somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মিয়ানমারে হবুচন্দ্র

২০ শে নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ৮:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
হবুচন্দ্র রাজা তখন ক্ষমতায়।নাম শুনে যা-ই মনে হোক, তিনি যথেষ্ট বিচক্ষণ এবং বুদ্ধিধর।প্রজাসাধারণকে তিনি প্রাণ দিয়ে ভালোবাসেন।রাজ্যপাট চলছিল বেশ।কিন্তু হঠাৎই একটা মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন — তার পোষা বাঘটা কেমন করে যেন পশুশালার বিরাট লোহার দরজাটা ভেঙে পালিয়েছে।দ্বাররক্ষীকে তো তক্ষুণি পেটে চালান করেছে,চলতি পথে আরও দু-তিনজনকে ঘাড় মটকে ফেলে রেখে গেছে!
এটা গতকালের ঘটনা।এরপর কাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত আরও বিশ-পঁচিশটা লাশ এখানে-সেখানে পাওয়া গেছে।আধমরা আরও প্রায় পঞ্চাশজন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা কষছে।
সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি মন্ত্রী গবুচন্দ্রকে ডেকে পাঠালেন।গবুচন্দ্র রাজ্যের সবচে দক্ষ বিশজন কামারকে ডেকে নিয়ে এল।
তারা যখন এসে পৌঁছাল, রাজা হবুচন্দ্র তখন প্রজাদের দুর্দশা চিন্তা করে ক্ষোভে-আতঙ্কে দিশেহারা।তিনি,কামারবাহিনীর যিনি প্রধান,তার হাতদুটো ধরে ভারি গলায় বললেন—তোমরা কি পারবে বাঘের হাত থেকে জনগণকে বাঁচাতে?ভেবে দেখ,এটা শুধু দায়িত্ববোধ নয়;এটা তারচেয়েও বড় কিছুর প্রশ্ন।এটা মানবিকতা।তোমরা কি পারবে?
মহারাজারের কথার আবেগে কামার-প্রধান তখন টগবগ করে ফুটছে।সে মনশ্চক্ষে দেখতে পাচ্ছে,ইয়া বড় বাঘটার পায়ে শেকল লাগিয়ে সে হিড়হিড় করে টেনে আনছে।মুহূর্তমাত্র দ্বিধা না করে দৃঢ়তার সাথে সে বলল—আপনি শুধু আদেশ করুন মহারাজ।
হবুচন্দ্র ভরাট গলায় বললেন— তবে যাও।লোহালক্কড় সব এক জায়গায় করো ।বিরাট বড় একটা মজবুত ঘর বানাও।তারপর বন্দী করো।বন্দী করো, আমার জনগণদের।নইলে,বাইরে থাকলে বাঘ ওদের সবাইকে মেরে ফেলবে।জনগণকে বাঁচাও।এটা তোমাদের মানবিক দায়িত্ব!

২.
হবুচন্দ্র রাজা মহাচিন্তিত আজ—এই রাজ্যের ভবিষ্যৎ—তার একমাত্র ছেলেটার শেষপর্যন্ত এত অধঃপতন!চরিত্রই যদি না থাকে তবে আর রইল কী!শেষ পর্যন্ত কি না যে-নারীপুরুষদের সম্পদ আর সম্মান রক্ষার জন্য তিনি রাজ্যশাসনে হাত দিয়েছেন, সেই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে তারই ছেলে!এ লজ্জা তিনি রাখবেন কোথায়।

তিনি মন্ত্রী গবুচন্দ্রকে ডাকলেন।বললেন—মন্ত্রী!রাজপুত্র তো একটার পর একটা অপকর্ম করেই চলেছে!অথচ তোমরা করছ কী?আইন-কানুন দূর হোক।মানবিকতা বলেও কি তোমাদের কিছু নেই?

রাজপুত্রের অপকর্মে মন্ত্রীও ফুঁসছিলেন।তিনি দৃপ্তস্বরে বললেন— মানবতার শপথ করছি মহারাজ।অবশ্যই আমাদের মানবিকতা আছে।বলুন, কী করতে হবে।

হবুচন্দ্র বললেন—শুধু রাজপুত্রই নয়।শয়তানের পূজারী আরও অনেক যুবকই জঘন্য এ অপকর্মের দোসর!তোমার লোকজনদেরকে চতুর্দিকে ছড়িয়ে দাও।কোথাও ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে সেখানে যথাশীঘ্র উপস্থিত হবে।তারপর পদক্ষেপ নেবে।মনে রাখবে মেয়েগুলো কিন্তু নির্দোষ।
গবুচন্দ্র বললেন—সে তো বুঝলাম।কিন্তু কী পদক্ষেপ নেব?

