মিস্টার রহমান এবং তার মিসেস এর পয়ত্রিশ বছরের সংসার ।
আই লাভ ইউ শব্দটার সাথে কখোনোই তারা পরিচিত নন ।
বিএ পাস টার পর রহমান সাহেবের বাবা বলেছেন
"খোকা তোর জন্য একটা মেয়ে পছন্দ করেছি ,
তুই মত দে
তুই মত না দিলে আমার সম্মান টুকু থাকবেনা !
আমি কথা দিয়ে রেখেছি "
তারপর রহমান সাহেব হ্যাঁ বলে দিলেন ।
শান্তা নামের মেয়েটি পয়ত্রিশ বছর
আগে মেট্রিক পাস করেছিল ।
তখন একটা মেয়ের জন্য মেট্রিক পাস অনেক কিছু ।
শান্তার দাদা নাতনির বিয়ের জন্য
উঠেপড়ে লাগলেন ।
নাতনি বড় হয়ে যাচ্ছে ,
শান্তা না করতে পারেনি ।
রহমান সাহেবের বাবা পরিবার নিয়ে যখন
শান্তাকে দেখতে আসেন ,
শান্তাকে হাটতে বলেন ,
পায়ের আঙুল গুলোকে দেখে নেন ,
কথা শুনেন লাজুক শান্তার ,
কুরআন তেলাওয়াত টা খুব সুন্দর
ছিল শান্তা ,
তাই ভদ্রলোক শান্তাকেই পছন্দ করেছিলেন রহমান নামের ছেলেটির জন্য ।
শান্তার পছন্দ অপছন্দ কেউ
জানতে চায়নি ।
বিয়ের পর বাসর রাতে গুটি সুটি শান্তা বিছানার এক কোনে বসে ছিল ।
রহমান নামের ছেলেটাও লাজুক
দাড়িযে থাকে বারান্দায় ।
ধিরে ধিরে তাদের দুজনের বন্ধুত্ব
তারপর মৌন প্রেম ,
তারপর একে একে পয়ত্রিশটি বছর
রহমান সাহেব সরকারি ব্যাংকে কর্মরত ।
ঘরে ফিরতে ফিরতে দশটা ,
অফিসটা বড্ড দূরে ।
ছেলে মেয়েদের শাসন
করতে করতে শান্তা পয়ত্রিশ বছর
ধরে প্রতিটি সন্ধ্যা অপেক্ষা করেন
বুকে অজানা শঙ্কা নিয়ে ।
রহমান সাহেব যখন উঠোনে পা রাখেন হাতে বাজারের ব্যাগ নিয় ,
তখন মিসেস রহমানের মুখে ইষত্ হাসি ফুটে উঠে !
কিন্তু সেটা সব সময়ই আড়ালে থেকে যায় ।
তারপর এইতো আর কটা দিন পর রহমান সাহেবের অবসর
এখন রাত তিনটা ,
বৃদ্ধ রাহমান সাহেব ভাবেন এখনকার
ছেলে মেয়েরা নাকি তাদের
ভালোবাসা আই লাভ ইউ বলে প্রকাশ করে ।
কিন্তু এই জীবনটা যার জন্য এতো সুখময় তাকেই বলা হলোনা কিছুই
একটু ওঠানো যাক বৃদ্ধা শান্তাকে
শান্তা ?
এই শান্তা ?
একটু উঠবে ?
শান্তা ঘুমোয়
থাক ঘুমোক ।
সারাদিন এতো খাটা খাটুনি এই
বুড়ো বয়সে ।
রহমান সাহেব শান্তার ঘুম দেখেন,
শান্তা ঘুমে কী স্বপ্ন দেখে তা দেখার
চেষ্টা করতে করতে রহমান সাহেবও ঘুমিয়ে পড়েন ।
হঠাত্ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ
চিরনিদ্রা ঘুমের মাঝেই ।
বৃদ্ধা শান্তা পরদিন সকালে রহমান
সাহেবের নিথর দেহ দেখে হয়তো অনেক কাঁদবেন
কিন্তু জানবেন না তার স্বামী শেষ তাকে রাতে "আই লাভ ইউ"
বলতে চেয়েছিলেন !

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


