somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লাইসেন্স ও ফার্মাসিস্ট ছাড়াই ওষুধ ব্যবসা

৩১ শে আগস্ট, ২০১৪ রাত ৩:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সূত্র:সকালের খবরের প্রথম পাতা Click This Link
লাইসেন্স ও ফার্মাসিস্ট ছাড়াই ওষুধ ব্যবসা
মীর তাওহীদ-উল-ইসলাম
দেশে ওষুধ বিক্রির দোকান (ফার্মেসি) রয়েছে প্রায় তিন লাখ। এর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই নিয়ন্ত্রক সংস্থা ওষুধ প্রশাসন মহাপরিদফতরের লাইসেন্স এবং প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট ছাড়া ব্যবসা চালাচ্ছে। অনুমোদিত বলে যারা দাবি করছে সেই দোকানদারদেরও এক-তৃতীয়াংশ ভুয়া লাইসেন্স নিয়েছে। জালিয়াতি করে এক রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে একাধিক ফার্মেসির অনুমোদন নিয়ে দীর্ঘ দিন ওষুধের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। চিকিত্সকের ব্যবস্থাপত্র বা প্রেসক্রিপশন ছাড়া যেসব ওষুধ বিক্রি নিষিদ্ধ সেগুলোও বিক্রয় হচ্ছে ফার্মেসিতে। কর্তৃপক্ষের দুর্বলতা ও সঠিক তদারকির অভাবে ওষুধের মতো স্পর্শকাতর পণ্যে এ নৈরাজ্য চলছে।
তদারকির দায়িত্বে থাকা ওষুধ প্রশাসনের পরিদর্শকরা দোকান তদারকির কাজে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ আছে। দেশের ৪৭টি জেলায় ওষুধ প্রশাসনের অফিস রয়েছে। লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসির সংখ্যা শহরের তুলনায় উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে অনেক বেশি বলে ওষুধ ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান।
জানতে চাইলে ওষুধ ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ কেমিস্ট ও ড্রাগিস্ট সমিতির উপ-সচিব মনির হোসেন বলেন, এখন রাস্তার প্রতিটি মোড়ে ওষুধের দোকান রয়েছে। যেখানে সেখানে চলছে ওষুধ বিক্রি। কোনো নিয়মনীতিই মানা হচ্ছে না ওষুধ বিক্রয়ের ক্ষেত্রে। সারাদেশে প্রায় তিন লাখের মধ্যে প্রায় দুই লাখ ফার্মেসির ওষুধ বিক্রয়ের অনুমোদন নেই। সাধারণত অনুমোদনহীন ফার্মেসিগুলো ভেজাল, মানহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ, নিষিদ্ধ ওষুধ ও নেশাজাতীয় দ্রব্য বিক্রি করছে। এদের অপরাধের দায়ভার এসে পড়ে যাদের লাইসেন্স আছে তাদের ওপরও।
ফার্মাসিস্টদের সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ফার্মেসি কাউন্সিল অব বাংলাদেশ (পিসিবি) সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ কেমিস্ট ও ড্রাগিস্ট সমিতি (বিসিডিএস) ও বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সমিতির (বিপিএস) সহায়তায় সারাদেশের ৫২টি কেন্দ্রে স্বল্পমেয়াদি (দুই মাসের) ক্লাস ও প্রশিক্ষণ শেষে পরীক্ষা নিয়ে পাসের পর সনদ দেওয়া হয়। গত ২৭ আগস্ট পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি কোর্সে সি ক্যাটাগরিতে ৬৮ হাজার ২০৬ জন ফার্মাসিস্টকে সনদপত্র দেওয়া হয়েছে। এ ফার্মাসিস্টরা মূলত ফার্মেসিতে চাকরি করেন, কেউবা নিজেই ওষুধের ব্যবসা করেন। এ ছাড়া ওই দিন পর্যন্ত বি ক্যাটাগরিতে ফার্মেসিতে ডিপ্লোমাধারীর সংখ্যা ৯ হাজার ৯৪৬ জন এবং এ ক্যাটাগরিতে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রিধারীর সংখ্যা ২ হাজার ৯৩৬ জন। বি এবং এ ক্যাটাগরির ডিগ্রিধারীরা মূলত সরকারি-বেসরকারি চাকরির জন্য ডিগ্রি নিয়ে থাকেন। আর সি ক্যাটাগরির ডিগ্রিধারীরা ওষুধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকেন। তবে চাইলে বি এবং এ ডিগ্রিধারীরা ওষুধ ব্যবসার লাইসেন্সের জন্যও ওষুধ প্রশাসনে আবেদন করতে পারেন।
অন্যদিকে ফার্মেসি পরিচালনার জন্য লাইসেন্স প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ওষুধ প্রশাসনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সারাদেশে গত ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ১ লাখ ১০ হাজার ৬৬৯টি ফার্মেসিকে ওষুধ বিক্রয়ের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। অর্থাত্ সি ক্যাটাগরিতে ফার্মাসিস্ট হিসেবে সনদপ্রাপ্তদের চেয়ে দোকানের লাইসেন্সের সংখ্যা অনেক বেশি। যে আবেদনকারীরা একই নম্বর একাধিকবার ব্যবহার করেছে অথবা ভুয়া নম্বর ব্যবহার করেছে তাদের বিষয়ে ওষুধ প্রশাসন যাচাই-বাছাই করেনি অথবা দুর্নীতি হয়েছে।