হবুচন্দ্র দৃঢ় গলায় বললেন—তোমরা মেয়েগুলোকে সান্ত্বনা দেবে, আর এগুলোও ওদেরকে দেবে।তিনি গবুচন্দ্রের হাতে একবস্তা "ওরাল পিল" দিয়ে বললেন—এগুলোর সরবরাহ নিশ্চিত করা তোমার কর্তব্য।মানবতা যেন তোমার দ্বারা ভুলুন্ঠিত না হয়।

৩.
সময় এগিয়েছে! হবুচন্দ্র এখন গোটা পৃথিবীর রাজা!মডার্ন যুগে ওইসব বস্তাপচা পুরাতন নাম চলে না।তাই তিনি “চন্দ্র”টাকে “মুন” বানিয়ে নিয়েছেন ।তিনি যে জাতপাতের ঊর্ধ্বে, সারা বিশ্বের কর্ণধার এটা বুঝানোর জন্য নামের আগে “বান কি” নামের একটা আধুনিক পদবীও লাগিয়ে নিয়েছেন।মোদ্দাকথা, হবুচন্দ্রের নাম এখন “বান কি মুন”।

বান কি মুন আজ মহাচিন্তিত।তিনি তার সবচেয়ে বড় মিডিয়া—মন্ত্রী গবুচন্দ্রকে ডেকে পাঠিয়েছেন।কোথাকার কোন মায়ানমারের বৌদ্ধরা নাকি মুসলমানদের কচুকাটা করছে!কত্ত বড় সাহস!
চোখমুখ লাল করে গবুচন্দ্র উপস্থিত হলেন।বললেন—মহারাজ!মানবতা আজ কোথায়?যারা বলে—জীব হত্যা মহাপাপ,তারাই কিনা কচুকাটা করছে মানুষকে!আজীব ব্যাপার!মানবতার দোহাই।আমরা আর বসে থাকতে পারছি না।আদেশ করুন।
বান কি মুন বললেন—ডাকো সবাইকে।দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে যাও।এগিয়ে যাও তোমার বাহিনী নিয়ে।যাও।গিয়ে বাংলাদেশকে বলো, তারা যেন, সীমান্ত খুলে দেয়!সীমান্ত বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের কষ্ট দেওয়া কোন ধরনের মানবতা?

পুনশ্চ:
ক.রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবতা প্রদর্শন করার জন্য হবুচন্দ্রের শাহী এলান এই লিংকে—
http://www.bbc.com/bengali/news-38026018

খ.হবুচন্দ্রের উপরেও আকাশের চন্দ্র-সূর্য আছে।তারও উপরে আছেন সুমহান একজন।তিনি তথাকথিত মানবতার ধার ধারেন না।তিনি শুধু চান আমরা যেন সত্য জানি,সত্য মানি।সত্য খুঁজি,সত্য বুঝি।আমরা যেন,অন্যের অবিচারের ভয় না করে তার সুবিচারের ভয় করি।সেই সুমহান স্বত্তার শাহী এলানের সামান্য একটা অংশ সবাইকে জানিয়ে দেওয়া প্রয়োজন মনে করি,বিশেষ করে সেইসব মুসলিম নামধারী সেনাবাহিনী-পোষা দেশের রাষ্ট্রনেতাদেরকে—

An-Nisa' 4:75
وَمَا لَكُمْ لَا تُقَٰتِلُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱلْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ ٱلرِّجَالِ وَٱلنِّسَآءِ وَٱلْوِلْدَٰنِ ٱلَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَآ أَخْرِجْنَا مِنْ هَٰذِهِ ٱلْقَرْيَةِ ٱلظَّالِمِ أَهْلُهَا وَٱجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا وَٱجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ نَصِيرًا

তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর পথে এবং অসহায় নারী-পুরুষ আর শিশুদের (রক্ষার) জন্য লড়াই করছ না, যারা দু‘আ করছে- ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এ যালিম অধ্যূষিত জনপথ হতে মুক্তি দাও, তোমার পক্ষ হতে কাউকেও আমাদের বন্ধু বানিয়ে দাও এবং তোমার পক্ষ হতে কাউকেও আমাদের সাহায্যকারী করে দাও।’

And what is [the matter] with you that you fight not in the cause of Allah and [for] the oppressed among men, women, and children who say, "Our Lord, take us out of this city of oppressive people and appoint for us from Yourself a protector and appoint for us from Yourself a helper?"
সুরা নিসা-৭৫

গ.বিশিষ্ট ইসলামী গবেষকরা কী ভাবেন এই বিষয়ে?তাঁদেরকেও কি নাড়া দেয় অন্য মুসলিমদের গগনবিদারী আর্তচিৎকার?জানতে হলে দেখুন—
https://m.youtube.com/watch?v=dIsf7MYBwSw


সর্বশেষ এডিট : ২০ শে নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ৮:৩৩
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×