২০০৫ সালের রমজান মাস। এখনকার 'ইসলামিক স্কলার আণ্ডালিভ' তখনো ব্যরিষ্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। স্বনামে তেমন কেউ চেনেন না। পিতার পরিচয়ে পরিচিতো। বিএনপি, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের প্রায় শেষ সময়। নাজিউর রহমান মঞ্জু'র বিজেপি সেই জোটের 'চার আনা'র শরীক। তাই জোটের 'শরীকপুত্র'র সাধ জাগলো, তিনি সংসদ সদস্য হবেন। তার 'এক আসনের পিতা'র সঙ্গে থেকে তো আর নিজে জোটের টিকিট পাবেন না। বাপের দূর্নীতির টাকায় বিদেশে পড়ে অন্ততো এ জ্ঞানটুকু তার হয়েছে। তিনি হিসাব করলেন। হিসেবে দেখলেন, ভোলা-১ সংসদীয় আসনে তখনকার সংসদ সদস্য মোশারেফ হোসেন শাহজাহান আছেন ধর্মমন্ত্রী হিসেবে। ভাবলেন, পাত্তা পাবেন না। ভোলা-২ আসনে হাফিজ ইব্রাহিম। অঙ্কের হিসাবে দেখলেন, বানরের বাঁশ বেয়ে ওঠার মতো সেখানে তারেকের 'ব্যাম্বু ইজ অন'! কারন, তিনি জানতেন হাফিজ ইব্রাহিমের ভাই গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের তারেকপ্রীতি। ভোলা-৩ আসনের হিসাব মিলাতে পারলেন না। ওই আসনে আছেন মেজর হাফিজ। তিনি তখন খালেদা জিয়ার চরম বিশ্বস্থতায় দুই, তিনটা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। ভোলা জেলার চারটা আসনের মধ্যে তিনি শেষ আসনকেই 'নিরাপদ' মনে করলেন। এ আসনে আছেন, বিএনপি'র এখনকার বিদেশবিষয়ক সম্পাদক, সাবেক ছাত্রনেতা নাজিম উদ্দিন আলম। তার দৃষ্টিতে তিনি কোনো হেভিওয়েট নন। তাছাড়া তিনি হলেন, উড়ে এসে জুড়ে বসা পাবলিক। তাই 'প্যাদানী' খাওয়ার সম্ভাবনাও কম!
'প্যাদানীর সম্ভাবনা কম' মনে করায় তিনি ওই রমজানে ভোলা সদর থেকে প্রায় প্রতিদিন ইফতার, আর তারাবীহর রাজনীতি শুরু করলেন। একদিন, দুই দিন, তিন দিন, কয়েকদিন। এক কান, দুই কানের পর এ খবর গেলো নাজিম উদ্দিন আলমের কানে। তিনি তার আসন নিয়ে একরকম নিরাপদই ছিলেন। কারন, আওয়ামীলীগের রাজনীতি এখনকার এম.পি আব্দুল্যাহ আল ইসলাম জ্যাকব, আর আরেক নেতা জয়নাল আবেদীন'র মধ্যে বিভক্ত ছিলো। তারা দু'জনেই অনঢ় দলের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য। চলছে সমাবেশ, পাল্টা সমাবেশ। উভয় পক্ষের সমাবেশে ইট, পাটকেল ছোড়াছুড়ি! এ অবস্থায় আমকুড়াচ্ছেন বিএনপি।
