আধবেলার হাটাহাটিতে অবস্থা মোটামুটি কাহিল। বাস মাত্র টেকনিক্যাল পাস করেছে। গন্তব্য মিরপুর-১০। রাত হয়ে যাচ্ছে অনেক। রাস্তার ট্রাফিক অনেকটা কম হলেও ধুলাবালির অবস্থা দেখে মনে হয় সাহারা মরুভূমিতে ধুলিঝড়ের কবলে পরেছি। গায়ে টিশার্ট থাকলে ওটাকে মাস্ক বানিয়ে ধুলির কবল থেকে ভালোভাবেই রেহাই পাওয়া যায়। শার্ট দিয়ে তেমন সুবিধা করতে পারছি না। বাসের ভেতর হরেক শ্রেণীর মানুষ। রোমিও শ্রেনীর একজন বসেছে আমার পাশের সিটে। উচ্চসরে ফোনালাপ চালাচ্ছে। মাঝে মাঝে কন্ঠ নিচু হয়ে যাচ্ছে। বিরক্তিকর ব্যাপার। নিচু স্বরে সে কি বলছে বুঝতে পারছি না। হয়তো প্রেমিকার সাথে কথা বলছে। হয়তোবা নিচু স্বরে চুমাচাট্টির পর্ব চলছে। ব্যাপারটা নিশ্চিত হওয়ার কৌতুহল জাগলেও তাকে কিছুটা গোপনীয়তার সুযোগ করে দেয়া আমার দায়িত্ব। মনোযোগ অন্য দিকে নিলাম। সামনে ব্যাপক ঝামেলা। ভাড়া নিয়ে বাংলা কলেজের এক ছেলে হেল্পারকে খুনের হুমকি দিচ্ছে। ব্যাপারটাতে বেশ মজা লাগলো। মুখে মুখে খুন পর্যন্ত চলে গেলেও একটা চড় থাপ্পড়ও এখন পর্যন্ত চলে নাই। আমি বাসের পিছনের দিকে বসেছি। এতো সামনের ঘটনায় মনোযোগ দিতে কষ্ট হচ্ছে। শরীর অবশ হয়ে আসছে। শুয়ে পরতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু সে উপায় নাই। ঠিকভাবে বসাই যাচ্ছেনা শুয়ে যাওয়াতো স্বপ্ন। পাশের ভদ্রছেলে এখনো বকর বকর করছে। এই আলাপ যেন শেষ হবার নয়। জানালার গ্লাসে মাথাটা রাখলাম। বাইরের মানুষগুলোকে দেখে অনেক সুখী মনে হচ্ছে। হয়তোবা মানুষগুলো আমাকে দেখে আফসোস করছে। আমার যা অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে কোন একটা বিশুদ্ধ পানির চৌবাচ্চায় একটা ডুব দিলে চৌবাচ্চার পানি বুড়িগঙ্গার পানির সমপর্যায়ে চলে আসবে। নিজেকে অসহায় লাগছে। এই শহর আমাকে অসহায় করে ছাড়লো। ভাবলাম অসহায় হয়ে থাকা যাবেনা। হাশিখুশি থাকতে হবে। আমার একটা বান্ধবীর কথা মনে পরছে। সবসময় হাশিখুশি থাকতো এবং বান্ধবীর দাবি ছিলো সে সবসময় হাসিখুশি থাকে। এমনকি ভাদ্র মাসের কুত্তাপাগল গরমে, দুপুর রোদে, জ্যামের মধ্যে প্যাসেঞ্জার ভর্তি বাসে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেও সে সুখী। সে অবস্থার তুলনায় আমি কতই না ভালো আছি। মিরপুর-১ এসে সামনের কয়েকটা সিট খালি হলো। পাশের রোমিও কে একা ফেলে আমি সামনে এসে বসলাম। এখন পাশের সিটে সুন্দরি এক তরুণী। অন্য সিটের একজন আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তার তাকানোর ধরন স্বাভাবিক নয় মোটেও। সে কি ভাবছে আমি পরিষ্কার বুঝতে পারছি। কিন্তু আমি তাকে কিছুই বলতে পারছিনা। ইচ্ছে করছে কানে কানে গিয়ে বলে আসি, " বিশ্বাস করেন ভাই আমি মোটেও মেয়ে দেখে এই সিটে আসি নাই।" বুঝলাম তাকে পাত্তা না দেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। মেয়েটাকে দেখে মনে হচ্ছে আশেপাশের দুনিয়ায় সে নাই। সে আছে তার দুনিয়ায়। ফোনের ভিতরে। ফোনের ডিসপ্লেতে ম্যাসেঞ্জার খোলা। চোখে চশমা লাগিয়ে আমিও তার দুনিয়ায় ঢুকে পরলাম। কত ছেলেই না তাকে ভোলানোর চেষ্টা করছে। ম্যাসেজ দেখে মনে হচ্ছে সকলেই সাহিত্যিক। আমি ভাবতেসি এখানের একজনই কত কত জনকে ধুপধাপ প্রেমে ফেলছে। এই 'ধুপধাপ' শব্দ সত্যিই হচ্ছে। এগুলা সাধারন কোন শব্দ নয়। গায়েবী শব্দ। আছাড় খেয়ে প্রেমে পরার গায়েবী শব্দ। মেয়েটার কানে এই শব্দ যাচ্ছেনা। আমার কানে আসছে। এটাই সমস্যা। এইসব মিষ্টি কথা আর কবিতার ফাকে পরোক্ষ প্রেম নিবেদনগুলো মেয়েটার মাথার উপর দিয়ে চলে যাচ্ছে। এজন্যই মনে হয় ভালো সব ছেলেরা সিংগেল হয়েই থাকে। যারা পারে দিনে ১০ টা ডিরেক্ট প্রপোজাল দিতে তারাই পেয়ে যায় কাউকে না কাউকে। এইসব প্রেমের কোন শব্দ থাকে না। প্রেমে না পরেই তারা প্রেম করে। আবার কয়েকদিন পর শেষও হয়ে যায়। আবার হয়। আবার শেষ হয়। বাস হার্ট ফাউন্ডেশন পাস করে যাচ্ছে। একটু পরে নেমে যেতে হবে। বাসের ভিতরে জীবন্ত নাটক চলছে। এই নাটক ছেড়ে নামতে ইচ্ছে করছেনা। এই নাটক শুধু এই বাসেই নয়। চলছে আশেপাশের সব বাসে। এই শহরের প্রতিটা যায়গায়।
আলোচিত ব্লগ
Extra Long - Dual Coverage!
আজান দিলে আমাদের দেশের অনেক নারীর মাথায় কাপড় দেওয়ার একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। আজান শুরু হলো, ওড়না মাথায় উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে মাঝখানে চিন্তাভাবনার বিশেষ সুযোগ নেই।
সমস্যা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।
গত... ...বাকিটুকু পড়ুন
জল-জলন্ত

সময় তখন ১৯৫০ সাল।
অলকা থাকে আমেরিকার ফারগো নামক শহরে। খুবই ছোট শহর। শহরটি ছবির মতন সুন্দর। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত পড়ে। এলিন নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে অলকা দুই রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন
৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?
গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16

১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
দুটি হাসিখুশি গল্প: ফাজিল কানাডিয়ান ও মহা সিরিয়াস কানাডিয়ান

হুমায়ূন আহমেদের একটা গল্প ছিল তাদের মাকে নিয়ে। তাদের মেঝ ভাই জাফর ইকবাল তখন আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে থাকেন। তাদের মা ছেলের কাছে বেড়াতে গিয়েছেন। বিকেলে তিনি একা একা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।