অনেক দিন পর লিখিতে বসিয়াছি। কি লিখিব কি লিখিব ভাবিতে ভাবিতে মনে অকস্মাৎ 'Plagiarist' শব্দটা খেলিয়া গেলো। কিন্তু কি লিখিব ইহা নিয়ে!! - এর তো বাংলাই জানি না। অভিধান ঘাঁটা শুরু করিলাম- আশানুরূপ কিছুই পাইলাম না। অতঃপর ফেসবুকে একজনের নিকট হইতে ইহার আদি-অন্ত জানিলাম। সেই জ্ঞানের কিছু অংশ আজ আপনাদের সহিত শেয়ার করিবার নিমিত্তেই এই বিষয়ে লেখা।
অতঃপর অনেক খোঁজার পর, Plagiarist এর ভালো বাংলা পাইলাম। কিন্তু উহা সংস্কৃত না তৎসম তাহা বুঝিবার সাধ্য আমার নাই- আমি বাংলার ছাত্র নই, একমাত্র বাংলা শিক্ষকই তাহা ভালো করিয়া বলিতে পারিবেন। এইবার কথা প্রসঙ্গে আসি।
উহার অর্থ- কুম্ভীলক। রাজশেখর বসুর বাংলা অভিধানে ‘কুম্ভীলক’ শব্দের অর্থ দেয়া আছে- ‘যে অপরের রচিত সাহিত্য হইতে ভাব ভাষা প্রভৃতি চুরি করিয়া নিজের বলিয়া চালায়’।
সে হিসাবে কালিদাস-কাশীরাম দাস থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত সর্বজনই কুম্ভীলক। উদাহরণ, কালিদাসের ‘শকুন্তলা’ কিংবা রবীন্দ্রনাথের ‘কচ ও দেবযানী’।
সব চরিত্রই ঘুরে ফিরে বারংবার আসিয়াছে বিভিন্নজনের লেখনীতে। সবটাই সেই আদিশ্লোক-ছন্দের অনুকরণে, নতুন ছন্দে নহে। একদা শুনিয়াছিলাম রবীন্দ্রনাথের একটি গান- ‘পুরনো সেই দিনের কথা’ এটিও কোন একটি বিলাতি গানের অনুকরনে সৃষ্টি। তবে, রাজশেখর বসু এঁদেরকে Plagiarist মানতে রাজী হন নি । তিনি বলেছেন, এঁরা Plagiarist এর ঠিক উল্টোটা । যাঁরা অপরের তৈরী চরিত্র নিয়ে লিখেই খুশি । কবিযশঃপ্রাপ্তি এঁদের কারোরই লক্ষ্য ছিল না।
যাক গে, সেসব কথা- উনারা গণ্যমান্য ব্যক্তি। উনাদের বিচার করা আমার সাধ্যে নাই। আমি একজন সাধারণ পাঠক মাত্র।
কুম্ভীলক হতে চাই না। লিখাটুকু নিজের মত করিয়া লিখিবার চেষ্টা করিয়াছি। একজনের কাছ থেকে ধার লইয়া নিজের বলে চালিইয়া দিবার পাত্র আমি নই। যাহার নিকট হইতে এই জ্ঞান লাভ করিলাম উনার প্রতি জানাইলাম কৃতজ্ঞতা। আসেন আমরা সবাই মৌলিক চর্চা করি, কুম্ভীলক হওয়া থেকে বিরত থাকিবার চেষ্টা করি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




