somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবন্ত নাটক

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১০:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আধবেলার হাটাহাটিতে অবস্থা মোটামুটি কাহিল। বাস মাত্র টেকনিক্যাল পাস করেছে। গন্তব্য মিরপুর-১০। রাত হয়ে যাচ্ছে অনেক। রাস্তার ট্রাফিক অনেকটা কম হলেও ধুলাবালির অবস্থা দেখে মনে হয় সাহারা মরুভূমিতে ধুলিঝড়ের কবলে পরেছি। গায়ে টিশার্ট থাকলে ওটাকে মাস্ক বানিয়ে ধুলির কবল থেকে ভালোভাবেই রেহাই পাওয়া যায়। শার্ট দিয়ে তেমন সুবিধা করতে পারছি না। বাসের ভেতর হরেক শ্রেণীর মানুষ। রোমিও শ্রেনীর একজন বসেছে আমার পাশের সিটে। উচ্চসরে ফোনালাপ চালাচ্ছে। মাঝে মাঝে কন্ঠ নিচু হয়ে যাচ্ছে। বিরক্তিকর ব্যাপার। নিচু স্বরে সে কি বলছে বুঝতে পারছি না। হয়তো প্রেমিকার সাথে কথা বলছে। হয়তোবা নিচু স্বরে চুমাচাট্টির পর্ব চলছে। ব্যাপারটা নিশ্চিত হওয়ার কৌতুহল জাগলেও তাকে কিছুটা গোপনীয়তার সুযোগ করে দেয়া আমার দায়িত্ব। মনোযোগ অন্য দিকে নিলাম। সামনে ব্যাপক ঝামেলা। ভাড়া নিয়ে বাংলা কলেজের এক ছেলে হেল্পারকে খুনের হুমকি দিচ্ছে। ব্যাপারটাতে বেশ মজা লাগলো। মুখে মুখে খুন পর্যন্ত চলে গেলেও একটা চড় থাপ্পড়ও এখন পর্যন্ত চলে নাই। আমি বাসের পিছনের দিকে বসেছি। এতো সামনের ঘটনায় মনোযোগ দিতে কষ্ট হচ্ছে। শরীর অবশ হয়ে আসছে। শুয়ে পরতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু সে উপায় নাই। ঠিকভাবে বসাই যাচ্ছেনা শুয়ে যাওয়াতো স্বপ্ন। পাশের ভদ্রছেলে এখনো বকর বকর করছে। এই আলাপ যেন শেষ হবার নয়। জানালার গ্লাসে মাথাটা রাখলাম। বাইরের মানুষগুলোকে দেখে অনেক সুখী মনে হচ্ছে। হয়তোবা মানুষগুলো আমাকে দেখে আফসোস করছে। আমার যা অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে কোন একটা বিশুদ্ধ পানির চৌবাচ্চায় একটা ডুব দিলে চৌবাচ্চার পানি বুড়িগঙ্গার পানির সমপর্যায়ে চলে আসবে। নিজেকে অসহায় লাগছে। এই শহর আমাকে অসহায় করে ছাড়লো। ভাবলাম অসহায় হয়ে থাকা যাবেনা। হাশিখুশি থাকতে হবে। আমার একটা বান্ধবীর কথা মনে পরছে। সবসময় হাশিখুশি থাকতো এবং বান্ধবীর দাবি ছিলো সে সবসময় হাসিখুশি থাকে। এমনকি ভাদ্র মাসের কুত্তাপাগল গরমে, দুপুর রোদে, জ্যামের মধ্যে প্যাসেঞ্জার ভর্তি বাসে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেও সে সুখী। সে অবস্থার তুলনায় আমি কতই না ভালো আছি। মিরপুর-১ এসে সামনের কয়েকটা সিট খালি হলো। পাশের রোমিও কে একা ফেলে আমি সামনে এসে বসলাম। এখন পাশের সিটে সুন্দরি এক তরুণী। অন্য সিটের একজন আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তার তাকানোর ধরন স্বাভাবিক নয় মোটেও। সে কি ভাবছে আমি পরিষ্কার বুঝতে পারছি। কিন্তু আমি তাকে কিছুই বলতে পারছিনা। ইচ্ছে করছে কানে কানে গিয়ে বলে আসি, " বিশ্বাস করেন ভাই আমি মোটেও মেয়ে দেখে এই সিটে আসি নাই।" বুঝলাম তাকে পাত্তা না দেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। মেয়েটাকে দেখে মনে হচ্ছে আশেপাশের দুনিয়ায় সে নাই। সে আছে তার দুনিয়ায়। ফোনের ভিতরে। ফোনের ডিসপ্লেতে ম্যাসেঞ্জার খোলা। চোখে চশমা লাগিয়ে আমিও তার দুনিয়ায় ঢুকে পরলাম। কত ছেলেই না তাকে ভোলানোর চেষ্টা করছে। ম্যাসেজ দেখে মনে হচ্ছে সকলেই সাহিত্যিক। আমি ভাবতেসি এখানের একজনই কত কত জনকে ধুপধাপ প্রেমে ফেলছে। এই 'ধুপধাপ' শব্দ সত্যিই হচ্ছে। এগুলা সাধারন কোন শব্দ নয়। গায়েবী শব্দ। আছাড় খেয়ে প্রেমে পরার গায়েবী শব্দ। মেয়েটার কানে এই শব্দ যাচ্ছেনা। আমার কানে আসছে। এটাই সমস্যা। এইসব মিষ্টি কথা আর কবিতার ফাকে পরোক্ষ প্রেম নিবেদনগুলো মেয়েটার মাথার উপর দিয়ে চলে যাচ্ছে। এজন্যই মনে হয় ভালো সব ছেলেরা সিংগেল হয়েই থাকে। যারা পারে দিনে ১০ টা ডিরেক্ট প্রপোজাল দিতে তারাই পেয়ে যায় কাউকে না কাউকে। এইসব প্রেমের কোন শব্দ থাকে না। প্রেমে না পরেই তারা প্রেম করে। আবার কয়েকদিন পর শেষও হয়ে যায়। আবার হয়। আবার শেষ হয়। বাস হার্ট ফাউন্ডেশন পাস করে যাচ্ছে। একটু পরে নেমে যেতে হবে। বাসের ভিতরে জীবন্ত নাটক চলছে। এই নাটক ছেড়ে নামতে ইচ্ছে করছেনা। এই নাটক শুধু এই বাসেই নয়। চলছে আশেপাশের সব বাসে। এই শহরের প্রতিটা যায়গায়।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

