somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেনাবাহিনী নিয়ে কথা বলার অধিকার নেই এনজিওর

১৯ শে নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ৭:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশের পাঁচটি এলাকায় সেনানিবাসের জন্য জমি অধিগ্রহণ নিয়ে আটটি এনজিও যে প্রশ্ন তুলেছে, তা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ বলে মত দিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, সেনাবাহিনী সম্পর্কে কথা বলার অধিকার এনজিওর নেই। কারণ সশস্ত্র বাহিনী দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাদের ব্যয় মেটানো হয় জাতীয় বাজেট থেকে। নিয়মিত তা নিরীক্ষণ করেন সরকারের অডিট জেনারেল। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে যেভাবে প্রতিরক্ষা বাজেট হয়, বাংলাদেশেও একইভাবে হয়। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই সব দেশের প্রতিরক্ষা বাজেট গোপন রাখা হয়।
‘সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সাবেক এই আইন প্রণেতা। এনজিওগুলোর পক্ষ থেকে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, এসব এনজিও কোনো পরিসংখ্যান ছাড়াই এমন বক্তব্য দিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনিও উপস্থিত ছিলেন।
সম্প্রতি আটটি এনজিও যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন সেনানিবাস না করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে।
ওই সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, টিআইবির বক্তব্য সেনাবাহিনীর জন্য অসম্মানজনক ও সেনাবাহিনীর কর্মদক্ষতার প্রতি হীনম্মন্যতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, জমি অধিগ্রহণের সঙ্গে প্রতিরক্ষা নীতির বিষয়ে এনজিওগুলো যে প্রশ্ন তুলেছে, তা তারা তুলতে পারে না। কারণ সশস্ত্র বাহিনীর অস্তিত্ব ও নীতির বিষয়ে সংবিধানে উল্লেখ আছে।
এনজিওগুলো শিল্পায়ন বাধাগ্রস্ত করছে : আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামালের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে সাবেক সেনা কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রাজধানীতে সেনাবাহিনী রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এনজিওগুলো কৃষিজমি রক্ষার নামে দেশের শিল্পায়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। এনজিওগুলো শেখাচ্ছে, দেশে শিল্পের দরকার নেই। আমরা কৃষি নিয়ে ব্যস্ত থাকব।’ আটটি এনজিও একত্র হয়ে সেনাবাহিনীর মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতীক সশস্ত্র বাহিনী : লিখিত বক্তব্যে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। লাখো শহীদের বুকের তাজা রক্তে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এ রাষ্ট্র। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতীক সশস্ত্র বাহিনী। এ বাহিনীকে আঘাত করার অর্থ হলো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত করা।’
সেনাবাহিনী কোনো রাজনৈতিক দায়িত্বে নেই : আখতারুজ্জামান বলেন, সেনাবাহিনী বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক দায়িত্বে নিয়োজিত নেই। কোথাও কোনো নিবর্তনমূলক ক্ষমতাও প্রয়োগ করছে না। অথচ অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সম্প্রতি আটটি এনজিও যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেছে।
রাজধানীতে সেনাবাহিনী থাকলে গণতন্ত্রের কি সমস্যা : আট এনজিওর সংবাদ সম্মেলনে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল বলেছিলেন, ‘রাজধানীর বড় একটি অংশ সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। তাদের এ পরিধি ক্রমেই বাড়ছে। আর রাষ্ট্র তাদের এই মনোভাবকে সমর্থন জুগিয়ে চলছে।’ এর পরিপ্রেক্ষিতে মেজর (অব.) আখতার বলেন, ‘কী অদ্ভুত বক্তব্য! কী ছেলেমানুষি যুক্তি! রাজধানীতে সেনাবাহিনী থাকলে গণতন্ত্রের কি সমস্যা? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কোথায় হারিয়ে যায়? বিশ্বের বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের রাজধানী দিল্লির দুর্গগুলোতে কারা থাকে? পাশে আগ্রা ফোর্টে বা দেরাদুনে কারা থাকে?’ একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, চীন ও রাশিয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তাই বিনয়ের সঙ্গে জানতে ইচ্ছা করে সুলতানা কামালের বক্তব্যগুলো কি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ নয়?’