নাজিম উদ্দিন আলমের এ 'বাড়া ভাতে ছাই' দিতে এসেছেন তখনকার পার্থ। তিনি করছেন 'জনসংযোগ'। এলাকায় ঢালছেন স্বৈরাচারের মন্ত্রী থাকাকালীন বাপের দূর্নীতির টাকা। সহ্য করলেন না না.উ আলম। রমজানের 'রাজনৈতিক তারাবীহ'র নামাজ পড়ে বের হয়ে থানা রোডে আসলেই শুরু হলো 'প্যাদানী'! গাড়ির কাঁচভাঙ্গা, জুতাপেটা। যেমনটা খেয়েছিলো বি.চৌধুরী, মাহি বি. চৌধুরী। আমি তখন চরফ্যাশন সদরে থাকি। ইন্টারমিডিয়েটে পড়ালেখার সুবাদে। ছোটো ভাই আকরাম ফোন দিয়ে জানালো। পার্থর বিষয়ে তার উদ্বেগের কারন, বিএনপি বিরোধী রাজনীতির কারনে। আমরা তখন একধরনের খুশি ছিলাম, বিএনপির 'বাড়া ভাতে' পার্থর 'ছাই' ঢালার জন্য! তাই এ খবর শুনে থানায় ফোন করলে সেই যাত্রায় ছাত্রদলের মাহমুদ গ্যাংদের হাতে আরো বড় ধরনের 'প্যাদানি', আর জুতাপেটার হাত থেকে রেহাই পেয়েছেন। অবশ্য এর কিছুদিন পরে আবার ভোলা সদরে ছাত্রদলের 'নেতা' মাহমুদকে সেই 'প্যাদানি'র জবাব দেয়া হয়েছিলো। পার্থ তখন গুরুত্বপূর্ণ কেউ না হওয়ায় বিষয়টা মিডিয়ায় তেমন একটা আসেনি। জাতীয় রাজনীতি দূরে থাক, বিএনপি, হেফাজতি জোটে এ 'মূর্খ স্কলার' যদিও এখনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ কেউ নন।
প্যাদানীর পর চুপ থাকলেও বাবা মারা যাওয়াটাই তার জন্য শাপে বর হয়! তার বাবা, আর বিএনপি, জামায়াতের ধর্মমন্ত্রী শাহজাহান না থাকায় গতো ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভোলা-১ আসনে চারদলের টিকিট পেয়ে এম.পি! কাজে না থাকলেও, খালি কলসির মতো বেশি বাজার কারনে সরকার বিরোধি অংশের কাছে 'জনপ্রিয়তা' পান। আর অনলাইনে ছাগু সম্পদ্রায়ের করুণা পাওয়ার পর তখনকার এ ব্যরিস্টার হয়ে ওঠেন 'ইসলামিক স্কলার'। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে লেখাপড়াবিহীন এ 'স্কলার' ফেসবুকে বিভিন্ন ফতোয়া দেন! ছড়ান ধর্মীয় উন্মাদনা। কারন তিনি জানেন, বিএনপি, জামায়াতের লোকদেরকে কিভাবে উন্মাদ করতে হয়। আর তিনি সে দিক থেকে 'স্বার্থক'।

রসূল, রাসূলুল্লাহ (সা.), হযরত আবু বকর (রা.), হযরত আবু হোরায়রা (রা.) এর নামের অর্থ ইত্যাদি বিষয়ে আবদুল গাফফার চৌধুরির মন্তব্যের বিষয়ে 'আণ্ডালিভ স্কলার' ফেসবুকে তার সবশেষ ফতোয়া 'প্রসব' করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, 'জনাব লতিফ সিদ্দিকি যখন ইসলাম নিয়ে কটূক্তি করেছিল তখন বলেছিলাম যে এই লোককে জুতা মারলে মিনাতে শয়তানকে পাথর মারার মত সাওয়াব হয়ত হবে না, তবে কিছু সাওয়াব অবশই হবে। এখন এই সংবাদটি পরার পর আমার মনে হছে যে জুতা মারার বেপারটা গাফফার সাহেব এর ওপরও প্রযোজ্য...।। যে যত বড় কলামিস্ত, লেখক, রাজনীতিবিদ বা যাই হোক না কেন, ইসলাম কে অপমান করলে সে সবচেয়ে বড় অপদার্থ, মূর্খ । আপনি দেশে আসুন, বুঝবেন যে জনগন আপনাকে মন থেকে কতখানি ঘৃণা করে...। it is fine to be secular but if you insult my religion I shall insult you and become secular again......NO matter who you are...'