somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সহনশীলতা

১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ৭:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সারা বিশ্বময় আজ অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছে । সকল সাধারণ মানুষের সাথে সাথে আল্লাহর অলীগনও অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছেন । সমস্ত মানুষ যখন অসহিষ্ণু হয়ে পড়েন , তখন বিশ্বশান্তি কল্পনা করাও একটি অলীক কল্পনা ।



প্রিয় বিশ্ববাসী , আমি এক অতি সাধারণ , আর আমি নিজেও অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছি । কিন্তু আমি এখন উপলব্ধি করছি , অসহিষ্ণু আচরণ দ্বারা বিশ্বে শান্তি আসবে না । আমাদের সবাইকে সহিষ্ণু বা সহনশীল হতে হবে । আর আল্লাহর অলীদের অসহিষ্ণু হওয়ার বিষয়টা মহান আল্লাহর ইচ্ছাধীন । যেমন - রাসুল সাঃ প্রথম দিকে নামাজের ভিতরে থেকেই সালামের জবাব দিতেন , কিন্তু পরবর্তীতে তিনি বলে গিয়েছেন যে , নামাজ হলো ধ্যান , অতএব নামাজের ভিতরে সালামের জবাব দেওয়া যাবে না । প্রিয় বিশ্ববাসী , পৃথিবীর সবাইকে এবং সকল নেতৃবৃন্দকে সহিষ্ণু হতে হবে , আর তাহলেই পৃথিবীতে শান্তি আসবে ।



অতঃপর এটাও ঠিক যে , কিছু বিষয়ে আমাদের অবশ্যই প্রতিবাদী হতে হবে , আর এই বিষয়গুলিতে আমরা প্রতিবাদী না হলে , পৃথিবীতে শান্তি আসবে না । বিষয়গুলি হচ্ছে ঐ সমস্ত অন্যায় কাজ , যা পৃথিবীর প্রায় সকলের নিকট অন্যায় । এই অন্যায় বিবেচনার ক্ষেত্রেও আমরা সহনশীল । কারণ আমরা গোষ্ঠীগত কোন বিষয়কে অন্যায় বিবেচনা করছি না , বরং আন্তর্জাতিকভাবে যেসব বিষয় অন্যায় , তাকে অন্যায় বলছি । যেমন - চুরি , ডাকাতি , মানবাধিকার লংঘন ইত্যাদি ।



প্রিয় বিশ্ববাসী , ইসলামি সভাগুলিতে এবং সারা বিশ্বের অধিকাংশ ইসলামি দলগুলো বা গোষ্ঠীগুলো আজ চরমভাবে অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছে , আর শুধু একারণেই বিশ্ব আজ চরমভাবে অশান্তিময় হয়ে গেছে । আমাদেরকে অবশ্যই এর বিনাশ সাধন করতে হবে , অর্থাৎ আমাদেরকে চরম সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে ।



ভিন্নমত থাকবেই এবং অবশ্যই থাকবে । আমরা কৌশলে ভিন্নমতকে এড়িয়ে চলবো এবং বলবো , এই বিষয়ে আমরা ভিন্নমত পোষণ করি বা বলবো , এটাকে আমরা লঘু অন্যায় মনে করি অথবা গুরুতর অন্যায় মনে করি , কিন্তু হাজার সত্য মনে হলেও আমরা কাউকে সরাসরি কাফির বলবো না । সর্বোচ্চ অপরাধ করলে আমরা এভাবে বলতে পারি যে , এমন কাজ কোন ব্যাক্তি করলে , তার কাফির হওয়ার সম্ভাবনা থাকে , কিন্তু কখনোই ব্যাক্তির নাম ধরে সরাসরি কাফির বলা যাবে না । কারণ এটা করলে বিশ্বশান্তি চরমভাবে বিঘ্নিত হবে ।



ডঃ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আমি সকল বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন করি । কিন্তু আমি চাই তিনিও সহনশীল হউন এবং মহান আল্লাহ তাকে সহনশীল বানিয়ে দিন । তা না হলে বিশ্বশান্তি বিঘ্নিত হবে । শুরুটা যেন এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী থেকেই শুরু হয় । মহান আল্লাহ যেন তাকে কবুল করেন । তাছাড়া ডঃ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী যদি শুরু থেকেই সর্বোচ্চ সহনশীলতার পরিচয় দিতেন , তবে তাকে বিরোধীরা কথা বলার সুযোগই দিতো না এবং বাংলাদেশ থেকে সুফিবাদ ইসলামকে উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হতো । কিন্তু আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই সুফিবাদ ইসলাম অবশ্যই কিয়ামত পর্যন্ত কায়েম থাকবে ইনশাআল্লাহ ।



