অক্সিজেন থেকে টেক্সটাইল
যাচ্ছিলাম।
রিকশা ঠিক করলাম,
কেমন যেন গুমোট
নিরবতা রাস্তা টা জুড়ে!
গত সন্ধ্যার গল্প বলছি!
রিকশা ওয়ালা চাচা বার বার পেছন
ফিরে দেখছেন।
আমার কেমন যেন পরিচিত মনে হচ্ছিল
মুখটা।
কিন্তু আমি মনে করতে পারছিনা।
বায়েজীদ বোস্তামী মাজার
রোডের সামনে হঠাত
চাচা রিকশা থামালেন।
এবার নেমে আমার
দিকে তাকালেন কিছুক্ষণ।
আর বললেন,
আব্বা আপনে তো এনেক বড়
হইয়া গেসুইন।
আমি অনেক টা বিস্মিত।
আমার এখন কেমন যেন পরিচিত
মনে হচ্ছে মুখটা।
মনে নাই আমারে?
ওইযে আপনে চাইর বচ্ছর
আগে ঢাকা থেইকা চিটাগাং নামসিলেন?
আর আমার রিকশায় উঠসিলেন!
মনে পড়েনাই?
এবার আমি চার বছর
আগে ফিরে গেলাম।
সাল দু হাজার দশ।
ঢাকা গিয়েছিলাম এসএসসি টেস্ট
পরীক্ষায় অংশ নিতে।
ফেরার সময় এই বৃদ্ধের রিকশা পাই।
রিকশা ভাড়া ৫০ টাকা ঠিক
করে উঠে পড়ি।
আমার একটা অভ্যাস
আমি রিকশা ওয়ালা দের
সাথে আড্ডা জুড়ে দেই।
তাদের পরিবার এবং তাদের
টানাটানির সংসারের গল্প
আমাকে টানে।
তখনকার কথোপোকথন।
আমিঃ চাচা বাসা কই?
চাচাঃ শেরশাহ।
আমিঃ কে কে আছে বাসায়?
চাচাঃ বউ আর একটা মাইয়া।
মাইয়াডার অসুখ!
৬০০ টাকার ওষুধ লাগবো।
আইজ মাত্র উঠলো সাড়ে চাইরশ।
এই টাকা দিয়া চাইল কিনমু
নাকি ওষুধ!
আমার শিশু মন কেদে উঠলো ব্যাপার
টা শুনে।
পকেটে এক হাজার টাকা আর কিছু
ভাংতি ছিল সেখান থেকে দুশ
টাকা দেই
রিকশা ওয়ালা চাচা কে!
মজার ব্যাপার কাল সে আমাকে দুশ
টাকা ফেরত
দেয়।
নিতে চাইনি।
কিন্তু উনি যা বললেন
তাতে আমি না নিয়ে পারলাম না।
আব্বা আমি কারও কাছে ঋণী নাই।
খালি আফনেই আমার কাছে পাইতেন
এতো দিন।
টাকা ডা রাইখা দেন।
আমি নিয়ে নেই।
তবে একটা ব্যাপার বুঝলাম না,
এই বৃদ্ধ বয়সে ওনার মাত্র একটা মেয়ে।
হুম মেয়েটার কথা জিগেস
করেছিলাম।
এবার নাকি এসএসসি পাস
করেছে মেয়েটা।
ভাবতে ভালোই লাগে দেশ এগুচ্ছে।
© নাসিমুল আহসান

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




