somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সিলেটি প্রবাদ-প্রবচন ও এর ব্যাখ্যা

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ ভোর ৬:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সিলেটের প্রবাদ প্রবচনে রয়েছে কয়েক হাজার বছরের লোক সংস্কৃতির ঐতিহ্য। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় অনেক প্রবাদ-প্রবচন আছে। প্রবাদ-প্রবচন'কে সিলেটীরা আঞ্চলিক ভাষায় ডাকের কথা, ছড়াকাটা, সিল্লক ইত্যাদি নামে অভিহিত করে থাকে। এ সব প্রবাদ-প্রবচন সিলেটের গ্রামাঞ্চলেই বেশী প্রচলিত। সিলেটের আঞ্চলিক প্রবাদ-প্রবচন মুখে বলা যত সহজ, লিখতে গেলে তা কিন্তু সহজ নয়-বেশ কঠিনই মনে হয়।

আধুনিকতা, শহরকেন্দ্রিকতাসহ আরও বিভিন্ন কারনে সিলেটের এই সুপ্রাচীন ঐতিহ্য আজ অনেকটাই বিলুপ্তির পথে আছে। যাক, এখানে সিলেট অঞ্চলের কতিপয় প্রবাদ-প্রবচনের উল্লেখ করা হল। (এই প্রবাদ প্রবচনগুলো কিছু ইন্টারনেট থেকে কিছু বই/ ম্যাগাজিন থেকে সংগ্রহ করা)

► ধরা বান্ধার হাই (জোর-জবরদস্তি করে বরের অমতে বিয়ে), রাইত পোয়াইতে নাই (কোন মতে রাত কাটিয়ে ভোর বেলাতে বর দেয় চম্পট ।
[জোর-জবরদস্তি করে কাউকে কোন কাজ করাতে গেলে বিপত্তি ঘটে]
► নিজর কাপ্‌ড়ে (শাড়ীতে) হেঙ্গা বওয়া (বিয়ে করা)
[অতি আগ্রহী হয়ে যেচে গিয়ে অযাচিতভাবে কোন কিছুতে নিজেকে জড়ানো]
► ফেন্‌ (ভাতের মাড়) দিয়া ভাত খাইয়া , গপ্ মারে দই
[আত্মতুষ্টি সাধনে অতিরঞ্জিতভাবে নিজেকে উপস্থাপনের প্রয়াস]
► চোরে চোরে আলি (বন্ধুত্ব), এক চোরে বিয়া করইন্ আরক্ চোরর্ হালি (শালিকা)
[চোরে চোরে মাসতুতো ভাই]
► ভাত খাও হাইঅর (স্বামীর), আর ক্কাউয়া (কাক) ডাকাও লাঙ্গরর
[আপন-জনের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থেকে আপনজনকে অবজ্ঞা করে অপরজনের তুষ্টি সাধনে সদা তৎপর]
► চেঙ্গও (টাকি মাছ) উজাইন, বেঙ্গও (ব্যাঙ) উজাইন, খইয়া (খলসা) পুঁটি তাইনও উজাইন
[যোগ্যজনের সঙ্গে অযোগ্যজন তাল দিয়ে আষ্ফালন করা]
► ছাগিয়ে চেনাইতে (মুত্র ত্যাগের সময়) ধরইন্ না, পরে তিন বন্দ (মাঠ) দৌড়াইন্
[উপযুক্ত সময়ে কর্ম তৎপর না হলে অসময়ে কর্মতৎপর হলে বেশ বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়]
► দা'র বালি, কুড়ালর হিল (শিল), বান্দীর লাত, গোলামর কিল
[অধ:স্তনদের যুৎসই শাসনে রাখার দরকার আছে]
► চোরের মা'র বড় গলা, আর মাগে দুধ আর কলা
