জায়গা অমুসলিম কাফেরদের হাতে ছেড়ে দিয়েছি । এক সময় মুসলমানরাতো অর্ধ পৃথিবী শাসন করেছিলো । তবে আজ এমন কি হল যে, আমরা আমাদের দায়িত্ব ধরে রাখতে পারলাম না ?
আমাদের আলেম সমাজ আজ দলে দলে বিভক্ত । রাজনিতিকিকরনের ফলে আজ ইসলামের ব্যাখ্যা বিভিন্ন রকম । যে যার মত করে তাদের মতবাদকে প্রথিস্ঠিত করার চেষ্টা করছেন। সবাই ভাবছেন তাঁর মতবাদই সঠিক, অন্যরা ভুল। আসলে যারা ইসলামের ধারক বাহক তারা যদি তাদের দায়িত্ব ঠিক মত পালন করতেন তাহলে আজ যারা ইসলামের নাম শুনলে পাঁচ হাত লাফিয়ে উঠেন অন্তত তাদের লাফানোটা বন্ধ হত। রাসুলের যুগে মসজিদ শুধু প্রার্থনার স্থান ছিল না, সেখানে রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থা সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হত। রাজনৈতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হত মসজিদ থেকে। মসজিদ হচ্ছে মুসলিম উম্মার মিলন স্থল। একজন রাজনৈতিক বক্তা যদি ১০ মিনিটে গণজাগরণ সৃষ্টি করতে পারে তাহলে বাংলাদেশের ৩ লক্ষ মসজিদে যদি প্রতি জুম্মা বার ৫ মিনিট করে সময় ধার্য করা হয় অর্থাৎ সারা বাংলাদেশে ১৫ লক্ষ মিনিট, মাসে ৬০ লক্ষ মিনিট আর বছরে ৭ কোটি ২০ লক্ষ মিনিট কোরআন ও সুন্নার আলকে সমাজের বিভিন্ন অনিয়ম , দুর্নীতি , যৌতুক , সুদ ,ঘুষ, বিচার ব্যাবস্থা,শিক্ষা , পারস্পরিক সম্পর্ক ,ধর্মীয় সহাবস্থান ইত্যাদি সম্বন্ধে তাহলে আমার মনে হয় আমাদের এ কলুষিত সমাজ অনেকাংশেই তাঁর নোংরা খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারবে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×