এইবারের বৈশাখী উৎসব আগের সব বৈশাখী উৎসবকে ছারিয়ে গিয়েছিল বলেই আমার মনে হয় । গতকাল পুরো ঢাকা শহর এ হেটে চলা ছাড়া কোন উপায় ছিল না । এই ধরনের উৎসব দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে । বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ ক্রয় বা ভোগ এর মাত্রা অনেক বেড়ে যায় । ঈদ উৎসব ছিল একসময় আভ্যন্তরীণ ভোগ এর সবচেয়ে বড় উপলক্ষ্য । এখন পহেলা বৈশাখেও উচ্চবিত্ত , মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তরা ব্যপক ভাবে অংশ নেয় । পহেলা বৈশাখের জন্য বিশেষ জামা কাপড় এর চাহিদার কারনে তাকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ ধরনের শিল্প গড়ে উঠেছে । এই শিল্প অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে । এই শিল্প থেকেই জোগান হয় ২৬সে মার্চ ও ১৬ই ডিসেম্বর এর জন্য তৈরি বিশেষ পোশাক । ২৬সে মার্চ ও ১৬ই ডিসেম্বর এর পোশাক ও বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে । এই ধরনের পোশাক বিক্রয় ও সরবরাহ ব্যবস্থা ও উতপাদন ব্যবস্থা যত বেশি শক্তিশালী হবে আভ্যন্তরীণ ক্রেতার সংখ্যা তত বাড়বে । আর এই ক্রেতা বাড়াতে গিয়ে যে ধরনের বিজ্ঞাপন ও প্রচার বাজারে আসে বা আসবে তা মানুষের মনন ও সংস্কৃতিকেও পরিবর্তিত করবে । এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে গিয়ে মানুষের মধ্যে দেশ প্রেমেরও প্রভাব বাড়বে ।
খাদ্য দ্রব্যের মধ্যেও একটি ভিন্নতা আছে । ইলিশ মাছ একটি প্রধান উপাদান হলেও বিভিন্ন ধরনের ভর্তা তৈরি এখন একটি ফ্যাশন । এই ভর্তা তৈরি করতে বিশেষ ধরনের তারকারি বা সবজির উপর চাপ পরে ও তার চাহিদা বারে । মুলত এই ভর্তা সংস্কৃতি এসেছে গ্রামীণ দরিদ্র কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতি থেকে । চৈত্র মাস হচ্ছে খরার মাস । বৃষ্টি না থাকার কারনে বৈশাখী ধানের জন্য মানুষ অপেক্ষা করত । সেই সময় সংসারে আহার জোগানোর মত সামরথ কৃষকের ছিল না । বাড়ির পাশের সবজি থেকে আহরিত উৎস দিয়ে ভর্তা ছিল খাদ্যের প্রধান উপাদান । নদী নালায় তখন পানি থাকতো না । ঘরের সংরক্ষিত শুটকি মাছ ছিল প্রোটিনের উৎস । সেই সাথে ঘরে পালিত মুরগি বা মোরগ তো ছিলই । মোট কথা বৈশাখ ছিল কৃষকের জন্য একটি অভাব অনটনের মাস । এই অভাব অনটনের সময় একজন গ্রামীণ কৃষকের যে সংস্কৃতি তাই হচ্ছে আমাদের বৈশাখের সংস্কৃতি । রঙিন জামা কাপরের সংস্কৃতি এসেছেও এই অভাবের মাস থেকে । সস্তা এক রঙা জামা কাপড় পরে এই আভাবের মাসটা পার করে দেয়াই ছিল কৃষক পরিবারের উদ্যেস্য । ইলিশ মাছ তখন ছিল আসলে খুব সস্তা । ধনি কৃষকরা রুই কাতল মাছ খেত আর গরিব কৃষকরা ইলিশ মাছ খেত । চৈত্রের অভাবের সময় অবস্থা সম্পন্ন কৃষকরাও বাধ্য হয়ে ইলিশ মাছ খেত । পান্তা ভাত হচ্ছে সংরক্কিত খাদ্য । রাতে খাবার পর বাড়তি ভাত পরের দিনের জন্য সংরক্ষণ করতে তাতে পানি দিয়ে রাখা হতো । যা পরের দিন সকালে সবজি ভর্তা বা শুটকি ভর্তা দিয়ে নাস্তা হিসেবে ব্যবহার করা হতো ।
আমরা সেই সংস্কৃতিকে লালন করে বৈশাখী উৎসব পালন করে থাকি । এবং সেই সংস্কৃতি এখন আমাদের উৎসব । আমরা সেই অভাবী কৃষক পরিবার এর সংস্কৃতিকে নিজের অজান্তেই লালন করি ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



