এবারের নির্বাচনে আমার কাছে কোনো মেয়রপ্রার্থী হিরো না। বিএনপি'র প্রার্থীরা মানুষ পোড়ানোর 'উৎসব'র সরাসরি কারিগর। আর সেমি-বিএনপি'র প্রার্থীরা তাদের সহযোগি। আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা অনেক জায়গায় ভোটারদের 'অধিকার হরণ' করেছে তাই তারাও হিরো না।

স্বৈরাচারী এরশাদের অন্যতম সহযোগি, হাল আমলের বিএনপি'র 'বাসরঘর বিষয়ক উপদেষ্টা' এমাজউদ্দিনের কাছে মানুষ পুড়িয়ে ভোট দেয়ার অধিকার সম্পর্কে জানতে চাওয়া তরুণটি হলো প্রকৃত নায়ক। স্বৈরাচারের এ দালালের কাছে ওই তরুণ জানতে চেয়েছিলো, 'আপনারা মানুষ পুড়িয়ে মারছেন। এখন ভোট দিতে আসছেন কেনো, লজ্জা করে না?'
এ প্রশ্নেই নাকি লজ্জা পেয়েছেন 'বিশ্ববেহায়া'র সাবেক এ সহযোগি। স্যালুট, ওই তরুণকে যিনি 'বিশ্ববেহায়া'র সহযোগিকে লজ্জা দিতে পেরেছেন।
ছাত্রের প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে লজ্জায় রাজধানীর পল্টনে বিএনপি'র বাসরঘরে গিয়ে এমাজউদ্দীন বলেছেন, 'ওই ছাত্র যে ভাষায় কথা বলেছেন, এতে আমার মনে হলো আমার এত দিনের শিক্ষাদান ব্যর্থ হয়েছে। আমি লজ্জাবোধ করলাম।' হ্যাঁ, মি. এমাজউদ্দিন, ছাত্ররা এখন আর আপনাদের জামানায় নাই। যা বলবেন, তা শুনবে ওই মানসিকতার ছাত্রও এখন নাই। ডিজিটাল যুগের ছাত্ররা প্রশ্ন করতে শিখেছে। শিক্ষকদের কথা, রেফারেন্স অনলাইনে সার্চ দিয়ে যাচাই করতে শিখেছে। যদু, মধু, রাম, শাম বুঝানোর দিন অনেক আগেই চলে গেছে। আপনার অনুসারীদেরকেও এটা এখন বলে দিন। না হয় ছাত্রদের প্রশ্নবানে জর্জরিত হয়ে, উত্তর দিতে না পেরে তারাও আপনার মতো 'লজ্জিত' হবে।
ছাত্রদের প্রশ্নবাণে এখন লজ্জা পেয়ে থাকলে পুড়িয়ে মারা ব্যক্তিদের স্বজনদের কাছে মাফ চেয়ে ভবিষ্যতে আর মানুষ না মারার প্রতিজ্ঞা করলেই হয়। আর এ 'বেহায়া শিক্ষক'দের জানা উচিত ছাত্ররা কোনো কিছু জানার জন্য তার শিক্ষকের কাছেই প্রশ্ন করে। আর একজন আদর্শ শিক্ষকের দায়িত্ব হলো, তার ছাত্রের প্রশ্নের জবাব দেয়া। তার জানতে চাওয়ার আকাঙ্খা মিটিয়ে দেয়া। আর যে শিক্ষক তার ছাত্রের প্রশ্নের জবাব দিতে পারে না, সে আসলে কোনো শিক্ষকই না। শিক্ষক নামের কলঙ্ক। শিক্ষকতায় যাদের বিন্দুমাত্র 'যোগ্যতা' নেই, তারা কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হয়েছন এ পজন্মের পোলাপান, ছাত্ররা ঠিকই বোঝে।
অন্যদিকে, আজকের নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘নিকৃষ্ট, ঘৃণ্য, জঘন্য নির্বাচন আয়োজিত হতে এর আগে দেখিনি। এটাকে নির্বাচন বলা যায় না। গায়ের জোরে ব্যালটে ভোট ঢুকিয়ে দেয়া, এটাই ছিলো আসল কথা।' আজকে তার কাছে একটা কথা খুব জানতে ইচ্ছা করে, এরশাদের আমলের আর বিএনপির জামানায় হওয়া 'নির্বাচন' এর চেয়েও অনেক সুন্দর ছিলো? আসলে 'বিশ্ববেহায়া'দের কাছে এর চেয়ে ভালো কিছু আশা করা যায় না। তাইতো বলে, কুকুরের লেজ হাজার বছর বেধে রাখলেও সোজা হয় না। আর এই এমাজদের 'বেহায়াগিরি'র চরিত্রও কখনো ঠিক হবে না।
আহসান কামরুল
২৮.৪.২০১৫ খ্রি.
ঢাকা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


