somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লেখা টা পড়ে আমি আমার চোখের পানি ধরে রাখতে পারি নাই.. তাই শেয়ার করলাম আপনাদের সাথে...... সময় হলে একবার পড়ে দেখেবেন

০৩ রা জুলাই, ২০১২ বিকাল ৪:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানবতা আর কত নীচু হলে জাতি হবে নির্লজ্জ..!!
ණ স্যার আসিফ নজরুলের কলাম পড়ে খুব কষ্ট লাগলো। শেয়ার করলাম। আমাদের তরুণ সমাজকে শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ান উচিত।
ණ "ক্লাস শেষ করে ফিরছি আমার রুমে। সায়েন্স এনেক্সের নিচতলার লম্বা করিডর ধরে এগোচ্ছি।দেখি ওপরে যাওয়ার সিঁড়ির কাছে মেঝেতে বসে আছেন চারজন মানুষ। দীনহীন, ক্লান্ত শরীর, জরাজীর্ণ পোশাক-আশাক। হাতের পলিথিনের পোঁটলা খুলে চিড়া আর গুড় বের করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের
করিডর দুপুরের খাওয়ার জায়গা না। তাই হয়তো ভীতসন্ত্রস্ত চোখে দেখছেন চারদিক। তাঁদের পাশ কাটিয়ে এগোই। হঠাৎ আমার সন্দেহ হয়। একটু পিছিয়ে এসে বলি, আপনারা শিক্ষক? তাঁরা মাথা নাড়েন। শহীদ মিনারে প্রখর
রোদে বসে আন্দোলন করছেন তাঁরা দুইদিন ধরে। এখানে একটু ছায়া কিংবা দেয়াল ঘেরা জায়গা দেখে খেতে এসেছেন। খোলা একটা ক্লাসরুমে দেখিয়ে তাঁদের অনুনয় করি: প্লিজ, আপনারা ওখানে বসে খান। তাঁরা যতটা খুশি হন,
তারচেয়ে বেশি দ্বিধান্বিত। নিজের পরিচয় দিই, বলি কেউ আপনাদের কিছু বলবে না, ওখানে বসে খান। তাঁরা উঠে দাঁড়ান, আমি পালিয়ে বাঁচি! চিড়া-গুড়
খেয়ে, রোদে পুড়ে, খোলা জায়গায় শুয়ে তাঁরা কত দিন আন্দোলন করবেন?
প্রতিবছর এই সময়টাতে তাঁদের দেখি শহীদ মিনারে। কোনো বছরই তাঁদের আর্তনাদ পৌঁছায় না কারও কাছে। কখনো বক্তৃতা, কখনো গান গেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে কত কিছু স্মরণ করাতে চান তাঁরা। তিনি জাতির জনকের কন্যা,
তিনি শিক্ষকদের দাবি পূরণের ওয়াদা করেছিলেন, তিনিও কেমন করে ভুলে যান তাঁদের! গানের কথা ছাপিয়ে যায় কান্নার জলোচ্ছ্বাসে। হায়রে! এইদেশে প্রধানমন্ত্রীদের কানে কেউ পৌঁছে দেয় না এসব? আমি রিকশায় করে পাশ
দিয়ে যাওয়ার সময় দেখি তাঁদের। একজন মাথায় কম চুলের তৈয়ব স্যার।
একজন ঘুম-ঘুম চোখের মজিদ স্যার। ঘন-কালো চুলের ফিরোজ স্যার,
লম্বা দাড়ির ইসলামিয়াত স্যার। সবাই আছেন এখানে। ৪০ বছর আগে সাভার
প্রাইমারি স্কুলে যাঁরা আমাকে পড়তে শিখিয়েছেন, সে রকম শত শত তৈয়ব স্যার, মজিদ স্যারদের দেখি। বেতন- ভাতা নিয়মিত করানোর জন্য,
সামান্য কিছুটা বাড়ানোর জন্য কতবছর ধরে তাঁরা দূর-দূরান্ত
থেকে ছুটে আসেন শহীদ মিনারে। রাজা যায়,রাজা আসে। বাজারে আগুন লাগে, তাঁদের অভাবের সংসার ক্রমেই ছাই হতে থাকে। কারও কানে পৌঁছায় না তাঁদের আর্তনাদ। তাই হয়তো শিক্ষকেরা অবশেষে রওনা হন প্রধানমন্ত্রীর অফিসের দিকে। তাঁরা শেয়ার বাজার লুট করেননি, মানুষের টাকা মেরে দেননি,
কাউকে গুম করেননি, কারও স্বপ্ন খুন করেননি। তাঁরা বিএনপি না, তাঁরা জামায়াতও না। তাঁদের হাতে ককটেল নেই, লগি-বৈঠা নেই, বাহুতে ঢিল মারার শক্তিও নেই। তাঁরা আগুন দিতে যাননি, গালি দিতে যাননি,
