শ্রীমঙ্গল কলেজে আমাদের কলিগ ছিলেন ইংরেজির পার্থ স্যার।সিলেটের হবিগন্জে স্যারের বাড়ি। চাকুরির কোন এক পর্যায়ে তার পোষ্টিং হয় দক্ষিণবঙ্গের কোন এক কলেজে। কোন এক বার সে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে আরিচা ঘাটের কোন এক হোটেলে খেতে বসছে। হঠাৎ সে খেয়াল করলো প্লেটে একটা মরা মাছি। তার ভাষ্যমতে সে এতটাই ক্ষুধার্ত ছিলো যে সে মাছিটাকে ফেলে দিয়ে কলপনা করে নিলো বাবুর্চি মনে হয় তরকারিতে কিসমিস দিছে এবং সে পুরা খাবার খেয়ে নিল।
শ্রীমঙ্গল যখন আমি যেতাম, তখন গাড়ি সাধারণত ভৈরব পার হয়ে উজানভাটি নামে এক রেস্টুরেন্টে থামতো। উজানভাটির খাবার খেয়ে প্রায়ই গাড়িতে আমার অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগতে হত। ক্ষুধা নিবারণ করতে হবে সে কারণে খেতে হত। কোন একবার আমাদের গাড়ির সাথেই ভারতের আগরতলা থেকে আসা একটা গাড়ি থামলো। আমি উজানভাটিতে ঢুকে যে টেবিলে বসলাম সে টেবিলে আগরতলার বাসের যাত্রি এক ভদ্রলোক এবং তার মেয়ে বসলো। তারা উজানভাটির ভেজিটেবল রোল খেয়ে খাবারের এবং হোটেলের এত উচ্ছসিত প্রশংসা করা শুরু করলো আমি কিছু সময় অবাক হয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে ছিলাম।
আমরা বেচে থাকার প্রয়োজনে খাই, খাওয়ার জন্য বাচি না এটা যেমন সত্য, আবার বিভিন্ন উৎসবে অনুষ্ঠানে আমরা আমাদের পছন্দমত খাবারের আয়োজন করি। আজ পহেলা বৈশাখ আমাদের খাবারের মেনুতে ইলিশ ছিলো। সরকারি আইন অনুযায়ি মার্চ এপ্রিল এই দুই মাস ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ, যে নদীর যে অংশটুকুতে ইলিশ পাওয়া যায় সে অংশটাকে এই দুই মাস ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষনা করা হয়েছে। তারপরও বাজারে ইলিশ আছে আমাদের খাবারের প্লেটেও ইলিশ ছিলো। এই সময়টা ইলিশ খাওয়া থেকে বিরত থাকলে আমরা ইলিশের মৌসুমে পর্যাপ্ত ইলিশ সস্তায় খেতে পারবো। আমার জানামতে আফ্রিকার কয়েকটা দেশের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া একটা নদীতে বছরের ছয় মাস তারা কোন মাছ ধরে না এবং প্রতিটা দেশ এই নিয়ম মেনে চলে। তারপর মাছ ধরার মৌসুমে এক সাথে সবাই মাছ ধরে।
আফ্রিকানরা যদি পারে আমরা কেন পারবো না। আসুন আমরা ইলিশ ধরার নিষিদ্ধ সময় মার্চ এপ্রিল ইলিশ খাওয়া থেকে বিরত থাকি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


