somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরিহাস

১৪ ই জুলাই, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘড়ির ছোট কাটাটা দশে অংকে আর বড় কাটাটা সাতে অবস্থান করছে।রাত খুব বেশি না। অন্যান্য দিন এই সময়েই কবির সাহেব ঘুমের অতল ডোবায় কাদা মাখামাখি হয়ে থাকেন।তবে আজকে একটু ব্যতিক্রম। মেঝ মেয়ে কুমুকে ছেলেপক্ষ দেখতে এসেছিলো আজ বিকালে।এই নিয়ে তিন পক্ষ মেয়েটাকে দেখে গেলো।আগের দুই পক্ষ গায়ের রংয়ের অজুহাত দেখিয়ে সটকে পরেছে।এবার যাতে ঐ ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্য সকালেই ছেলে ছোটটাকে ১ হাজার টাকা দিয়ে কুমুকে নিয়ে পার্লারে পাঠিয়েছেন।মানুষ মনের রং থেকে গায়ের রং -এ বেশি নজর দেয়।কঠিন দুনিয়ার আজব মানুষের অদ্ভুত মানসিকতা। টানাটানির সংসারে যথেস্ট হিসাব করেই পার্লারের বিল পাস করেছেন।আগে নিয়ম করে তিনবেলা সিগারেট ফুকঁতেন।এখন সেটা দুই বেলায় এসে দাড়িঁয়েছে।বেলার শেষ সিগারেট সবে ধরিয়েছেন। তিন মেয়ে এক ছেলে নিয়ে অসাধারন অভাবী সংসার।তার উপর বোনের একটা ছেলে গোদের উপর বিষ ফোঁড়ার মতো ঝুলে আছে।
-বাবা তোমার কি শরীর খারাপ?? একা বারান্দায় কি করছো?" ছোট মেয়ে ঝুমুর কথায় কবির সাহেবের ঝিমুনি কেটে গেলো।
-না রে মা,শরীর ভালোই আছে।"মাথা একটু কেমন যেনো করছে" অত্যন্ত সুক্ষ্ম ভাবে মিথ্যা বলার চেস্টা করলেন ছোটখাটো মুদি দোকানী কবির হাসান।
-মাথা টিপে দেবো? গলায় ব্যাকুলতা ছিলো ঝুমুর।
-থাক না।তুই বরং তোর মাকে গিয়ে সাহায্য কর।একা মানুষ, কয় দিক দেখবে?!!?
-আচ্ছা বাবা।কিন্তু তোমার মাথা ধরেনি মনটা খুব খারাপ।"বলেই গটগট করে চলে গেলো।
এই মেয়ের কাছ থেকে কিছুই লুকাতে পারেন না কবির।হয়তো মেয়েটা বড্ড ভালোবাসে তার বাবাকে।
কবির খুবই কল্পনা বিলাসী মানুষ।বাস্তবতা থেকে দূরে কল্পনাবিলাসীরা খুবই দুঃখী হোন ব্যাক্তি জীবনে।কবির সাহেব তাদেরই একজন।
-বাবা একটা কথা বলি?" কুমুর কথায় দ্বিতীয় বারের মতো ঝিমুনী চ্যুত হলেন
- বল মা"
-তুমি কি আমার উপর রাগ করে আছো?
-আজব কথাতো!!তুই এমন কি করলি যে রাগ করবো??!!
-এই যে তিনবার তোমার এতগুলা টাকা নস্ট করলাম।
-"তিন বার নয় দুবার।" ভুলটা শোধরাতে পেরে গর্ববোধ হলো কবিরের।
-বাবা!!
-কি বল মা??
-"আজ বিকেলে যারা এসেছিলো, ওরা ফোন দিয়েছিলো" বলেই ডুকরে কেঁদে দৌড়ে পালিয়ে গেলো কুমু।
সবকিছু বিশুদ্ধ জলের মতো পরিস্কার।তৃতীয় বারের মতো মেয়েটি লজ্জিত হলো।এর থেকে বোধহয় নিম পাতার স্বাদটা ভদ্র।তেতো অনুভূতি নিজের ভেতরেই থাকে... আশপাশের কেউ টের পায় না।কিন্তু এই লজ্জার তেতোটা নিজের মধ্যেই সীমায়িত থাকে না,ছড়িয়ে যায় পরিবারে, রটিয়ে যায় প্রতিটি চেনা মুখে।বিধাতার কাছে এমন কি অন্যায় করেছে মেয়েটা,যার প্রতিদান প্রতি পদক্ষেপে দিতে হচ্ছে!!।সত্যি সত্যি মাথাটা কেমন যেনো করছে কবির সাহেবের।গুম ধরে বসে থাকলেন বারান্দায়....যেনো মিশে যেতে চাইছেন রাতের নিরবতায়।তিন মেয়েকে কখনও বোঝা হিসেবে দেখেন নি তিনি।জানতেন একটা ফুলের বাগানের মালি তিনি.... যে বাগানে তিনটি মাত্র ফুল আছে।
-বাবা!!একবার আসবে??" কান্না জড়িত গলায় ছেলের তাগাদা শুনলেন কবির।
-কেনো? কি হলো?? বেশ বিরক্তি ঝরলো কবির সাহেবের গলায়।
-কুমুদী..........ছেলে কথা শেষ করতে পারলো না।তার আগেই কান্নায় ভেংগে পরলো।
যা বোঝার বুঝে নিয়েছেন কবির হাসান।কিছু না বলে খুব শান্ত ভাবে নিয়মের বাহিরে আরেকটা সিগারেট ধরালেন।খুব আস্তে আস্তে ধোঁয়া বের করছেন...যেনো ভেতরের সব কস্ট -গ্লানি ধোঁয়ার সাথে নির্গত করছেন।
ও হ্যা কবির হাসানের সযত্নে গড়ে তোলা বাগান থেকে একটি ফুল এইমাত্র ঝরে পরেছে।হ্যা এইমাত্রই।






সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৩৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কল্প-গল্প : প্রমিথিউসের শেষ রাত

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:১১



“স্যার, কিছু কয়েন দেন!” মোলায়েম স্বরে বলেই হাত কচলায়।

কয়েনটি যিনি চাইলেন, তিনি একজন ভিক্ষুক। ব্যস্ত শহরের এই চৌরাস্তায় বসে নিয়মিত কয়েন আবদার করাই তার একমাত্র কাজ। মালদার পার্টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একালের আওয়ামী লীগের সাথে সে কালের বিএনপির পার্থক্য কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১



সে কালের বিএনপি বিভিন্ন সময় আন্দোলনের গল্প শুনাতো। একালের আওয়ামী লীগ বিভিন্ন সময় আপা আসার গল্প শুনায়। এর মধ্যে দু’বছর পার হয়েছে আপা আসেননি। সামনে ডিসেম্বরের মহাক্ষণে আপা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শামারুহ মির্জারাও সত্য মেনে নেয় যখন/ যদিও এর কোনো প্রয়োজনিয়তা আমাদের নেই॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


বিএনপি ঘরানার মুখ থেকেও যখন সত্য বেরিয়ে আসে, তখন তা ইতিহাস হয়ে থাকে!

বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কন্যা ড. শামারুহ মির্জার একটি সত্য স্বীকারোক্তি......
“বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা ছাড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতাদর্শের চেয়ে রাষ্ট্রের স্বার্থ বড়....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:২৮

মতাদর্শের চেয়ে রাষ্ট্রের স্বার্থ বড়....

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আবেগ দিয়ে নয়, বাস্তবতা দিয়ে চিন্তা করা প্রয়োজন। আমাদের রেমিট্যান্স অর্থনীতির একটি বড় ভিত্তি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কান্নার প্রতিধ্বনি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০১ লা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৬


এই গল্পটি একটি ফিকশন ক্রাইম স্টোরী, বাস্তবের একটি ঘটনার ছায়াবলম্বনে লেখা হয়েছে।

১০ মে, ২০১৮। টেকনাফ।

কাউন্সিলর শামসুল আলমের (৪৮) দোতলা বাড়িটি আজ বেশ আলো ঝলমলে।

বসার ঘরে ছোট মেয়ে সুমাইয়া (১২) গণিতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×