
মনের শুদ্ধতম সময়ে নরম ঘাসের কথা মনে পড়ল। নরম সবুজ ঘাস। যে ঘাসে পা ডুবে যায়। পায়ের পাতায় লাজুক শিশিরের সুড়সুড়ি মাখা ভালোবাসা। যে ঘাসে মন তার বয়স হারিয়ে আবার নবজাতক। যে ঘাসে হাত ধরে হেটে চলে সদ্য কৈশোর পার হওয়া প্রেমিক যুগল। যে ঘাসে গোল হয়ে বসে বাদাম খাওয়া; যে ঘাসে তোমার আমার সন্তানেরা খুনসুটিতে মাতে।

মনের শুদ্ধতম সময়ে বৃষ্টি ভেজা এক রাস্তা মনে পড়ল। সামনে ফেনিল সমুদ্র ছিল। তোমার হাতে আমার হাত ছিল। ইলশেগুঁড়িতে; টুপটাপ জমে থাকা পানিতে স্পন্দন। গরম কফির মগ; মুগ্ধ চোখে তোমায় দেখা। ভেজা বাতাসে নিঃশব্দ সুর ছিল; তোমার চুল ছুঁয়ে ভালবাসা, বিষণ্ণ ভাললাগা!
মনের শুদ্ধতম সময়ে অনেকের মাঝে একা বসে থাকা এক যুবকের কথা মনে পড়ল। একটা একটা করে হৃদস্পন্দন গুনে অপেক্ষা। করুণাময়ের কাছে করজোড়ে প্রার্থনা তোমার জন্যে; আমাদের প্রথম সন্তানের জন্যে। তারপর দরজার ওপার থেকে একটুকরো স্বর্গ নিয়ে ফিরলে তুমি; আনাড়ি হাতে প্রথমবার আলিঙ্গন, প্রথম দেখা; ভাললাগা, ভালবাসা।
মনের শুদ্ধতম সময়ে তোমাদের মনে পড়ল। মমতার স্পর্শ, আমার জীবন জুড়ে; দুরু দুরু বুকে আমার পথ চেয়ে থাকা তোমরা। শুধু আমার জন্যে মন খারাপ করে থাকা তোমরা। শুধু আমার জন্যে প্রিয় খাবারগুলো জমিয়ে রাখা তোমরা। আমি বাড়ি ফিরলে আমাকে জড়িয়ে থাকা তোমরা।