somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি নির্বাক সকালের গল্প

০৯ ই জুলাই, ২০১২ ভোর ৫:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পূর্বকথাঃ
যে গল্পটি এখন আপনারা পড়ছেন এটি রাজধানী শহরের একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের (ভুল বললাম ইন্সটিটিউট) আবাসিক ছাত্রাবাসের একটি সকালবেলার প্রতিচ্ছবি। আশা করি আপনারা এটি পড়ে আনন্দ পাবেন।

দৃশ্য ১
হলের একটি রুম। দরজাটি খুলে গেল। চারটি বেডে চারটি ছেলে ঘুমিয়ে আছে। তিনটে মশারি, একটি মশারি নাই। মশারিবিহীন বেডের ছেলেটি উঠে গেল। ঘুমকাতর চোখে আশেপাশে তাকিয়ে দেখে অন্য তিনজন ঘুমিয়ে আছে। তারপর দেখে মোবাইলের ঘড়ির দিকে। কি যেন ভেবে আবার শুয়ে পড়ে ছেলেটি।

দৃশ্য ২
আরেকটা রুম। হঠাৎ কর্কশ আলার্ম বেজে উঠল। কিন্তু অ্যালার্মের মালিকের কোনও খবর নাই। ইতোমধ্যে বাকি তিনজন উঠে গেছে। একজন দৌড়ে বাথরুমে গেল। আর একজন বিছানায় দুই হাত তুলে আড়মোড়া দিচ্ছে। আরেকজন মশারি নামিয়ে কার্নিশের দিকে একবার তাকাল কিছুক্ষন; তারপর ঘুমন্ত ব্যাক্তিটিকে উঠানোর চেষ্টা করছে। ২য় ব্যক্তি কসরত করার পর বাথরুমের দিকে গিয়ে দরজা চাপড়াতে থাকে। অনেক চাপড়ানোর পর ১ম ব্যক্তি exercise করতে করতে বাথরুম হতে বের হয়। ২য় ব্যক্তি ওতে ঢুকে পড়ে। ৩য় ব্যক্তি ঘুমন্ত ব্যক্তিকে ডাকতে ব্যর্থ বাথরুমের দিকে পা বাড়ায়.........

দৃশ্য ৩
চারটা বেডেই মশারি ঝুলছে। চারটা ফ্যানই বন্ধ। অথচ দেখুন কি গরমটাই না এখন পড়ছে। একজন আবার কম্বল গায়ে দিয়ে ঘুমন্ত। অপর পাশের বেডের মালিক পায়ের উপর পা তুলে আরামে ঘুমন্ত, পাশে তার ল্যাপটপ, সেটি আবার খোলা। আরেকজন মোবাইল এর হডফোন কানে দিয়ে ঘুম। পরের বেডটা খালি। হয়তোবা বেডের বাসিন্দা টয়লেটে অবস্থান করছেন। কর্কশ অ্যালার্ম বেজেই চলেছে ল্যাপটপ মালিকের; কিন্তু তার কোনও পরিবর্তন নাই। কম্বল জড়ানো ব্যক্তিটি উহা শুনতে পাচ্ছেন কিনা বলা জাচ্ছে না। আর ৩য় ব্যক্তিটি তো হেডফোন লাগানো, তিনি কিভাবে শুনবেন? অ্যালার্মটা অনেকক্ষণ ধরে নিজের অস্তিত্ব জাহির করে চলল। যখনি ওটা বন্ধ হল ঠিক তখনই ৪র্থ ব্যক্তি টয়লেট হতে বের হলেন।

