এবার পুলিশ নিজস্ব উদ্যোগেই রমজান মাসে রাজধানীর কাঁচাবাজার ফরমালিনমুক্ত রাখবে। মহানগর পুলিশের আওতাধীন সব এলাকায় বুধবার থেকেই এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ উদ্যোগের প্রথম দিন কাঁচাবাজার, মাছ ও সবজি বিক্রেতাদের সতর্ক ও সজাগ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়- যদি রমজানে কেউ ফরমালিনযুক্ত শাক-সবজি, মাছ-মাংস ও ফলমূল বিক্রি করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ এ ব্যাপারে সব থানার ওসিদের ডেকে রমজানের আগেই রাজধানীকে ফরমালিনমুক্ত করতে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন।
এ ব্যাপারে সরেজমিনে বিমানবন্দর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বুধবার থেকেই পুলিশের প্রাথমিক ক্যাম্পেন শুরু হয়েছে। পুলিশ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে আশকোনা, কাওলা, মোল্লারটেক কসাইবাড়ি ও বিমানবন্দর গোলচক্কর এলাকায় দিনভর ফরমালিনের ভয়াবহতা ও কুফল সম্পর্কে প্রচার চালায়। ফরমালিনমুক্ত ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে প্রতিটি কাঁচাবাজারে গিয়ে ব্যবসায়ী এবং ক্রেতা সাধারণকে এ সম্পর্কে সচেতন করে।
এ সময় বিমানবন্দর এলাকার ওসি শাহ আলম জনকণ্ঠকে বলেন, রমজানে কিছুতেই এ এলাকায় ফরমালিনযুক্ত পণ্য বিক্রি করা যাবে না। এটা মহানগর পুলিশ কমিশনারের নির্দেশ। শুধু বিমানবন্দর নয়- গোটা রাজধানীতেই চলবে এ কার্যক্রম। সরকারের অন্যান্য সংস্থার পাশাপাশি পুলিশের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এ অভিযান চলবে।
ওসি শাহ আলম জানান, তার এলাকার ফল, মাছ ও তরিতরকারির দোকানীরা এ অভিযানে সফল করার ক্ষেত্রে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। বুধবার আশকোনা মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের ব্যবসায়ীদের নিয়ে পুলিশ বিশেষ র্যালি বের করে। ব্যানার হাতে নিয়ে সাধারণ মানুষও র্যালিতে অংশ নেয়। এ সময় ব্যবসায়ীরা রমজানের আগেই ফরমালিনমুক্ত পণ্য বিক্রি বন্ধ করার নিশ্চয়তা দিয়েছে। বুধবারই ওই এলাকার সব মার্কেটের সামনে ফরমালিনমুক্ত ব্যানার টানানো হয়। মূলত ক্রেতা সাধারণকে সতর্ক ও সচেতন করার জন্যই এ পদক্ষেপ বলে জানান ওসি শাহ আলম।
পুলিশের বিচারিক ক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও কিভাবে এ অভিযান সফল করা হবে জানতে চাইলে ওসি শাহ আলম বলেন, কোন দোকানের পণ্য সম্পর্কে যদি কোন ক্রেতার মনে সন্দেহ দেখা দেয় তাহলে তিনি তাৎক্ষণিক পুলিশকে খবর দেবেন। তখন পুলিশ ছুটে যাবে। ওই ব্যবসায়ীর পাশে দাঁড়িয়েই পুলিশ ডিএমপির নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট ডেকে নেবে। ডিএমপিতে রয়েছে ৮ জন ম্যাজিস্ট্রেট। ম্যাজিস্ট্রেটের সামনেই কীট দিয়ে সেটা পরীক্ষা করবেন। যদি ভেজাল বা ফরমালিন পাওয়া যায় তাহলে তিনি পণ্য ধ্বংস, আর্থিক জরিমানা ও তাৎক্ষণিক দ- প্রদানের মতো বিচার করতে পারবেন। এভাবে পুলিশ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় রাজধানীকে ফরমালিনমুক্ত করার কাজ শুরু করেছে।
গুলশান থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, তাঁর এলাকায়ও বিশেষ প্রচার চালানো হচ্ছে। বুধবার গুলশান ফল মার্কেট ও কাঁচাবাজারের প্রতিটি দোকানে গিয়ে পুলিশ এ নোটিস জারি করে। তারপরও যদি কেউ এ ধরনের অপরাধ করে, তখন অভিযোগ পাওয়া মাত্রই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানা যায়, রাজধানীর অন্যান্য এলাকায়ও একই কায়দায় পুলিশ ক্যাম্পেন শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে র্যাব ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিএসটিআইর সহায়তায় বিক্ষিপ্তভাবে ভেজালবিরোধী অভিযান চালায়। রাজধানীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য র্যাবের নিজস্ব ৫ জন ও পুলিশের নিজস্ব ৮ জন ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছে। এ ছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েরও রয়েছে নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