[অপরাধীর পক্ষ নিয়ে গলাবাজি করে অপরাধ ধামাচাপা দেয়ার প্রয়াস]
► চরে (দ্বারে দ্বারে ঘোরে) ফকির মরে না
(অলসভাবে বসে না থেকে পরিশ্রম করলে সুফল পাওয়া যায়]
► মাউগোর (স্ত্রীর) কথা চলবায়, আগন (অগ্রহায়ন) মাসে হকি (ফকির) অইবায়
-স্ত্রীর কু পরামর্শে চললে কপালে দু:খ আছে ।
► কার গরু, কে ধুমা (ধোয়া) দেয়
-নির্ধারিত দায়িত্ব ছাড়া কেউ কাজ করতে চায় না ।
► বাড়ি কান্দার (নিকটের) কুত্তায়ও বেউকায় (ঘেউ ঘেউ করে)
-নিজ বাসস্থানে থেকে নিজেকে শক্তিশালী ভেবে হম্বি দম্বি করা ।
► তোরও বালি, মোরও বালি
-উভয়ের জন্য সম অবস্থা বিরাজমান অর্থাৎ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ।
১৫। খালি দোয়ায় পোয়া (পুত্র সন্তান) অয়না, তনাইর (শরীরের) জোরও লাগে
-দোয়ার সাথে চেষ্টা তদবির ও পরিশ্রম প্রয়োজন ।
► হুরু (ছোট) পোয়া, বড় পোয়ার বাপ
-ইচঁড়ে পাকা ।
► আগিয়া হছইননা (মল ত্যাগ করে পানি দিয়ে পরিষ্কার না করে), পাদিয়া (বায়ূ ত্যাগ করে) যাইনগি গলা পানিত্‌
-অত্যাবশ্যক কাজে তৎপর না হয়ে অপ্রয়োজনীয় কাজে অতিতৎপর হওয়া।
► মাতিলে মাত্‌রা (বাঁচাল) না মাতিলে আবরা (বোবা)
-কথা বললে বাঁচাল, আবার না বললে বোবা হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ।
► নয়া যোগী তাতো (আসনে) উঠ্‌ছইন
-ক্ষুদ্র অবস্থান থেকে হঠাৎ করে বৃহ্ত্তর অবস্থানে এসে অহংকারভরে আষ্ফালন করা ।
► দশ্‌র মুখো হাখরাইদ্‌ (সংক্রান্তি)
-দশ চক্রে ভগবানভূত ।
► ঘাইল (ধান ভানার কাঠের তৈরী জিনিস) আন্‌মান্‌ (উপযুক্ত) ছিয়া (ধান ভানার জন্য কাঠের তৈরী শক্ত দন্ড যার অগ্রভাগে লোহার রিং থাকে ), জাতে জাতে বিয়া
-সমগোত্রের মধ্যে সম্মিলন ।
► ঘরো নাই ঘটি লোটা, কোম্‌রো বান্ধা চাবির ঝুটা
-অপ্রয়োজনীয় জিনিস প্রদর্শন করে অহমিকা প্রকাশ ।
► কুত্তায় বাচ্চা করে, হিয়ালর (শিয়ালের) পেট ভরে
-একজনের পরিশ্রমের ফসল অন্যজন ভোগ করে ।
► হম্‌কে (সামনাসামনি) পড়লে ভাইভাই, আফরকে (অগোচরে) হালা (গালি অর্থে)
-সামনা-সামনি দেখা হলে যেন বন্ধু, পরোক্ষে কিন্তু শত্রু ।
► কার গরু, কে ধুমা (ধোঁয়া) দেয়
-নির্ধারিত দায়িত্ব ছাড়া কেউ কাজ করতে চায় না
► আউওয়া (বোকা) চাড়াল (চন্ডাল) ভুকাডুম, হারা রাইতে (সারা রাতে) এক ঘুম
-দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তি
► আতো (হাতে) বৈটা, ঘাটো নাও
-শেষ বিদায়ের জন্য প্রস্তুত ।
► হইয়ে (শেষ পর্যন্ত) আইলায়, বুনাইরে (ভগ্নিপতি) আরাইয়া (হারায়ে)
