somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ভোট ভাবনা!

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে তাহলে আগামি নির্বাচনে আমি প্রথমবারের মত আমার ভোট দিব। ঠিকঠাক এজন্য বললাম যদি সুস্থভাবে বেঁচে থাকি। এটা তো আর আমার হাতে নাই। সবকিছুই উপরওয়ালার হাতে। ভিতরে ভিতরে আমি তো ভীষণ খুশি। বাপরে বাপ অনেক বড় হয়ে গেছি। এখন আমারও ভোট দেওয়ার অধিকার আছে। আমার সব খুশি, আনন্দ, উচ্ছ্বাস, উৎসাহ, উদ্দীপনা নিমিষেই চুপসে গেছে যখন এই প্রশ্নটার সম্মুখীন হলাম “ভোট মানে কি?” ডিকশনারী ঘেঁটে দেখলাম ইংরেজি “vote” মানে “formal expression of choice or opinion by a ballot” সহজ বাংলা ভাষায় “মতামত প্রকাশ”, এর বিপরীত প্রতিশব্দ হল “veto”। মানে “the right or power of rejecting” অর্থাৎ “অগ্রাহ্য বা নামঞ্জুর করার অধিকার বা ক্ষমতা”।
আমি এক অ-রাজনৈতিক (non-political) পরিবারের সংযুক্ত আরব আমিরাতে জন্মগ্রহনকারি এক অ-রাজনৈতিক ছাত্র। আমি বি.এন.পি/আওয়ামীলীগ বুঝিনা। বাবা তাঁর পুরু জীবনটাই কিটিয়েছেন বিদেশে। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশে আসার পর থেকে ২ টা সংসদ নির্বাচন দেখলাম, ২০০১ এবং ২০০৮ সালে। আমার মা কাউকে ভোট দেননি। উনার কথা হল “আমি আমার খাব, আমার পরব ওদেরকে ভোট দেব কেন? ওরা তো আমাকে খাওয়াবে না, পরাবেনা”, বললাম - না ভোট দাও, উত্তর “দরকার কি?” না ভোটের দরকার কি সেটা তো জানিনা।

যাই হোক, বাবা মা যাই করুক আমি আমার ভোট দেব। আমার যত সমস্যা ভোটের অর্থ মত প্রকাশ নিয়ে। অশিক্ষিত লোকদের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে একটা দেশের নীতিনির্ধারণ করা, একটা সভায় বয়োজ্যেষ্ঠ লোকদের রেখে একটা বাচ্ছা ছেলের মতকে প্রাধান্য দেওয়ার মতই অযৌক্তিক (আমার মতে)।
আমার এলাকা কিংবা দেশের জন্য কে নির্বাচিত হলে ভাল হবে সেটা কি আমি ভাল বুঝি নাকি আমার ঘরের কাজের বুয়া ভাল বুঝে নাকি আমি প্রতিদিন ক্লাসে যাই যে রিক্সা চড়ে সেই রিক্সার ড্রাইভার ভাল বুঝে নাকি আমার ডিপার্টমেনটের হেড ডক্টরেট ডিগ্রিধারী জহির স্যার ভাল বুঝেন? জাতির বিবেকের কাছে প্রশ্ন।

ধরে নিলাম সিলেট-১ আসনের সংসদ নির্বাচনে জামাল সাহেব আর কামাল সাহেব প্রার্থী। আরও ধরে নিলাম সিলেটে মাত্র একটা পরিবার আছে। ঐ পরিবারে স্বামী-স্ত্রী দুজনই পি.এইচ.ডি হোলডার, আর তাদের ঘরে আছে একজন কাজের বুয়া, একজন গাড়ির ড্রাইভার এবং একজন দারোওয়ান। এই ৫ জনই সিলেটের ভোটার। নির্বাচনে দেখা গেল জামাল সাহেব পি.এইচ.ডি হোলডার দুই স্বামী-স্ত্রী এবং নিজের ভোট সহ মোট ৩ টি ভোট আর কামাল সাহেব কাজের বুয়া, ড্রাইভার, দারোওয়ান এবং নিজের ভোট সহ মোট ৪ টি ভোট পেয়েছেন।

তাহলে দেখা গেল নির্বাচনে শিক্ষা কিংবা শিক্ষিত লোকের কোন মর্যাদা নেই। প্রত্যেক রাজনৈতিক নেত্রীবৃন্দ শিক্ষা নিয়ে কাজ করার কথা তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে উল্লেখ করেন। কিন্তু এমন একটা পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন যে পদ্ধতিতে শিক্ষার কোন গুরুত্ব নেই।

আমি হলাম সমাধানের সাগর (solution bank)। আমার মতে, ই.ভি.এম (ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন) এর সুষ্ঠু প্রয়োগই (মনে রাখবেন, সুষ্ঠু প্রয়োগ) এই সমস্যার আসল সমাধান। প্রত্যেক কেন্দ্রে শিক্ষিত ও অর্ধ বা অল্প শিক্ষিতদের জন্য আলাদা ই.ভি.এম এর ব্যবস্থা করা এবং ভোট শেষে শিক্ষিতদের ই.ভি.এম এর ভোট দুইবার গননা করা। এতে করে নির্বাচনী প্রার্থীদের কাছে শিক্ষিত লোকদের কদর বাড়বে। সেই সাথে শিক্ষার গুরুত্ব বাড়বে, দেশে শিক্ষার হারও বাড়বে।

বাংলাদেশে আমার চেয়ে শিক্ষিত লোকের অভাব নেই। এই বিষয়টা নিয়ে দীর্ঘ ৪০ বছরেও যদি তাদের টনক না নড়ে তাহলে কি ধরে নেব আমিই ভুল। শিক্ষাকে গুরুত্ব দেয়নি এমন একটা পদ্ধতিকে ভুল বলে যদি আমি ভুল করে থাকি তাহলে আমার ভুলই ভাল।

ভুল থেকে মনে পড়ে গেলো তসলিমা নাসরিনের কবিতা “ভুল মানুষ”

ভুল-মানুষের সঙ্গে জানাশোনা হোক,
হৃদয়ের কথা হোক,
ভালবাসা দেওয়া নেওয়া হোক।

যতটা জীবন বাকি, এভাবেই পার হোক,
জিবনের বিনিময় হোক
ভুলের সঙ্গে হোক,
প্রতিদিন হোক।

ভুল-মানুষকেই খুঁজি, নিতান্তই যদি খুঁজি।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সকাল ৮:৪৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

I Have a plan / মুচলেকা দিয়ে যাওয়া এবং মুচলেকা দিয়ে ফেরত আসা সরকারের রাষ্ট্র ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৫:৪৬





ওয়াশিংটন – যদিও তিনি এমন একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছেন যার বৈধতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে, এবং শক্তিশালী মহলের প্ররোচনায় যাদের হস্তক্ষেপ কখনোই সন্দেহের বাইরে ছিল না, তারেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×