somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইউরোপের ভুল

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ ভোর ৫:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অস্ত্রের দিক দিয়ে রাশিয়া একটি বিশাল শক্তিশালী রাষ্ট্র । এক রাশিয়ার সাথে যদি পুরো ইউরোপ যুদ্ধ করে , তাহলে পুরো ইউরোপের জন্য তা হবে আত্মহত্যার শামিল । আত্মহত্যা সাধারণত , যাদের বুদ্ধি শয়তান দ্বারা নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় , তারা করে । শুধু যে এমন মানুষ হয় , তা না , এমন রাষ্ট্রও হয় । এমন একটি রাষ্ট্রের নাম উত্তর কোরিয়া । উত্তর কোরিয়া জানে যুদ্ধ হলে তার সকল শত্রুদের সামান্য অংশ ধ্বংস হবে । কিন্তু তবুও সর্বদা যুদ্ধের জন্য উদগ্রীব । উত্তর কোরিয়া জানে যুদ্ধ হলে পুরো উত্তর কোরিয়া ধ্বংস হবে , কিন্তু তাদের দর্শন হলো , আমার শত্রুদের সামান্য অংশ ধ্বংস করে তারপর আমরা সবাই মরবো। এটা একটা মানসিক রোগ এবং আত্মহত্যা । স্বৈরশাসকরা সাধারণত সুস্থ মনের অধিকারী হয় না ।



ইউরোপ দিন দিন শিশু হচ্ছে । তারা যৌনতার স্বাধীনতা দিচ্ছে , অথচ চোর ডাকাত হত্যাকারীদের শাস্তি দিচ্ছে । আরে ভাই চোর ডাকাত হত্যাকারীও তো মনের স্বাধীনতা প্রকাশ করছে । তাহলে সেখানে দ্বিচারিতা কেনো । আসলে তোমাদের মনের স্বাস্থ্য ঠিক নেই । চরম সত্য হলো যৌনতার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা দেওয়া হত্যার চেয়েও বড়ো অপরাধ। ইউরোপের দ্বিতীয় মানসিক রোগ হলো , ফিলিস্তিনের ব্যাপারে দ্বিচারিতা । কিছু দেশ অনেক ভালো , কিন্তু অধিকাংশ দেশ শয়তান ইসরায়েলকে জান প্রাণ দিয়ে ভালবাসে এবং সর্বোচ্চ অপরাধ , জাতিগত নিধনে ইসরায়েলকে সবদিক দিয়ে সাহায্য করে । ইউরোপের শিশু রাজনীতির আরেকটি উদাহরণ হলো মৃত্যুদন্ড না দেওয়া । তাহলে যুদ্ধ করতে চাও কেনো ? যুদ্ধ মানেই তো মৃত্যু । তোমাদের দর্শন অনুযায়ী যুদ্ধে মানুষ না মেরে যুদ্ধ করা । প্রিয় ইউরোপ এমন দর্শন দিয়ে যুদ্ধ মানে মানসিক বৈকল্য । অর্থাৎ অপরাধ অনুযায়ী মৃত্যুদন্ড না দেওয়া চরম মূর্খতা এবং অনেক বড়ো অন্যায় । হত্যাকারীকে হত্যা না করা রাষ্ট্রের জন্য সবচাইতে অপরাধ ।



প্রিয় ইউরোপ , কথাগুলি একজন মহাজ্ঞানীর গভীর ক্ষতের বহিঃপ্রকাশ । সেই মহাজ্ঞানী তোমাদের দেশে এসে মানুষকে জ্ঞান শিক্ষা দিতে চায় । অথচ তোমরা তাকে আসতে চতুর্দিক দিয়ে নিরুৎসাহিত করছো । তিনি আসলে যদি , ইউরোপের প্রায় সবাই মুসলমান হয়ে যায় , তাহলে ক্ষতি তো হবেই না , বরং প্রায় সবাই অনন্তকাল স্বর্গে বাস করবে ইনশাআল্লাহ । এর চাইতে ভালো কিছু হতেই পারে না । তোমরা ইবলিশ এবং তাগুতকে দেখো না । যদি দেখতে , তাহলে সেই মহাজ্ঞানীকে হাতে পায়ে ধরে তোমাদের দেশে জায়গা দিতে । আর তিনি তোমাদের সবাইকে শয়তান ও তাগুতকে চিনাতেন ।



