ফার্মগেট থেকে বাস পাওয়া আর চাঁদে যাওয়ার টিকেট পাওয়া একই কথা। দুটোতেই বিজয়ী হবার মতো আনন্দ থাকে। দুপুরের দিকে ঠেলাঠেলি ব্যাপারটা একটু কম থাকে। যাই হোক উঠলাম বাসে। আমার আবার সিট ভাগ্য খুব খারাপ। বাসে উঠে সিট পাইনা। আজকে পেলাম। একদম শেষের সরলরেখা সারিতে।
আমার সামনের সিটের পরের সিটে বসেছিল একজোড়া কপোত-কপোতী । তাদের আচরণ দেখে নিজেরই সন্দেহ হচ্ছে আমি আসলে কোথায় আছি? লোকাল বাসে নাকি পার্কে। এরকম লদকা লদকি সাধারণত আমরা পার্কে দেখেই অভ্যস্ত, লোকাল বাসে না। যাই হোক আমি হেডফোনে গান শোনায় মনোযোগী হওয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু সম্ভব হচ্ছে না। অন্যরাও এদের উপর খুব বিরক্ত কিন্তু কেউ কিছু বলছে না। আবার অনেকেই ব্যাপারটা যাত্রাপথে এন্টারটেইনমেন্ট হিসেবে নিচ্ছে। হঠাৎ আমার নিচের দিকে চোখ গেল। এরা যে এতক্ষণ বাদাম চিবুচ্ছে আমি খেয়াল করিনি। বাদাম খেয়ে খেয়ে সুন্দরমতো তার খোসা খুবই সূক্ষ্ম হাতে বাসের ভিতরেই ফেলছে । ফলে এই খোসা মানুষের পারায় পারায় সারা বাসে ছড়াচ্ছে। আমি যেহেতু পিছে বসেছি তো এক নজর সোজা সামনে তাকালাম, দেখলাম খোসার ছড়াছড়ি নিচে। ভাবছি কয় কেজি বাদাম খেলো এই দম্পত্তি! হেল্পার ভাড়া নেয়ার সময় এরকম বাদামের খোসা দেখে সেও কিছু বলল না স্বাভাবিকভাবে। আজকাল তো আবার স্টুডেন্টের অনেক ক্ষমতা। কিছু হলেই থাবড় (থাপ্পর) দিয়ে বসে।
এদেরকে কিছু বলার জন্য অনেকক্ষণ ধরেই আমার উশখুশ লাগছে। কিছু না বলে যেন শান্তি পাচ্ছি না। শুধু মনে মনে চাচ্ছি এরা যেন আমার আগে না নামে বাস থেকে।
আমি নামার সময় ছেলেটির কাঁধে টোকা দিয়ে বললাম, এক্সকিউজ মি, বাদাম খেয়ে এখানে এভাবে খোসা গুলো ফেলানো কি ঠিক হয়েছে?
ছেলের হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে সে খুব লজ্জা পেয়েছে ব্যাপারটা বলাতে। কিন্তু সাথেই সাথেই তার গার্ল ফ্রেন্ডের কড়া জবাব, এগুলো হেল্পার সাফ করবে।
আমি শুধু একবার মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আবার ছেলেকে উদ্দেশ্য করে বললাম, এই আপনারাই বলেন লোকাল বাস অপরিচ্ছন্ন! আপনারাই বলেন আমাদের দেশ টা অপরিচ্ছন্ন!
এইটুক বলেই নেমে আসলাম। আমার যেন ঝাল মিটছিল না। ইচ্ছে হচ্ছিলো বাসটাকে আবার থামিয়ে আরও দুটো কটু কথা শুনিয়ে দেই। ব্যাটারা প্রেম করার আর জায়গা পায় না। এখন পার্ক ছেড়ে লোকাল বাসে চরে বসেছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



