somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

হাওয়া ভবনের কুচক্রী আশিক সক্রিয় নিউইয়র্কে!

১৭ ই জুন, ২০১৪ সকাল ৮:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


হাওয়া ভবনের কুচক্রী আশিক ইসলাম এবার নিউইয়র্কে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে খোদ বিএনপিতেই। তার দল বিরোধী নানা তৎপরতার ফিরিশতি তুলে ধরে শনিবার সংবাদ সম্মেলনও করেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্যেই হাঁড়ি ভেঙেছেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের খালাতো ভাই সরাফত হোসেন বাবুসহ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কয়েকজন নেতা।

বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও সহযোগী ৩৪ সংগঠনের নেতারা সংবাদ সম্মেলনে এক সময়ের হাওয়া ভবনের অন্যতম চরিত্র আশিক ইসলামকে ‘কুচক্রী’ বলে চিহ্নিত করেন।

তারা এও জানান, তারেক রহমান এসব কুচক্রীর সঙ্গ না ছাড়লে তারা কেউই ওই কুচক্রীদের বিএনপির সঙ্গে থাকবেন না এবং দেশে আবারো ওয়ান-ইলেভেন আসতে বাধ্য।

দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ভেতরে বিরাজমান নেতাদের কোন্দল এমনিতেই চরমে উঠেছিল। তারেক রহমানের বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নতুন মেরুকরণে তা আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতে পরিণত হয়েছে।

ওই অনুষ্ঠানে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ত্রিধাবিভক্ত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাদের যথাযথ সম্মান জানানো, সামনের সারিতে বসা ও ‘বই বিক্রির নামে চাপিয়ে দেয়া চাঁদাবাজিই’ ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢালে। এরপর নতুন মেরুকরণে সরাফত হোসেন বাবুকে দল থেকে বহিষ্কারে সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদেই পেন্ডুরার বাক্স খুলে এসব তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করে।

আশিক ইসলামকে বহিষ্কারের জন্য তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার প্রতি জোর দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি ও সহযোগী ৩৪ সংগঠনের নেতারা আরো বলেন, বিএনপির তৃণমূলের রাজনীতিতে হাওয়া ভবনে শতাধিক ব্যক্তি গবেষণাসহ বিভিন্ন দায়িত্বে কাজ করতেন। কিন্তু তাদের সবাইকে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে না। শুধু আশিক ইসলাম ও তার মত কতিপয় দুর্নীতিবাজ যারা তারেক রহমান ও হাওয়া ভবনের নাম বিক্রি করে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তারেক রহমান ও হাওয়া ভবনকে বিতর্কিত করেছে, তারাই বিদেশে ফেরারির মত পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আশিক ইসলামকে ‘মুখোশধারী’, ‘ভাইয়া ভাইয়া’ ডাকে মুখে ফেনা তুলে তারেক রহমানের নামে মিথ্যাচার, প্রতারণা, চাদাবাজি ও ধাপ্পাবাজির মহানায়ক এবং ওয়ান- ইলেভেনের সময় পর্দার অন্তরালে থেকে তারেক রহমানের ক্ষতি সাধনকারী হিসেবেও চআখ্যায়িত করেন ডা. জোবাইদা রহমানের খালাতো ভাই সরাফত হোসেন বাবু।

তারেক রহমানের বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠান নিয়ে আশিক ইসলামের তারেক রহমানের নাম ভাঙানো ও প্রতিশ্রুতি ভঙের প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে ‘ভাইয়া’ তারেক রহমান সশরীরে উপস্থিত থাকবেন এবং ভিডিও কন্ফারেন্সের মাধ্যমে খালেদা জিয়া বক্তব্য রাখবেন এমন প্রতিশ্রুতিও এই প্রতারক আশিক ইসলাম দিয়েছিলেন।

বিএনপি ও সহযোগী ৩৪ সংগঠনের সমন্বয়কারী বেলাল মাহমুদ তারেক রহমান ও বিএনপি’র ভাবমূর্তি রক্ষায় আশিক ইসলামসহ কতিপয় দুর্নীতিবাজ যারা তারেক রহমান ও হাওয়া ভবনের নাম বিক্রি করে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তারেক রহমান ও হাওয়া ভবনকে বিতর্কিত করেছে তাদেরকে বর্জনের জন্য তারেক রহমান ও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, হাওয়া ভবনের সবাইকে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে না।