-অসময়ে শেষ পর্যন্ত প্রত্যাবর্তন ।
► ভালা মাইন্‌স্‌রর (ভদ্রলোকের) জুতা বইও (বহন করিও), কমিন্দর (দুর্জনের) পাগড়ীও না (দুর্জনের) পাগড়ীও না
-দুর্জনের সংস্রব পরিত্যাজ্য ।
► আল (হাল) নাই বেটায় ভুঁই জুড়ে, দাত নাই বেটিয়ে হুকইন (শুটকি) পুড়ে
-যে যেটার জন্য উপযুক্ত নয়, সে সেটার জন্য অনাবশ্য চেষ্টা করে থাকে ।
► মাইনষ্‌র কুটুম আওয়া-যাওয়ার মাধ্যমে সম্পর্ক গভীর ও দৃঢ়তর হয় ।
-পারস্পরিক আসা-যাওয়ার মাধ্যমে সম্পর্ক গভীর ও দৃঢ়তর হয় ।
► কম আক্‌লে (বুদ্ধিতে) তরে (পার পেয়ে যায়), বেশী আক্‌লে মরে
-অতি চালাকের গলায় দড়ি ।
► যার লগে (সঙে) যার মজে মন, বিট্‌ (বিষ্টা) অইলেও চন্দন
-প্রেম অন্ধ ।
► যার বিয়া তার খবর নাই, আরি পরির (পাড়া প্রতিবেশীর) ঘুম নাই
-যার কাজ সে কিন্তু নির্বিকার, অন্যদের তাগিদ বেশী ।
► ইজ্জত যায় না ধুইলে, খাইসলত্‌ (অভ্যাস) যায় না মইলে (মরলে)
-কয়লা ধুইলে ময়লা যায় না ।
► ঈদর চান (চাঁদ) না মক্কার তেতই (তেতুল), অতদিন আছলায় কই
-বহুদিন পরে দেখা হলে মনের অভিব্যক্তির প্রকাশ ভঙ্গি ।
► অমৃতর মা'র মুখখানি মিটা, হারা দিন (সারাদিন) কাম করাইয়া দেয় আধখানি (অর্ধেক) পিঠা
-মিষ্টি কথায় কাজ করায়ে ন্যায্য পারিশ্রমিক না দেয়া ।
► উচার উচ্‌, নীচর নিচ্‌, মা দেখি ঝি (কনে) আনিছ
-ভাল বংশের মেয়ে বিয়ে করা উত্তম ।
► আতুর বিবি চতুর অইলা, ব লার (বোলতার) কামড় খাইয়া
-বিপদে পড়লে অলসও পরিশ্রমী হতে বাধ্য ।
► লউ (রক্ত) কাটলে দু'ফাঁক (ছিন্ন) অয়্‌ না
-রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন করা যায় না ।
► উদান (সকাল) মাদান (মধ্যাহ্ন) বাছিয়া, কাম কর নাছিয়া
-সময় বুঝে সঠিক কাজ করা ।
► মাইর (মায়ের) ঘরে থাকা, আর হাইরর (স্বামীর) ঘর করা এক না
-স্বামীর সংসারে একজন রমণীকে বিভিন্ন ধরণের পরিস্থিতির মোকাবেল করে নিজেকে খাপ-খাইয়ে নিতে হয় ।
► হাজ্‌মা পুয়ার (সদ্যজান সন্তানের) মাথায় ভরন (গাছ গাছড়ার পাতা দিয়ে তৈরী ঔষধের প্রলেপ) দেওয়া বালা নায়
-তাড়াহুড়া করে সব কিছু বিবেচনা না করে দ্রুত প্রাপ্তির নিমিত্তে কাজ করলে প্রাপ্তির তুলনায় বিপর্যয়ই ঘটে ।
► উরাত (উরু) দেখাইয়া বরমপুত্র (ব্রহ্মপুত্র নদ )পার
-প্রলোভন দেখায়ে কাজ উদ্ধার ।







সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ ভোর ৬:৩১
৭টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×