। 'আণ্ডালিভ পার্থ'র এ লেখাটি ভুলে ভরা বিধায় হুবহু তুলে দিলাম। তাকে প্রথমে বলতে চাই, যে এখনো ফেসবুকে ঠিকমতো একটা স্ট্যাটাস লেখার মতো যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি, সে আবদুল গাফফার চৌধুরিকে 'জুতা মারা'র মতো বিষয়ে বলার ধৃষ্টতা দেখায় কিভাবে? আমারতো মনে হয়, আবদুল গাফফার চৌধুরির পায়ের জুতা টানার যে যোগ্যতা লাগে, সেটা এখনো হেফাজতের এ 'নয়া স্কলার' অর্জন করতে পারেননি।
কোনো বিষয়ে লেখার আগে ওই বিষয় সম্পর্কে আগে জানতে হয়। তাই আমি আবদুল গাফফার ভাইর '০০৪৪২০৮৯৫.....৫' নম্বরে কয়েকবার ফোন দিয়ে তা বন্ধ পেলাম। তাই তার কাছ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিতো জানা সম্ভব হয়নি। তারপরেও আবু বকর (রাঃ), আবু হোরায়রা (রা.) এর নামের অর্থ সম্পর্কে আবদুল গাফফার যে মন্তব্য করেছেন, খাদিজাতুল কোবরা (রা.) সহ অন্যান্য সম্মানিতো সাহাবীদের নাম পরিবর্তন না করা সংক্রান্ত যে তথ্য দিয়েছেন, তা মিথ্যা হলে তার জবাব দেয়ার জন্য শুধু দেশের না, বিশ্বের ইসলামিক স্কলাররা তার জবাব দিতেন, চ্যালেঞ্জ গ্রহন করতেন। কিন্তু আমার জানামতে এমন কেউ তার কথার জবাব দেননি। কারন, তারা জানেন আরবী ভাষার অর্থ। আর সে কারনে তার এসব কথার জবাব দেয়া কোনো স্কলারের পক্ষে 'সম্ভব' হয়নি। কিন্তু মদখোর, মিথ্যাবাদী এ 'স্কলার'রা না জেনে, যুক্তিতে না এসে 'অনুভূতি'র জোয়ারে ভেসে ফতোয়া 'প্রসব' করেন! উন্মাদনা ছড়ান। রমজান, বা কোনো বিশেষ উপলক্ষ্য এলেই তাদের সেই জুতাপেটার কথা মনে পড়ে যায়! তাই তারা ছাত্রদলের জুতাপেটার শোধ নিতে চান যুক্তির বিপরীতে।
তাদের এ ফতোয়ার জেরে অতি উৎসাহী, অশিক্ষিতো কিছু 'ধার্মিক, বাঁশেরকেল্লা (বিকে) গ্যাং মেম্বার' ফেসবুকে আবদুল গাফফার নামের বাংলা অর্থ 'শুয়োরের আব্বা' বলে উন্মাদনা ছড়াচ্ছেন। এ অশিক্ষিতোরা কি জানে না গাফফার হচ্ছে আল্লাহর নাম। এ শব্দের অর্থ যারা 'শুয়োর' বলছেন, তারা কিন্তু শিরক, বা আল্লাহর নামের অপমান করছেন না! এতে অনুভূতিওয়ালা এ হুজুগে বাঙ্গালি 'স্কলার'দের অনুভূতিতেও আঘাত লাগে না। কারন, তাদের বিষয়ে অনভূতো হলে কপালে জুতাপেটা আবারো জুটতে পারে। তাই বলবো, যুক্তির জবাব যুক্তির মাধ্যমে না দিয়েই যারা আল্লাহর নামের অর্থ শুয়োর বলেন, আবদুল গাফফারের কল্লা কাটা, বা জুতা মেরে সাওয়াব অর্জনের ফতোয়া দেন, তারা আসলেই একেকটা শুয়োরের বাচ্চা।
আহসান কামরুল
০৮.০৭.২০১৫ খ্রি.
ঢাকা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


