somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পৃথিবীর কিছু অদ্ভূত সব ব্যাঙ এর ছবি ব্লগ .......

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


কুনো ব্যাঙ, সোনা ব্যাঙ, গেছো ব্যাঙ, সুন্দরী ব্যাঙ এমন অনেক ধরণের ব্যাঙের নামের সঙ্গেই আমরা পরিচিত। কিন্তু টমেটো ব্যাঙ, কচ্ছপ ব্যাঙ এসব নাম সচারচর আমরা শুনি না। এমন কিছু অদ্ভুত ব্যাঙের সঙ্গে চলুন এবার পরিচিত হই : -

টমেটো ব্যাঙ : -


শুধু নাম শুনলে কেন, দেখলেই এর নামের যথার্থতা বোঝা যায়। ‘টমেটো ব্যাঙ’ বা ইংরেজিতে Tomato frog। টমেটো কেচাপের মতোই লাল রঙ। হয়তো এই রঙই বুঝিয়ে দেয় এটা শিকারীদের জন্য নিরাপদ নয়। মাদাগাস্কারের এ বাসিন্দা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার জন্য শিকারীর চোখে আঠালো পদার্থ ছিটিয়ে দেয়।

গ্লাস ফ্রগ : -

নাম শুনলেই বোঝা যায় এটি দেখতে কেমন হবে। মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার আর্দ্র বনাঞ্চলের এ বাসিন্দার শরীর এতটাই স্বচ্ছ যে এর ভেতরের সব কিছু দেখা যায়। এর জন্যই এর নাম ‘গ্লাস ফ্রগ’। গাছে চড়ে বেড়ানো নিশাচর এ প্রাণিটির কিছু জাত ভাই এতটাই স্বচ্ছ যে এর নড়তে থাকা হৃদপিণ্ড পর্যন্ত দেখা যায়। এ ব্যাঙের এ স্বচ্ছতাই জঙ্গলের সঙ্গে এদের মিশিয়ে রাখে।

শিংওয়ালা অরনেট ব্যাঙ : -

শিংওয়ালা অরনেট ব্যাঙ। এর বিশাল মুখ আর অপরিসীম ক্ষুধার জন্য এর আরেকটি নাম-Pac-Man frog (ভিডিও গেম Pac-Man অনুসারে)।

এই ব্যাঙ ছদ্মবেশ ধরে ঘাপটি মেরে মাটিতে বা গাছের মরা অংশের ওপরে শুয়ে শিকার ধরে। শিং ওয়ালা এই ব্যাঙ পাখি, কীট-পতঙ্গ ইঁদুর এমনকি অন্য ব্যাঙ গিলে খায়। উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলে সহজেই এদের দেখা পাওয়া যায়।

কচ্ছপ ব্যাঙ : -

কচ্ছপ ব্যাঙ। নাম শুনলেই বোঝা যায়, ব্যাঙ নামের যে প্রাণীটিকে সচারচর আমরা দেখি তার সঙ্গে এর অমিল রয়েছে। কচ্ছপের মতো এরও পিঠের খোল রয়েছে। এই ব্যাঙের ছোট, গুটির মতো চোখ এবং চর্বিযুক্ত পা রয়েছে। কচ্ছপ ব্যাঙ বেলে মাটিতে গর্ত করে থাকে। উই পোকার গর্তের আশেপাশে এরা থাকতে পছন্দ করে। কারণ তাহলে খাওয়ার আর চিন্তা থাকে না।
যারা এই কচ্ছপ ব্যাঙ স্বচক্ষে দেখতে চান তাদের কে একটু কষ্ট করে দক্ষিণ-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার গহীনের উপকূলীয় সমতলভূমি এবং বনে যেতে হবে। কারণ এরা শুধু এ অঞ্চলেই বসবাস করে।

লম্বা নাকের ব্যাঙ : -


ইতালিয়ান লেখক কার্লো কলোডির বিখ্যাত চরিত্র পিনোকিও’র কথা আমরা অনেকেই জানি। ওই যে, সেই ছেলেটি যে মিথ্যা বললেই নাক বড় হয়ে যেতো। আমাদের এবারের ব্যাঙটির নাম Pinocchio-nose frog।

খুব সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার ফোজা পর্বতমালায় বণ্যপ্রাণী খোঁজার সময় এই ব্যাঙটি পাওয়া যায়। লম্বা নাকের এ ব্যাঙটির বৈজ্ঞানিক নাম এখনো দেওয়া হয়নি। অস্ট্রেলিয়ান ব্যাঙ গবেষক পল অলিভার এ ব্যাঙটিকে প্রথম খুঁজে পান। এরপর আরো খোঁজাখুঁজির পরও অলিভার দ্বিতীয় আরেকটিকে খুঁজে পাননি। পরে দেখা যায়, এটি মূলত গাছের ওপরে বাস করে। সুতরাং যারা এ প্রাণিটিকে দেখতে চান তাদের একটু কষ্ট করে শেষমেষ গাছেই চড়তে হবে।

