গল্পানু: রুপার চিঠি
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
অনেক রাত চারদিকে পোকা ডাকার শব্দ, গভীর অন্ধকার। হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল নোবেলের। তৃষ্ণা পেয়েছে। বেড সুইচে টিপ দিল। মনে হচ্ছে বিদ্যুৎ নেই, আস্তে আস্তে অন্ধকারের মধ্যেই টেবিলের কাছে গেল। এতণে চোখ থেকে অন্ধকার কেটে গেছে। গ্লাসে পানি ঢেলে পর পর দুই গ্লাস পানি পান করলো। তারপর খাটের কাছে গিয়ে মশারী খানিকটা সরিয়ে বসলো। কেমন ভ্যাপসা গরম পরেছে। আবার বিদ্যুৎ নেই। এসব ভাবতেই ফ্যান চলতে শুরু করলো। লাইট জ্বালালো।
মনটা কেমন যেনও অস্থির লাগছে। নোবেল মশারীর ভিতর ঢুকে লাইট নিভিয়ে সোজা হয়ে শুয়ে পড়লো। বালিশ সরিয়ে রাখলো মাথার একপাশে। কোনো কিছু যখন ভালো লাগেনা তখন বালিশ ছাড়া ঘুমানো ওর একট পুরানো অভ্যাস। ঘুমাতে চেষ্টা করলো, কিন্তু ঘুম আসছে না। কি একটা কষ্ট যেন বুক চিরে বের হয়ে আসতে চাইছে। এ সেই কষ্ট, যা ভুলতে ঘুমাতে আসার আগে নোবেল একের পর এক করে সাতটা সিগারেট ফুঁকেছে। আর আগুন দিয়ে বাম হাতের কব্জিতে দাগ দিয়েছে। তখনই পণ করেছে ও কথা আর কখনো মনে করবে না। যে ওর কথা একটুও ভাবলো না, ওর কষ্টের কথা চিন্তা করলো না। তাকে ও মনে করবে কেনো।
যে নিজের সুখের কথা ভেবে অন্যকে খুব সহজেই ভুলে যায়। স্বার্থপর। যার সাথে এত দিনের সম্পর্ক। যাকে নিয়ে বাঁচা মরার স্বপ্ন। এত কিছুর পরও যখন সে ওকে ছেড়ে চলে গেলো, তাকে মনে করবে কেনো। নোবেল কি পরিমান ভালোবাসতো রুপাকে তা বলে বোঝানো যাবে না। সম্বল থাকলে সম্রাট শাহজাহানের মতো রুপার জন্য তাজমহল বানাতো। আজ কিনা তার কথা মনেও করতে চায় না। কিছুতেই চোখের পাতা এক করতে পারছে না।
নোবেল বিছানায় উঠে বসলো। লাইট জ্বালালো। পড়ার টেবিলের কাছে গেল। ড্রয়ার খুলে রুপার দেয়া চিঠিটা বের করলো। কয়েকবার পড়লো চিঠিটা, শেষ কটা লাইনে বারবার ওর চোখ দুটো আটকে যায়। শেষ লাইন গুলো এমন-` তোমাকে আমার আর প্রয়োজন নেই। আজ থেকে তোমার আমার পৃথিবী আলাদা। তোমার আমার পথ ভিন্ন, চাওয়া-পাওয়া অন্য।'
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন
যুদ্ধে কেউ জয়ী হয়না, যুদ্ধ বন্ধ হলে মানবতার জয় হয়।
যুদ্ধে কে জয়ী হয়েছে?
আমার উত্তর খুব সহজ- কেউ না।
যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী বলে কেউ থাকে না। যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন শুধু সৈনিক নয়; মায়ের বুক খালি হয়, শিশুর ভবিষ্যৎ ভেঙে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।
দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।
ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন
কটা দুলাল

বাল্য বন্ধু শফির ফোন পাইলেই টেনশনে থাকি। কোন একটা দুঃসংবাদ নিশ্চিত। আর সেটা যদি হয় সকাল বেলা তবে তো কথাই নেই। যদিও আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই মোটেও তবুও... ...বাকিটুকু পড়ুন
জীবন পর্ব -১

(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।