ওষুধ আইন অনুযায়ী, প্রতিটি ফার্মেসিকে ওষুধ বিক্রির লাইসেন্সের জন্য একটি নিজস্ব কিংবা ভাড়া করা দোকান থাকতে হয়। ট্রেড লাইসেন্স ও একজন রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্টের সনদের সত্যায়িত অনুলিপিসহ লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হয়। একজন রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্টের রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে একটিমাত্র ফার্মেসি পরিচালনা করা যায়। ফার্মাসিস্ট ছাড়া কোনো ওষুধ বিক্রি করা যাবে না।
জানতে চাইলে ফার্মেসি কাউন্সিল অব বাংলাদেশের সচিব কে সাহা বলেন, ওষুধ জীবন রক্ষাকারী সামগ্রী। কাজেই ওষুধ ব্যবসায় প্রশিক্ষিত লোকবল জরুরি। আইনত তা বাধ্যতামূলক। অনুমোদনহীন ফার্মেসিগুলো ভেজাল, নিম্নমানের ও বিদেশ থেকে আমদানি করা নিষিদ্ধ ওষুধ বিক্রি করলে তাদের খুঁজে বের করা এবং বিচারের আওতায় নিয়ে আসা খুব কঠিন। কারণ এসব দোকান যেকোনো সময় চাইলেই বন্ধ করা এবং খোলা যায়। যখন তখন নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করে ভিন্ন নামেও তারা ওষুধ বিক্রি করতে পারে। অনুমোদনহীন দোকান মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, অনেক সময় চিকিত্সকরা ওষুধের নাম লিখতে ভুল করে ফেলেন। লিখলেও অনেকে পড়তে পারেন না। কিন্তু প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট থাকলে তা ধরতে পারেন। রোগীদের ভুল ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারেন। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিতে পারেন।
রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্ট এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফার্মেসির সংখ্যার গরমিলের বিষয়ে জানতে চাইলে ওষুধ প্রশাসনের উপ-পরিচালক মো. রুহুল আমীন বলেন, যেসব ফার্মেসি ওষুধ ব্যবসার জন্য লাইসেন্স নিয়েছে তারা হয়তো মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। এরা একই রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে একাধিক লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে।
কিছু দিন পর এ সমস্যা থাকবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সব ফার্মেসির ডাটা বেইজ তৈরি করছি। এটা করা শেষ হলে এ সমস্যা অনেকটাই দূর হয়ে যাবে।’
তদারকির দায়িত্বে থাকা মাঠ কর্মকর্তাদের ঘুষ গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে রুহুল আমীন বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। এটা দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের নৈতিকতার বিষয়।’
ওষুধ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে সারাদেশে লাইসেন্সবিহীন দোকানে ওষুধ বিক্রির কারণে ৬৪৬টি মামলা করা হয়েছে। ৪ কোটি ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৩০ টাকা জরিমানা আদায় করাসহ ১৫৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ২০১৪ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ৩২৭টি দোকানে ৫৭ লাখ ৭ হাজার টাকা জরিমানা এবং ২৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক ফার্মেসির বিক্রয়কর্মীরা চিকিত্সকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই অনেক সাধারণ অসুখে অ্যান্টিবায়োটিক এবং উচ্চমাত্রার ওষুধ বিক্রয় করছেন-যা রোগীর জন্য ক্ষতিকর ও বেআইনি।
জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির সদস্য মো. সোহেল রানা বলেন, অনেক সময় চিকিত্সকের নির্দেশনা এবং ওষুধ সেবনের নিয়ম রোগীদের বুঝিয়ে দিতে হয়। তাই ফার্মেসিগুলোতে প্রশিক্ষিত বিক্রয়কর্মী থাকা জরুরি। আর তা না হলে ফার্মেসি মুদির দোকানে পরিণত হবে। ওষুধের সঙ্গে মানুষের জীবন-মরণের বিষয় জড়িত। তাই এর উত্পাদন, সংরক্ষণ ও বিপণনসহ সব ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম মেনে চলতে হবে। সেই সঙ্গে সবসময় পুরো বিষয়টি কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে। প্রয়োজনে ওষুধ প্রশাসনকে লোকবল বাড়াতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৪ ভোর ৪:৫৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এইচ এস সি রেজাল্ট ২০২৬ -ঢাকা বোর্ড

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৯

খুব অদ্ভুত ব্যাপার। আমাদের সময়ে চলে এলো নাকি? সেই চার দশক আগের মতন !
যা তথ্য পেলামঃ

In the 2026 HSC examinations, a total of 297,621 candidates appeared... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×