পেছন পকেট ব্যাঙ : -

‘হিপ পকেট ফ্রগ’ নাম যেমন অদ্ভুত এদের জীবন যাত্রাও তেমনি। ক্যাঙ্গারুর মতো এরাও উপজঠরী (মারসুপিয়াল)। তবে পুরুষ ব্যাঙ এদের শরীরের ছোট থলিতেই বাচ্চাদের বহন করে। মা ব্যাঙ ডিম দেওয়ার সময় পুরুষটি পাহারা দেয়। স্যাঁতসেঁতে বালিতে ডিম পাড়ার পর ব্যাঙাচি আপনমনে বাবার পেছনের থলিতেই মোচড়ানোর ভঙ্গিতে চলতে চলতে ঢুকে যায়। এখানেই এরা বড় হতে থাকে। স্থলজ এ প্রাণিটি মরা পাতার মধ্যে বাস করে। পাঠক দেখতে চান এদের। একুট কষ্ট করে চলে যান অস্ট্রেলিয়ায়।

পেটে বড় হওয়া ব্যাঙ : -


এদের ইংরেজি নাম Southern gastric-brooding frog। ব্যাঙের এ প্রজাতির বাচ্চা জন্ম দেওয়ার পদ্ধতি সত্যিই অবাক করার মতো। মা ব্যাঙ ডিম দেওয়ার পর সেগুলো খেয়ে ফেলে। এরপর তার হজম প্রক্রিয়া ধীর গতির হতে থাকে। এক পর্যায়ে খাওয়া বন্ধ করে দেয় মা ব্যাঙ। ডিম ফুটে পাকস্থলীতেই ব্যাঙাচি বড় হতে থাকে। ছয় থেকে আট সপ্তাহ পর মা তার মুখ খোলে। তখন খাদ্যনালী বিস্ফোরিত হয়ে ব্যাঙাচিরা বেরিয়ে আসতে থাকে।

১৯৭২ সালে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের রেইন ফরেস্টের পুকুর আর পাথুরে নালায় আবিষ্কৃত এ ব্যাঙটি বর্তমানে বিলুপ্ত প্রায়। ১৯৮১ সালে এটিকে সর্বশেষ দেখতে পওয়া যায়। খাঁচায় থাকা অবস্থায় ১৯৮৩ সালে এ প্রজাতির সর্বশেষ বংশধরটি মারা যায়।

সুরিনাম টড : -


সুরিনাম টড বা পিপা ব্যাঙ পৃথিবীর সবচেয়ে চ্যাপ্টা উভচর প্রাণী। দেখলে মনে হবে যেন এর গায়ের ওপর দিয়ে ৯ টনের ট্রাক চলে গেছে। অদ্ভুত আকারের কারণেই এরা পাতা বা গাছের ভাঙা অংশের নীচে লুকিয়ে থাকতে পারে। দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন বেসিনে এদের বসবাস।

এদের বাচ্চা জন্ম দেওয়া পদ্ধতিও বেশ চমৎকার। মা ব্যাঙ ডিম পাড়ার পর পুরুষটি সেগুলো মায়ের পিঠে লাগিয়ে দেয়। মায়ের ত্বকের সঙ্গেই ডিমগুলো লেগে থাকে। তখন এখানে একটি পকেটের মত তৈরি হয়। ২০ সপ্তাহের মধ্যে ব্যাঙাচি বড় হয়।

*** ছবি ও তথ্যসূত্র ইন্টারনেট থেকে সংগৃহিত ***
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৪:৩৩
২০টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইরান যুদ্ধ: স্বাধীনতা নাম দিয়ে শুরু, এখন লক্ষ্য ইরানকে প্রস্তরযুগে নিয়ে যাওয়া

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:২৩


আমার আট বছরের ছেলে ফোনে ফেসবুক পাতার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা, এটা কিসের ছবি"? আমি তার মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর বৃথা চেষ্টা করে অবশেষে বললাম, এটা আমেরিকা- ইসরায়েলের ইরানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৫০



গতকাল হঠাত খুব গরম পড়লো।
ঢাকার মানুষ ঘেমে অস্থির। আমি নিজে অনুভব করলাম, চামড়া যেন পুড়ে যাচ্ছে। সকাল গেলো, দুপুর গিয়ে সন্ধ্যা এলো কিন্তু গরম কমে না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি কেন “গুম সংক্রান্ত অধ্যাদেশ” বাতিল করতে চায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৮


"গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের বিরোধিতা করলাম। এই অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত আমাদের এমন ধারণা দেয় যে বিএনপি গুমের মতো নিকৃষ্ট অপরাধের বিলোপ করতে উৎসাহী নয়। তারা কেন এটা বাতিল করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিখোঁজ সংবাদ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫২



কাজকর্ম, রোজা, ঈদ, ছুটি, গ্রামের বাড়ি - সকল কিছুর পরেও আমি মাঝে মাঝেই ব্লগ পড়ি, পড়ার মতো যা লেখা ব্লগে প্রকাশিত হচ্ছে কম বেশি পড়ি। এখন তেমন হয়তো আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

রোগাক্রান্ত সাস্থ্য ব্যাবস্থাপনা

লিখেছেন মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ্‌, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:১৪

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ কম—এটা সত্য, কিন্তু শুধু বাজেট বাড়ালেই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হবে না। বরং ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা—এই তিনটি জায়গায় শক্তিশালী সংস্কার সবচেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে। নিচে বাস্তবভিত্তিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×