গনজাগরণ মঞ্চ বাংলাদেশ উদীচির মত একটা সাংস্কৃতিক সংগঠনে পরিনত হোক তা নতুন প্রজন্মরা কখানোই চায়নি। নতুন প্রজন্ম চেয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ধারন করে নতুন এক বাংলাদেশ গড়তে। সে কারনেই শাহবাগ হয়ে উঠেছিল নতুন বাংলাদেশ গড়ার এক স্বপ্নের ঠিকানা। হঠাৎ আগ্নেয়গিরির অগ্নুপাতের মতই বাংলাদেশ কেঁপে উঠেছিল। সেই সাথে কেঁপে উঠেছিল বাংলার অগনিত তুরুনদের বুকে লালিত ৪২ বছর ধরে পুষে রাখা সব ক্রোধ, জ্বালা,বেদনা আর প্রতিশোধের আগুন। আমার মতন অনেক বোকাসোকারাই তখন ভেবেছিল যে এই বুঝি বাংলাদেশ এবার ঘুড়ে দাড়িয়েছে। ভাবতাম আরব বসন্তের ঢেউ বুঝি এই ব-দ্বীপেও এল!! জানি, আমার মত অনেক তরুনরাই তাদের স্বপ্নের সীমানাটাকে অনেকদূর পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন। ধ্বংসস্তুপে আটকা পরে থাকা এই দেশটাকে টেনে হিচড়ে তুলে আনার জন্য সবাই এগিয়ে এসেছিলেন। তারপর? তারপর থাকে শুধু অন্ধকার!! সেদিন হঠাত করেই মনে হল যাই শাহবাগটাকে আবার দেখে আসি। সেখানে সাদা দাগ দিয়ে গোল একটা চক্কর বানিয়ে শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চ এর অস্তিত্ব রক্ষা করা হয়েছে। সেখানে একদল মিন মিন করে গান গাইছেন। কেউ দেখলাম পদাতিক থেকে কবিতা আবৃত্তি করছেন। আমি কি আর করি??? দশটাকার বাদাম কিনে দূর থেকে বসে বসে সেই দৃশ্য দেখার চেষ্টা করলাম। তারপর হঠাৎ কি হল জানিনা। দেখি আমার সামনে বিশাল এক জনসমুদ্র। যেদিকে চোখ যায় শুধু তারুন্যের হুংকার!!। সবার বুকে গেথে আছে লাল সবুজের ঠিকানা!! কে যেন মাইক থেকে ঘোষনা দিল.....নতুন বাংলাদেশ গড়ার দীপ্ত শপথ!! রাজাকার মুক্ত নতুন এক বাংলাদেশের খোজে এই তরুনদের নিয়ে নতুন একটি দল!! নাহ! আমি কি তাহলে স্বপ্নচারী হয়ে গেলাম!! এদিকে ঠোঙায় চিনাবাদাম পুরোটাই শেষ!! আমার ঠিক সামনেই দেখি খালি গায়ে এক কিশোর রাস্তার কাগজ কুড়াচ্ছে। এদিকে শাহবাগের রাস্তায় সন্ধ্যার বাতি জ্বলতে শুরু করেছে। কি আর করা!!আমিও প্যাকেটের শেষ সিগারেটেটা ঠোটে গুজে দিয়ে শুখ টান দিলাম। এবার বাড়ি ফিরতে হবে যে.......
গণজাগরণ মঞ্চকে নিয়ে আমরা যারা স্বপ্নচারী হয়েছিলাম.....
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
আজকের ডায়েরী- ১৯৮

আজ বৃহঃস্পতিবার, ২রা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ইংরেজি ১৭ই সেপ্টেম্বর। গত কয়েকদিন বেশ কয়েকজন ব্লগার সামুর ভালো মন্দ নিয়ে লিখেছেন। তাদের মুল বক্তব্য হলো- সামু গেলো। সামু শেষ। তারা সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন
যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন
শরাব পিনে দে.....

মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত... ...বাকিটুকু পড়ুন
বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!
প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”
বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন
ছবি ব্লগ -৩ কফি শপ
আলোর-ছায়ার দোলাচলে এক কাপ কফি পান করার সুযোগ কি পাওয়া যেতে পারে?

ছবি ব্লগ - ২ টরন্টোর আকাশ
ছবি ব্লগ - ১ মেঘলা আকাশ
...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।