প্রতিটা দেশে সহনশীলতার বিষয়ে কঠোর আইন থাকা উচিত । যেমন - কেউ অপর কাউকে সীমাহীন দোষারোপ বা অত্যন্ত খারাপ শব্দে গালাগাল করতে পারবে না এবং নিষেধ শব্দগুলোও নির্দিষ্ট করে দেওয়া উচিত । আইনটির নাম হতে পারে সহনশীল আইন । তবে বাংলাদেশের মতো দেশে এমন আইন সরকারই করতে চাইবে না , কারণ এমন আইন করলে সরকারের লোকেদের মুখে লাগাম লাগাতে হবে । কিন্তু উন্নত দেশগুলোতে এমন আইন বাস্তবায়ন সম্ভব । অতঃপর মহান আল্লাহ সব দেশকে এমন আইন বাস্তবায়নের তাওফিক দান করুন ।



প্রিয় বিশ্ববাসী আমরা যদি কাউকে পূর্ণভাবে জাহান্নামের উপযুক্ত মনে করি , তবুও বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে কাউকে জাহান্নামি সম্বোধন করবো না । কারণ এতে বিশ্বশান্তি চরমভাবে বিঘ্নিত হবে । যেহেতু এটা ইন্টারনেটের যুগ , তাই আমাদের পূর্ণভাবে সহনশীল হতে হব । যদি আমরা সবাই চরমভাবে অসহিষ্ণু হয়ে পড়ি , তাহলে বিশ্বময় অশান্তি ছড়িয়ে পড়বে এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় চলে আসবে । মহান আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন এবং আমাদেরকে সহনশীল হওয়ার তাওফিক এনায়েত করুন । আমীন ।



( ডাঃ আকন্দ ) ।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাও সে তুং-এর 'পিপলস কমিউন' ব্যবস্থা যেভাবে ৩-৪ কোটি মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬



চীনের আধুনিকায়নে মাও সে তুং-এর নেওয়া সবচেয়ে বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরীক্ষাগুলোর একটি ছিল কৃষির সমবায়িকরণ এবং "পিপলস কমিউন" ব্যবস্থা, ১৯৫০-এর দশকে শুরু হওয়া এই ব্যবস্থার মূল... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার রিসাচ পেপার পাবলিশভ

লিখেছেন মোঃ মােজদুল ইসলাম, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:৩৪

Hailstorm, Rain, Dust The effect of Climate Change in Bangladesh
XXXX
IOSR Journal of Environmental Science, Toxicology and Food Technology
2319-2402
International Organization of Scientific Research
www.iosrjournals.org
Open Access Publishing
Blind Peer Review Process
Indexed Refereed Journal
20
06
10.9790/2402-2006020106 ...বাকিটুকু পড়ুন

সংস্কৃতি হারালে, বাংলাদেশ শুধু মানচিত্রে থাকবে- আত্মায় থাকবে না

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

সংস্কৃতি হারালে, বাংলাদেশ শুধু মানচিত্রে থাকবে- আত্মায় থাকবে না

একটি জাতিকে ধ্বংস করতে সব সময় যুদ্ধ লাগে না।
তার ভাষা, সাহিত্য, গান, নাটক, ইতিহাস আর সংস্কৃতিকে ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন করে দিলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুমুখোচিন্তা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:১৬

সব মৃত্যু গণনায় আসে না। রাজনৈতিক সহিংসতার একটি পুরনো নিয়ম আছে। মৃত্যু সমান মৃত্যু নয়। কোনো মৃত্যু পত্রিকার প্রথম পাতায় যায়, কোনো মৃত্যু জয়পুরহাটেই থেকে যায়। এই বাছাইটা দৈবাৎ হয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিটিজেন ভিজিল্যান্টি থেকে কালেমার মিছিল: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কতগুলো অশনি সংকেত - প্রথম পর্ব

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮


গত মাসে আমেরিকায় "সিটিজেন ভিজিল্যান্টি" নামে মুসলিম ও অভিবাসীবিদ্বেষী একটি সিনেমা মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রথমদিকে দর্শকদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়নি। পরে যখন ইলন মাস্ক এক্স প্ল্যাটফর্মে তার ২৪ কোটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×