এনজিওগুলোর অভিযোগ ঢালাও : আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আটটি এনজিও ঢালাও অভিযোগ করেছে, বেআইনিভাবে নাকি দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসায়িক স্থাপনা, কারখানা, নগরায়ণ ও সেনানিবাস প্রতিষ্ঠার নামে একের পর এক বসতভিটা, কৃষিজমি, বনভূমি ও জলাধার বেহাত হচ্ছে। ওই সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই এনজিওগুলোর পক্ষে দেশের পাঁচটি এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে করা অনুসন্ধানের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে বেলার প্রধান নির্বাহী বলেছেন, বিভিন্ন জেলায় কৃষিজমি নাকি সেনাবাহিনীকে বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং এতে নাকি কৃষিজমি ও বাস্তুভিটা থেকে প্রায় সাত হাজার মানুষ উচ্ছেদ হবে। কিন্তু তিনি ধানমণ্ডি, গুলশান, বনানী ও বারিধারায় বসতভিটা, কৃষিজমি, জলাধার ভরে কত মানুষ উচ্ছেদ করে সরকার কোন সৌভাগ্যবানদের কোটি কোটি টাকার সম্পদ দিয়েছে বেলার প্রধান নির্বাহী সেই পরিসংখ্যান নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি, প্রকাশ তো দূরের কথা।’
টিআইবির বক্তব্য সেনাবাহিনীর জন্য অসম্মানজনক : ‘মূল সমস্যা আমাদের কোনো প্রতিরক্ষানীতি নেই। আমরা সেনাবাহিনীর হাতে আলাদিনের চেরাগ দিয়েছি। তারা যা চায় তা-ই তাদের দিতে হবে।’ টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের এমন বক্তব্যের জবাবে সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘এমন বক্তব্য সেনাবাহিনীর জন্য অসম্মানজনক ও শ্লেষপূর্ণ এবং সেনাবাহিনীর কর্মক্ষমতার প্রতি হীনম্মন্যতার বহিঃপ্রকাশ বলে কি মনে হয় না? তিনি কি তবে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে একটি দক্ষ, পারদর্শী বাহিনী হিসেবে দেখতে চান না? কিন্তু তিনি না চাইলেও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী তার উজ্জ্বল ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে ইতিমধ্যে সক্ষম হয়েছে।’
এনজিওগুলোর দরকষাকষি করতে দেওয়া যাবে না : সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণের সব অনিয়মে আমরা বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নই। তবে এ ব্যাপারে এনজিওগুলো সরকারের সঙ্গে দরকষাকষি করবে, তা হতে দেওয়া যাবে না।’
এনজিওগুলো কি সরকারের কোনো দুর্বলতার সুযোগ নিতে যাচ্ছে : মেজর (অব.) আখতার বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কি এমন অনিয়ম হয়েছে যে আটটি এনজিও একযোগে সংবাদ সম্মেলন করে অবৈধভাবে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছে? এনজিওগুলো কি রাজনৈতিক দল বা পেশাজীবী, দরকষাকষির এজেন্ট? যদি তা না হয়, তাহলে কিভাবে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে সরকারের কাছে দাবি জানাতে পারে- এটি আজ জনগণের প্রশ্ন? তবে কি এনজিওগুলো সরকারের কোনো দুর্বলতার সুযোগ নিতে যাচ্ছে? যদি তা-ই হয়, তাহলে জনগণ তা কখনোই মেনে নেবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী দরকার। শক্তিশালীভাবে আমাদের সীমান্ত সুরক্ষা করতে হবে। দেশের সম্পদ সুরক্ষা করার জন্যই প্রতিটি বাহিনীকে আধুনিক করতে হবে।’
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গাজীপুর থেকে কক্সবাজার: চার বাইকে ছয় সহকর্মীর ১৪ ঘণ্টার নাইট রাইড অ্যাডভেঞ্চার

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০২


আমি শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, থাকি সাভার এলাকায়। ভ্রমণের নেশা আর মোটরসাইকেলের প্রতি ভালোবাসা আমার দীর্ঘদিনের। আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব গাজীপুর থেকে কক্সবাজার হয়ে টেকনাফ ও শাহপরীর দ্বীপের দিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

Personal Cancer Vaccine: আশার আলো দেখাচ্ছে

লিখেছেন কলাবাগান১, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২


আপনি কি কখনও চিন্তা করে দেখেছেন যে ক্যান্সার টিউমারকে কেন শরীর এর রোগ প্রতিরোগ করা ইমিউন সেল (যেমন টি সেল) একেবারে ধ্বংস করতে পারে না!!! যেখানে টি সেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ১০০

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮



মাঝে মাঝে খুব অবিশ্বাস্য ব্যাপার সহজ ভাবে ঘটে যায়।
এই যে আমি শাহেদ। শাহেদ জামাল। রমিজ উদ্দীনের ছেলে। আমাকে একটা ঘরে বন্ধী করে রাখা হয়েছে। ছোট ঘর। ঘরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২



শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

গতকাল এক বাবার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল যৌন নিপীড়ন করেছেন। বাবার প্রতিক্রিয়া সঠিক ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×