দৃশ্য ৪
প্রথম রুমের (প্রথম দৃশের জাগ্রত ব্যক্তির) একজনের অ্যালার্ম বীজে উঠে। একজন উঠে লুঙ্গি ঠিক করতে করতে টয়লেটে এগোয়। আরেকজন উঠে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে পরিহিত থ্রীকোয়ার্টার এর উপর ফুলপ্যান্ট ঢুকিয়ে দিয়ে উপরে ফুলশার্ট পরে; তারপর হাতমুখ ধুয়ে চেয়ারে ঝুলতে থাকা ব্যাগটা কাঁধে তুলে নিয়ে ঝড়ের বেগে দরজা দিয়ে বের হয়ে যায়। ২য় ব্যক্তি টয়লেট হতে বের হয়ে দেখে ৩য় ব্যক্তি রুমে নাই। ৪র্থ ব্যক্তি ততোক্ষণে উঠে টয়লেটে ছলে গিয়েছে। সময় কাটতে থাকে। ১ম ব্যক্তি এতক্ষনে অ্যালার্মের ডাকে জেগে উঠে; দেখে ২য় ব্যক্তি উধাও। ৪র্থ ব্যক্তি টয়লেট হতে বের হয়ে বিছানায় বসে আছে। ঘুম এখন যায়নি তার। ১ম জন টয়লেটে যায়; বের হয়ে ফ্রেশ হয়ে প্যান্ট শার্ট পর বের হয়ে যায়। ৪র্থ ব্যক্তি নিজের ধ্যানেই বসে থাকে। সম্বিৎ ফিরে পায় না............

পুনশ্ছঃ শুনলে অবাক হবেন এই গল্পের ঘটনাটি ঘটেছে মাত্র ১০ মিনিটে; গল্পের চরিত্ররা মোটেই কাল্পনিক নন। বরঞ্চ একটু বেশিই বাস্তবিক। তাদের বিশ্ববিদ্যালয় গমনের অবস্থা মোটেই সুবিধাজনক নয় (ক্যাম্পাস কাছে বলে তারা এই অবহেলাটুকু করেন), বিনিময়ে কি হচ্ছে? তাদের percentage of attendance এর অবস্থা মোটেই ভাল নয়। আমি এই ঘটনার আলোকে নাটক বানাব বলে ঠিক করেছি, পাঠকদের মধ্যে যারা এর চরিত্র তারা আপনাদের মতামত দয়া করে আমাকে জানাবেন। সবে শুরু করলাম; আর অনেক এপিসোড লেখার ইচ্ছা আছে। লেখলে অবশ্যই প্রকাশ করব। একটা উক্তি দিয়ে এই গল্পটা শেষ করতে চাই “Early to bed and early to rise, makes a man healthy,wealthy and wise”.

----[Please do not use this writing without my permission]-------

© All rights reserved by
█║▌█║▌║▌║║█║▌║║│█│║▌║││█│║▌║│█│║
Md. Adib Ibne Yousuf [[email protected]]
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০১২ রাত ১২:১৬
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিল সিমন্স একটি নাম একটি ইতিহাস

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



"ফিল সিমন্স একটি নাম একটি ইতিহাস"

একটা সময় ছিল, যখন বাংলাদেশ ক্রিকেটে "কোচ" শব্দটা মানেই ছিল ঝড়!

রাসেল ডোমিঙ্গো, হাথুরুসিংহে-
Phil Simmons (2024–present)
Chandika Hathurusingha (2014–2017, 2023–2024)
Russell Domingo (2019–2022)
Steve Rhodes... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মদিনে তাহাদের জন্য শুভকামনা। আমার জন্মদিনের স্মৃতি...

লিখেছেন করুণাধারা, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



একেকটা জন্মদিন পার করা মানে জীবন বইয়ের একেকটা পৃষ্ঠা পড়ে ফেলা, কয়েক বছর পরপর সেই বইয়ের একেক অধ্যায় শেষ হয়! বইটা ট্রাজেডি না কমেডি, একেবারে শেষ পর্যন্ত না পৌঁছালে তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ - একদম চুপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



আমরা শুধু চুপ থাকবো -
আমাদের কথা বলার মুখ নেই
আমাদের দেখার মতো চোখ নেই
আমাদের শোনার মতো কান নেই
মনে হয়, মনে হয় -
আমাদের হাত-পাও নেই।

আমাদের বিবেক নেই
আমাদের চিন্তা-চেতনাও নেই
আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×