এমনকি স্লোগান দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অফিসের শান্তিও নষ্ট করতে যাননি। তাঁরা শুধু তাঁদের অভাব-অভিযোগের কথা লেখা একটি কাগজ প্রধানমন্ত্রীর
অফিসে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন। পুলিশ তাতেই দানব হয়ে ওঠে। ১৫
মে ২০১২। শাহবাগে জলকামানের তোড়ে রাস্তায় উল্টে পড়েন বৃদ্ধ,
শীর্ণ কিংবা ক্লান্ত শিক্ষক। মোটা লাঠিহাতে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয় কয়েকজনকে। ঘাড় ধরে কংক্রিটের রাস্তায় টেনেহিঁচড়ে তোলা হয় পুলিশের গাড়িতে। তাঁরা আমাদের প্রথম শিক্ষক, তাঁরা আমাদের শিখিয়েছেন
বর্ণমালা, ধারাপাত কিংবা মানুষ হওয়ার মন্ত্র। সেই মন্ত্র নিশ্চয়ই
আমরা মনে রাখিনি। আমাদেরই কেউকেউ বরং বড় হয়ে রাষ্ট্রের কাছে শিখেছে পুলিশ কিংবা পুলিশদের মন্ত্রী হওয়ার মন্ত্র! পুলিশের প্রধান কাজ ক্ষুব্ধ
মানুষের হাত থেকে সরকারকে রক্ষা করা। পুলিশের দ্বিতীয় প্রধান কাজ এসব মানুষকে চিৎকার এমনকি আর্তনাদও না করতে দেওয়া। পুলিশের তৃতীয়
প্রধান কাজ এঁদের হাড্ডি গুঁড়ো করে দেওয়া। জিরো টলারেন্স! পুলিশের মার খেয়ে আহত হয়েছেন কয়েকজন। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে মারা গেছেন
লাঞ্ছিত একজন শিক্ষক।এই শিক্ষক মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ৪১বছর
আগে দেশকে স্বাধীন করার জন্য তিনি যুদ্ধ করেছেন। ৪১ বছর পর তাঁরই গড়া স্বাধীন দেশের পুলিশের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন তিনি। এই দুঃসহ গ্লানি বহন করা হয়তো সম্ভব ছিল না তাঁর! তিনি চলে গেছেন অন্য এক ভুবনে। নিশ্চয়ই তাঁর এভাবে মরে যাওয়া উচিত হয়নি, ভুখানাঙা শিক্ষকদের সঙ্গে থাকাও উচিত হয়নি। তাঁর থাকা উচিত ছিল সমুদ্র জয়ের সমাবেশে কিংবা হরতাল বিরোধী মিছিলে! তাই তাঁর মৃত্যুতে কোনো মন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ
করেননি, বুদ্ধিজীবীরা বিবৃতি দেননি, কেউ আদালতে রুল চাইতে যাননি!
তিনি যখন হাসপাতালে, এমনকি আমাদের ‘প্রলেতারিয়েত’ শিক্ষামন্ত্রী তাঁকে দেখতেও যাননি। এই ‘বোকা’ শিক্ষককে নিয়ে আর কিছু লেখার মতো নেই! আমার বরং ছোটবেলার স্যারদের কথা মনে পড়ছে বেশি। পড়াশোনা না করলে, দুষ্টুমি করলে রাগে কাঁপতে থাকতেন তাঁদের কেউ কেউ। বাংলাদেশে তখনো সুশীল সমাজের জন্মহয়নি। রেগে গেলে তাই শিক্ষকেরা পেটাতে পারতেন আমাদের। বেত দিয়ে পেটানোর সময় তৈয়ব স্যার গর্জে উঠতেন বারবার: মানুষ হবি না তোরা, মানুষ হবি না! শিক্ষকদের মার খেয়ে চামড়া জ্বলে উঠত।মাঝেমধ্যে একটু রাগ হতো। এত মারার কারণও বুঝতে পারতাম না। বহু বছর পর এখন মনে হচ্ছে, আমাদের সবাইকে আরও ভালো করে পেটানো উচিত ছিল তাঁদের! আরও গর্জে উঠে বলা উচিত ছিল: মানুষ হবি না? পুলিশের লাঠির চেয়ে শিক্ষকের বেত অনেক মহৎ। কিন্তু এই রাষ্ট্র কেমন করে যেন বদলে গেছে। শিক্ষকের বেত উঠে যাচ্ছে, পুলিশের লাঠি বাড়ছে! সেই লাঠি পড়ছে তাদেরই একসময়ের শিক্ষকদের ওপর

উপরের লেখা টা পড়ে আমি আমার চোখের পানি ধরে রাখতে পারি নাই.. তাই শেয়ার করলাম আপনাদের সাথে...... সময় হলে একবার পড়ে দেখেবেন
৩৫টি মন্তব্য ৩৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×