মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রথমে আমার সালাম ও শুভেচ্ছা নিবেন।আমি জানিনা আমার এই পত্র খানা আপনার কাছে পৌঁছাবে কিনা। মনে বড় আশা নিয়ে আপনার কাছে এই পত্র খানা লিখতে বসেছি। জানিনা যতটুকু আবেগ নিয়ে লিখা শুরু করেছি শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে পারবো কিনা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমি প্রথমেই স্মরণ করতে চাই আমাদের বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জনের পিছনে যার ত্যাগ অবিস্মরণীয় সেই মহান নেতা বঙ্গবন্ধু “শেখ মুজিবুর রহমান” কে । আরও স্মরণ করতে চাই স্বাধীনতা অর্জনের পিছনে যারা তাদের সাহস, শ্রম ও জীবন নিঃস্বার্থ ভাবে বিলিয়ে দিয়েছেন তাদের কথা। দোয়া করি আল্লাহ্ যেন তাঁদের বেহেস্ত বাসি করুন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি সেই মহান নেতার কন্যা। বঙ্গবন্ধু যদি জাতির পিতা হন তাহলে সেই সুবাদে আপনি জাতির বোন। ফলে আপনার উপর অনেক দায় দায়িত্ব বর্তায়। আমরা অত্যান্ত আনন্দিত যে, আপনি সেই দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এত বড় রাষ্ট্র যন্ত্র সামলানো কিংবা বহুমাত্রিক চিন্তা করা শুধু মাত্র আপনার একার পক্ষে সম্ভব নয়। আর সেই জন্যই রয়েছে আপনার মন্ত্রী পরিষদ।
আমি বাংলাদেশের একজন নাগরিক। সংবিধানে সকল নাগরিকের নিরাপত্তা প্রদান করার দায়িত্ব সরকারের। যেহেতু আপনি সেই সরকারের প্রধান মন্ত্রী সে হিসাবে জনগণের নিরাপত্তা প্রদান করার দায়িত্ব আপনার উপরই বর্তায়। সাম্প্রতিক সময় গুলোতে চারিদিকে আইন শৃঙ্খলা পরস্থিতি নিয়ে আমরা সাঃ নাগরিক গন একটু চিন্তিত। আর এই চিন্তার মাত্রা আরও বেড়ে যায় যখন আপনার মন্ত্রী পরিষদের কিছু গুরুত্ব পূর্ণ মন্ত্রীদের কাছ থেকে কোন দায়িত্বহীন বক্তব্য শুনি।আমি আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ রাখবো আপনি বিষয়টিকে একটু গুরত্ব দিয়ে দেখবেন।
যে আশা আকাঙ্খা নিয়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছিলো তা যদি আমরা সমুন্নত রাখতে না পারি তাহলে এ স্বাধীনতা অর্জনের কি মূল্য রইলো!আপনাকে জ্ঞান কিংবা পরামর্শ দেয়ার ধৃষ্টতা আমার নেই। আর এ জন্য প্রথমেই আপনার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। তবে দেশের অধিকাংশ সাঃ নাগরিক কি ভাবছে সেই বিষয়ে আপনার সরকারের আরও বিচক্ষনতা ও দক্ষতা আমরা আশা করি।
একজন লোক বলতে পারে তার কবে থেকে উন্নতি শুরু হয়েছে। কিন্তু সে বলতে পারেনা তার কবে থেকে অধঃপতন শুরু হয়। তাই বিনয়ের সাথে বলতে চাই আপনাদের বিগত দিনের শাসন আমলে যে যোগ্যতা ও দক্ষতার পরিচয় আপনারা দিয়েছিলেন সে পরিমান দক্ষতা ও যোগ্যতা বর্তমান সময়ে আপনাদের সরকারের আছে কিনা কিংবা না থাকলে কি করনীয় সেই বিষয়ে এখনি যদি তড়িৎ বেবস্থা না নেয়া হয় তাহলে অদূর ভবিষ্যতে অস্তিত্বের সংকটে যে দল পরবেনা তার সঠিক গ্যারান্টি কেউ দিতে পারবে বলে মনে হয় না।
গত ৫ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত সাঃ নির্বাচনের মাধ্যমে আপনারা এখন সরকারে আছেন। ১৫২ জন প্রার্থী বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদেরকে নৈতিক ভাবে জন প্রতিনিধি বলা যায় কিনা সেই বিষয়ে এখনো অনেকের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। আর যদি সত্যই তারা জন প্রতিনিধি না হন তাহলে তাঁদের কাছ থেকে আমরা জন কল্যাণকর কিছু আশা করতে পারি কিনা সেই বিষয়ে বরাবর প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
সর্বোপরি একটি প্রশ্ন বিদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের আপনি প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু আমরা সাঃ জনগণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাছ থেকে এহেন আচরন মেনে নিতে পারছিনা। কারন যে দলটির সাথে স্বাধীনতা আর সার্বভৌমত্বের মত শব্দ জড়িয়ে আছে সে দলটি আর যাই হোক অগনতান্ত্রিক হবে সেটা আমরা মনে করিনা। স্বাধীনতার ৪২ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু আজো আমাদের সমাজের একটা বড় অংশ দারিদ্র সীমার নিচে বাস করে। ধনী আরও ধনী হচ্ছে , গরীব আরও গরীব হচ্ছে। এই অর্থনৈতিক বৈষম্য যত দিন না দূর হবে জাতি হিসেবে ততদিন আমরাও আমাদের অবস্থার পরিবর্তন করতে পারবো না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে আপনার বুদ্ধিদীপ্ত ও সাহসী সিদ্ধান্ত যে কোন সংকট থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে।
আল্লাহ্ হাফেজ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