‘সবচেয়ে কঠিন’

লিখেছেন আবু সিদ, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:১৫


আমি সাদ। আমার বয়স ১৭ বছর। আমি ক্লাস টেনের ছাত্র। আমার ক্লাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বয়স ১৫ বা তার আশপাশে। আমারও ১৫ বছর বয়সে ক্লাস টেনে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্চে রাজনৈতিক বিভাজন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৪



উদীচী পুড়ার সময় কি হারমোনিয়াম, তবলা, একতারা, দোতারা, সেতার কিংবা বাঁশি পুড়েনি?, মনে রাখবেন তখন আগুন শুধু কিছু বাদ্যযন্ত্র পোড়ায়নি, -পুড়েছিল এই বাংলার সংস্কৃতির, এই বাংলার শত কোটি মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মেটিকুলাসলি ডিজাইন' করে সিলেটকে অশান্ত করে তোলার অর্থ কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:১৫

সিলেটে এন,সি,পি সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল।
দলের ভিতরে কোন্দল মারাত্মক তা ফেসবুকে দলীয় নেতা কর্মীদের পোস্ট দেখে বুঝা যায়।
অথচ, সামনে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন।
এই পরিস্থিতিতে, দলের মানুষদের 'গরম' করে তোলার একটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৮

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।
================================
ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। যে জাতি তার মানুষের কান্না, আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের দাবি ভুলে যায়, সে জাতির ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
আজ এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবার সমস্যা, ব্লগ আমাকে কেন ভোগাচ্ছে?

লিখেছেন মেহবুবা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

আবার সমস্যা ব্লগ ঠিকমত দেখা যায় না। কিছুদিন আগে এমনটি হয়েছিল। ব্লগার সুলাইমান সহজ করে সমাধান বের করে দিয়েছিল। এবার একই সমস্যা হচ্ছে তবে সেই একই উপায়ে কাজ হচ্ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×