নিহত সাংবাদিক দম্পতির একমাত্র সন্তান মেঘের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এটি নিঃসন্দেহে ভাল উদ্যোগ। আমরা আশা করি অনতিবিলম্বে খুনিরা চিহ্নিত হবে,এবং সুষ্ঠ বিচারের সম্মুখিন হবে।
কিন্তু কয়েকটি বিষয় এখানে উল্লেখ্য=
১- সাংবাদিক দম্পতির খুন মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। সব মহল থেকে দ্রুত তদন্তের দাবি উঠেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৪৮ ঘন্টা সময়ও বেঁধে দিয়েছিলেন। সেই সময় শেষ হওয়ার অনেক পরেও রহস্যের কোন কিনারা না হওয়ায় তদন্তের নিরপেক্ষতা বা মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহের বিষয়ে অনেকের মনে নানা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। সেই সন্দেহের উপর আস্থার "প্রলেপ" দেয়ার জন্যই কি এই 'অভিবাবকত্ব'র নাটক সাজানো !!
২- একজন প্রধানমন্ত্রী দেশের ১৬ কোটি মানুষের দায়িত্বশীল। দেশের প্রতিটি নাগরিকের সামগ্রিক নিরাপত্তা বিধান প্রধানমন্ত্রী ও তার অধিনস্তদের উপর আবশ্য কর্তব্য। যেখানে প্রতিনিয়ত সড়ক দূর্ঘটনায় অসংখ্য শিশু অনাথ হচ্ছে, শেয়ারবাজারে সর্বস্ব হারিয়ে মানুষ আত্মহত্যা করছে, ছাত্ররাজনীতির বিষবাষ্পে অতিষ্ট হয়ে একের পর এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে সেখানে একজন 'মেঘ' এর দায়িত্বগ্রহণ ঘটা করে প্রচার কি শুধু মিডিয়ার ভয় না অন্যকিছু !!
৩- ''গোড়া কেটে আগায় পানি দেয়া'' এই প্রবাদটি সবারই জানা। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও পদস্থ কর্মকর্তার নানা বক্তব্য থেকে বিষয়টি অনেক স্পষ্ট। সমস্যার মূল উৎস চিহ্নিত করে তার প্রতিকারের পরিবর্তে ফাঁকা গলাবাজি ও লোকদেখানো দৌড়ঝাপ এখন প্রশাসনের সর্বত্র লক্ষণীয়। জানিনা এখানেও এমন কোন ব্যপার ঘটছে কিনা !!
৪- বছরদুয়েক আগে নিমতলির ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে শতাধিক মানুষ নিহত ও কয়েকশ আহত হয়েছিল। সেইসাথে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে প্রত্যেক পরিবারকে ১০০০০ টাকা করে দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তিনজন অনাথ মেয়ের 'মা' হন এবং বেশ ধুমধাম করে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করেন।
প্রশ্ন হল, এতবড় একটা ঘটনার নিরাময় কি এই সামান্য কাজেই শেষ?
ওই তিন মেয়ে ছাড়া কি আর কেওই সেদিন তার পিতামাতাকে হারায়নি?? দূর্ঘটনার পর দুঃখপ্রকাশ,এক মিনিট নিরবতা পালন বা পক্ষে-বিপক্ষে বিবৃতি দান এগুলোই কি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রাপ্য ???

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