তিনি বলেন, এসব চাটুকারদের দেশে না ফেরাই তারেক রহমান ও বিএনপি’র জন্য মঙ্গলজনক হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি ও সহযোগী ৩৪ সংগঠনের পক্ষে আরো উপস্থিত ছিলেন- জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, সেলিম রেজা, নিরা রাব্বানি, নূর এ আলম, জঅবন শফিক, ওয়ালিউল্লাহ আতিকুর রহমান, সাইদুর রহমান সাইদ, রফিকুল মাওলা, মোঃ আশরাফ, গোলাম হাসান, আমানুল হাসান, নূর হোসেন, সুভাষ মজুমদার, পরান চৌধুরী, রুহুল আমিন নাসির প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত রোববার ১৮ আগস্ট ত্রিধাবিভক্ত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাদের সামনের সারিতে বসা নিয়ে তুমুল হট্টগোলের মধ্য দিয়ে শুরু হলেও অবশেষে তারেক রহমানের বই প্রকাশনা অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়। তবে খুবই সংক্ষিপ্ত এ অনুষ্ঠানে অতিথিদের মঞ্চে আমন্ত্রণ এবং বক্তা তালিকার অতিথির বক্তব্য ছাড়াই অনুষ্ঠান শেষ ঘোষণা’র মত ভুল শোধরানো হলেও হার্ভার্ড রিসার্চ অ্যাসোসিয়েটস ড. এ কে এম খায়রুল ওয়ারার অবিরত ভুল ইংরেজি, ভুল উচ্চারণ, ‘মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৭ দফা দিয়ে শুরু করেছিলেন’ এবং দুর্ভাগ্যজনক , প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মত্যুবরণ করেন (প্যাসড এওয়ে), প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায় ইত্যাদি বক্তব্যে দলীয় কর্মী ও সমর্থক-দর্শকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এমনকি তার বক্তব্যের সময়ই প্রতিবাদ ওঠে।
Ashik
জানা গেছে, নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স বিল্ডিংয়ের ফ্রাঙ্ক আর্টশুল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘দ্য পলিটিক্যাল থটস অব তারেক রহমান: এম্পাওয়ারমেন্ট অব দ্য গ্রাসরুট পিপল’ বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানের বাজেট ছিল মোট ৬০ হাজার ডলার।

নিউজার্সির একজন বিএনপি নেতাসহ তিনজন ধনী দলের নেতা ও শুভানুধ্যায়ী এই ব্যয় বহনে আর্থিক সহায়তা করেছেন। কোন চাদা সংগ্রহ করা হয়নি।

ওই অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর হোজে প্যরেলটা, সিটি নির্বাচনে পাবলিক অ্যাডভোকেট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী রেশমা সুজানি তাদের কয়েক মিনিটের সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য দিয়ে আর চেয়ারে ফেরেননি।

অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে নিউজার্সির নর্থ ফিল্ড শহরের মেয়র ভিনসেন্ট মাজিও এবং বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ ফেলো ড. এ কে এম খায়রুল ওয়ারা, প্রফেসর মাইকেল ক্যাচ ও কলোম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ফেলো ফ্রাঙ্ক নাইগ্রো বক্তব্য রাখেন।

নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর হোজে প্যারেলটা ও সিটি নির্বাচনে পাবলিক অ্যাডভোকেট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী রেশমা সুজানি অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের উপর নির্মিত ভিডিও চিত্র দেখে তার উপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, তারেক রহমানের মত জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত জনপ্রিয় নেতাই দেশে দেশে জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে পারেন।

ভিডিও চিত্রে বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তিতে কৃষি, শিল্পসহ সর্ব ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও সবার সমান সুবিধা নিশ্চিত করতে তারেক রহমানের ভাবাদর্শের কথা তুলে ধরা হয় চমৎকারভাবে।

অনুষ্ঠানে বইয়ের উপরও কোন আলোচনা হয়নি। তবে তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন ও রাজনৈতিক ভাবনা বিষয়ে বিষদ বক্তব্য তুলে ধরেন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ফেলো ফ্রাঙ্ক নাইগ্রো। মূলত তিনি তারেক রহমানকেই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের একজন অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ পলিসি ফোরাম ক্যমব্রিজ ইউ এস এ চ্যাপ্টারের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন বাংলাদেশ পলিসি ফোরাম ক্যমব্রিজ সভাপতি মাহদি আমিন। সমন্বয়কারী হিসেবে ছিলেন সাবেক জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রেস সচিব অশিক ইসলাম।

বাংলাদেশ পলিসি ফোরাম ক্যমব্রিজ থেকে প্রকাশিত তারেক রহমানের বইটির আমেরিকান এডিশনের সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন সালেহ শিবলী, মাহদি আমিন ও হুমায়ুন কবির।

কংগ্রেসম্যান হাকিম জেফরি অনুষ্ঠানে বিশেষ কারণে উপস্থিত হতে পারেননি বলে জানানো হয়। তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যশনালের প্রতিনিধি রেনজো পমি অনুপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×