somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরীক্ষার্থী – ৪৪,৩৪৬। উত্তীর্ণ – ১৩,৩৫২। আসন – ৭৯০। আঞ্চলিক পরীক্ষাকেন্দ্র।

২৬ শে নভেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এ-ইউনিটে পরীক্ষা দিয়েছে ৪৪ হাজার জনেরও বেশি। এই ইউনিটে আসন সংখ্যা ৭৯০। ৪৪ হাজার কে ৭৯০ দিয়ে ভাগ করে অনেকে বলার চেষ্টা করেন আসন প্রতি প্রতিযোগি ৫৬ জন। একটা অবৈজ্ঞানিক ফালতু ধারণা। মূলত একজন পরীক্ষার্থী যে ৭৯০তম হবে তাকেও কমপক্ষে ৪৩ হাজার জনকে পেছনে ফেলে আসতে হবে।
শিক্ষার্থী বেড়েছে, সবাই চায় ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে কিংবা নিদেন পক্ষে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে। পরীক্ষার্থীদের অনেকের অবস্থান ঢাকার বাইরে। পরীক্ষাকেন্দ্রিক ছোটাছুটি আর ভোগান্তি এবং অর্থনৈতিক ব্যয় অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কম করে হলেও ২০ হাজার হবে। তাদের গড়পড়তা খরচ ২ হাজার টাকা ধরলেও অনায়াসে (২০,০০০ × ২,০০০ = ৪,০০,০০,০০০) ৪ কোটি টাকা গায়েব হয়ে যায় (এই খরচ শুধু একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা ইউনিটে পরীক্ষা দিতে আসা-যাওয়া-থাকার খরচ)।
প্রত্যেক বিভাগীয় শহর, বৃহত্তর শহর এবং যে অঞ্চলগুলো থেকে শিক্ষার্থী বেশি আসে সেই অঞ্চলগুলোতে পৃথক পরীক্ষাকেন্দ্র বসানো যেতে পারে। প্রত্যেক বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র এ সকল সেন্টারে যথাসময়ে পৌছে যাবে। আবার উত্তরপত্র সেই সেন্টারগুলোতে বা প্রয়োজনে ঢাকায় নিয়ে এসে মূল্যায়ন করে বর্তমান নিয়মের মতই প্রকাশ করা হবে। আরো চিন্তা করলে এই ব্যবস্থাকে আরো উন্নততরো করা যাবে। উদ্যোগ নিয়ে কেউ বা কোন বিশ্ববিদ্যালয় শুরু করলে, এই ব্যবস্থার অন্তর্নিহিত ত্রুটিগুলো বেরিয়ে আসবে এবং ধাপে ধাপে তা সমাধান করা যাবে। এই ব্যবস্থার ফলে শিক্ষার্থীরা অল্প পরিশ্রমেই তাদের নিজ বিভাগ বা অঞ্চলের নির্দিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রা বসেই সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। ভেবে দেখার বিষয় বিদেশে উচ্চ শিক্ষার্থে বা অন্যকোন প্রয়োজনে আমরা যে Language Test (IELTS, TOEFEL) দেই, তা দেয়ার জন্য যদি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অন্যকোন দেশে পাড়ি জমাতে হতো, কিংবা GRE, GMAT এর কেন্দ্র যদি ঢাকায় না থাকতো, তবে কি অবস্থা হতো। Exam Center বা পরীক্ষাকেন্দ্র একটি পরীক্ষীত বিষয়। আমাদের দেশেও এটি বাস্তবায়নযোগ্য। মনে রাখতে হবে যে, কোন নতুন চিন্তা হচ্ছে কোন কিছু নিয়ে চিন্তা করার ফল, এবং তা বাস্তবায়নের পক্ষে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে চিন্তাটা ভালো করে বুঝতে না চাওয়া এবং তা বাস্তবায়নের অনিচ্ছা (Everything is impossible or Nothing is possible to an unwilling mind.)।
কোন একটা সমস্যা ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকলে সেটা মেনে নেয়ার মাঝে কোন সার্থকতা নেই, বরং কি করে তা থেকে উদ্ধার পাওয়া যায় সেই চেষ্টা করতে হয়। সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে শিক্ষিত হয়ে অর্জিত বিদ্যা যদি প্রায়োগিক না হয়, তবে বিদ্যার্জনের উদ্দেশ্য ব্যর্থ। অতএব নিষ্কৃতির উপায় উপকরণ নিয়ে চিন্তা করতে হবে। শিক্ষা যদি সমস্যা সমাধানে উদ্ধুদ্ধ করতে না পারে, তবে এই অসম, অপ্রয়োজনীয়, অর্থহীন প্রতিযোগিতা আর তাতে সফল হওয়া শিক্ষার্থীদের নিজেদেরকে সফল মনে করার কোন কারণ নেই। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সঠিক উদ্দেশ্য অর্জিত হোক, এই হোক ‘তোমারই আছি তোমারই থাকবো’ সিনেমার পোস্টারের বসন-সংকটের ভালো বিকল্প।
শুধু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বলেই নয় অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রেও প্রায়ই একই অবস্থা। অতএব সামগ্রিকভাবে চিন্তা করে সময়, অর্থ, শ্রমকে সঠিক কাজে লাগানো প্রয়োজন।

একই ধারায় হয়তো অনেকেই চিন্তা করছেন, কিংবা আগেও কেউ এ বিষয়ে লিখে থাকতে পারেন, তবে কোন লেখার সাথে মিলে যাওয়া একান্তই কো-ইন্সিডেন্স।

বেকার যুবক
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গার্মেন্টসের ভিতরে লুকানো বাস্তবতা—যা আমরা কখনো দেখি না

লিখেছেন Sujon Mahmud, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৫২



সকাল ৬টা। ঘুম ভাঙার আগেই যেন জীবন তাকে টেনে তোলে। রহিমা চোখ খুলেই কিছুক্ষণ ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। মনে হয়—
আরেকটা দিন, আবার সেই একই লড়াই।

রহিমা একজন গার্মেন্টস কর্মী। বয়স মাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?
--------------------------------------------
আজ বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে উত্তেজনা ইরান বিভিন্ন আরব রাষ্ট্র, ইসরায়েল,মার্কিন সংঘাত নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের দেশের সেই কথিত “তৌহিদী জনতা”, যারা সামান্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইস্টার ফ্রাইডে এবং যিসাসের শেষ যাত্রা: জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত পথে

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




দিলু নাসের
আমার এই তিনটি ছবির সঙ্গে পৃথিবীর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বেদনাবিধুর ইস্টার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ছবিই যেন এক একটি অধ্যায়, একটি যাত্রার, যা শুরু হয়েছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ঘটনা নয়, এগুলো আগে থেকেই তৈরি করা মৃত্যু

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:০৫

চারপাশ থেকে কালো ধোঁয়া ঘিরে ধরছে। দুই চোখ প্রচণ্ড জ্বলছে । সুন্দর করে সাজানো হলরুমের প্লাস্টিক, ফোম, সিনথেটিক সবকিছু পুড়ে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে বিষাক্ত গ্যাসে। ঘরের অক্সিজেন প্রতি সেকেন্ডে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×