এই তুই কইথথে আইসত ক কুত্তার বাচ্চা ?
ওই অরে ধইরা বান্ধ বান্দির পুতেরা !
হ ভাই বান্ধাতাসি ।
অই তর নাম কি ?
ভাই আমার নাম শিমুল ।
আমারে আর মাইরেন্না ।
আমি রিকশা চালাই ,
আমার একটা মাত্র রিকশা চুরি হইয়া গেসে তাই এইদিকে আইসি খুঁজতে ।
এই খান** পোলা মিছা কতা কস ক্যান ?
তর বাপের নাম কি ?
দ্যাশ কই ?
ভাই আমি জানিনা বাপের নাম কি ।
যুদ্ধের পরে মায় বড় করসিল মাইনসের বাড়িতে কাম কইরা ।
পাঁচ বছর বয়সে মা মইরা যায় ।
আর কিছু জানিনা ।
ওই এইডা একটা জারজ ।
অরে মাইরা ফালা ।
বাপ মায়ের ঠিকানা নাই ।
অয় চুরি করতে আইসে ,
মিছা কতা কইতাসে অয় ।
অর কোনো রিকশা নাই ।
শিমুলকে গনপিটুনিতে মেরে ফেলা হয় ।
সন্দেহাতিত চোর হিসেবে ,
মৃত্যর পূর্বে সে আধটু পানি পেয়েছিল ।
শুনেছিলাম আল্লাহ ভাল মানুষের মৃত্যর পূর্বে পানির ব্যবস্থা করে দেন ।
শিমুলের মুখে পানি তুলে দিয়েছিলেন রাহেলা ,
নেতা ভাই ।
নেতা ভাই একাত্তরে রাজাকার ছিলেন ,
পাকিস্তান ভেঙে যাওয়ায় আজও উনি ব্যাথিত ।
রাহেলাকেও শারিরিক নির্যাতনের মুখে পড়তে হয় শিমুল কে পানি দেয়ার কারণে ,
গরুর ঘরে রাহেলাকে বেধে রাখা হয় ।
বান্দির বাচ্চা আইজ তর ভাত নাই ।
তুই মাইয়া মানুষ হইয়া অত গুলা বেডার সামনে গিয়া ওই চোরের সামনে গেলি ক্যান ?
আইজ তরে আমি হাসন দিয়া পিডাইয়া রাখতামনা ।
বারটার পর নেতা ভাই ক্লান্ত বোধ করেন বউ পেটানোয় ।
শিমুলের নিথর দেহ পুলিশ এসে নিয়ে যায় ।
রাত একটা ,
ঘুম ঢলে পড়েন নেতা ভাই ।
বাইরে চাঁদ আলো দিচ্ছে ।
কোনো একটা কারণে নেতা ভাইয়ের ঘরে আলো আসেনা ।
নেতা ভাই এসবে ভুক্ষ্রেপ না করেই ঘুমিয়ে পড়েন ।
রাতে একাত্তরের সেই রমনি স্বপ্নে আসে নেতা ভাইয়ের ।
রাজাকার শুওয়েরর বাচ্চা ?
তুই আমার পোলারে মাইরা ফেললি ?
তুই এই আমার ইজ্জ্বত নিসত মনে নাই ?
তর হানাদার বাহিনীর হাতে আমারে তুইলা দিসিলি ভুইলা গেলি ?
শিমুল তর পোলা আছিল ।
নিজের পোলারে মাইরা ফেললি ?
যেই পায়ে তুই আমার পোলার বুকে লাথি দিসত আল্লায় তর ওই পায়ে আর শক্তি দিবনা ।
যেই হাতে তুই আমার পোলারে মারসত তর ওই হাতের সব শক্তি আল্লায় কাইড়া নিক ।
তুই যেই মুখে গালি দিসত আমার চান্দের লাহাইন পোলারে তর ওই মুখে আর রাও থাকবোনা ।
তুই ধুইকা ধুইকা মরবি কুত্তা ।
হঠাত্ ঘুম ভেঙে যায় নেতা ভাইয়ের ।
হাতে পায়ে সাড়া নেই ।
রাহেলাকে ডাকতে গিয়েও পারছেনা সে ।
চাঁদ টা আরও বড় হচ্ছে ,
আলো ভেতরে এসে উপচে পড়ছে ।
সেই আলোয় ভেসে আসে একাত্তরের সেই বিরঙ্গিনার অবয়ব ।
অট্ট হাসিতে ফেটে পড়ে সে ।
যে হাসি নেতা ভাইয়ের কান পর্যন্ত যায়না ।
শুধু অট্টহাসি মাখা অবয়ব টাই নেতা ভাইয়ের চোখে ভেসে আসে ।
©নাসিমুল আহসান

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