প্রিয় ইউরোপ , রাশিয়া একটি গনতন্ত্রহীন রাষ্ট্র । যদিও নামে গনতন্ত্র । অতএব গনতন্ত্রহীন রাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধ করা চরম মূর্খতা এবং শিশুদের মতো জ্ঞানীর পরিচয় দেওয়া । এজন্য ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করা জ্ঞানীর কাজ, আশা করি ইউরোপ সেটি করবে । যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আলোচনা করে রাশিয়াকে ছাড় দিয়ে দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ করুন । ক্ষমতাধর এবং গনতন্ত্রহীন রাষ্ট্রের ১০০ বিলিয়ন ডলার অন্যকে দিয়ে দিবেন , এটা আত্মহত্যার শামিল। রাশিয়া শক্তিশালী রাষ্ট্র , তাই তাকে ছাড় দিতেই হবে । তবে আপনারা ভবিষ্যৎ ইউক্রেনকে নিরাপদ করার জন্য সর্বোচ্চ উপায় বের করতে পারেন ।



ইউরোপকে শিশু রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে । যৌনতার স্বাধীনতা বন্ধ করতে হবে । মৃত্যুদন্ড দিতে হবে । যেখানে শক্তিতে কুলাবে , সেখানে মানবাধিকারের প্রশ্নে যুদ্ধ করতে হবে । তবেই ইউরোপ অনন্য শক্তিশালী সংগঠন হবে ইনশাআল্লাহ। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ তোমাদেরকে ভালবাসবে এবং তোমাদের আনুগত্য করবে ইনশাআল্লাহ । বিশ্বশান্তিতে তোমাদের অবদান হবে সর্বোচ্চ ইনশাআল্লাহ । আর উপরোক্ত আলোচনার প্রধান কারণ হলো - এখনো অধিকাংশ ইউরোপীয় মানুষের হৃদয় অনেকটা সাদা । যা পৃথিবীর অন্য অংশের মানুষের নেই , বিশেষ করে মুসলমানদের তো মোটেই নেই । বর্তমানে এশিয়া আফ্রিকার মুসলমানদের দিকে তাকালে দেখা যাবে যে , এদের মন অন্য সবার চাইতে বেশি কালো ।



প্রিয় ইউরোপ , তুমি যখন ভালো কাজের নিয়ত করবে , তখন তাগুত তা জেনে যায় এবং তাতে তাগুত হাজারো বাধা দেয় । এই বাধাকে তুমি আল্লাহর কাজ মনে করো না । তাগুতকে এই শক্তি দেওয়ার কারণ অনেক এবং এটা আধ্যাত্মিক জ্ঞানের অংশ । আধ্যাত্মিক জ্ঞান চাইলে , সেই মহাজ্ঞানীকে ডাকতে হবে এবং তার সাহচর্য গ্রহণ করতে হবে । তবেই তো পৃথিবীতে শান্তি আসবে ইনশাআল্লাহ । মহান আল্লাহ সবাইকে সঠিক জ্ঞান দান করুন । আমীন ।



( মোঃ জাহাঙ্গীর আলম আকন্দ ) ।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পিঠে কোদাল, হাতে মোবাইল

লিখেছেন মুনতাসির, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:২৪



শীতের সকাল।
কুয়াশার চাদরে মোড়ানো মাঠ,
পিঠে কোদাল, হাতে সময়—
মাটি আর মানুষের প্রতিদিনের নিরব সংলাপ।

বগুড়া, ২০২৬। ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন কিরকুট, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

*** জামাত শিবির এর যারা আছেন তারা দয়ে করে প্রবেশ করবেন না ***


বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এখন আর কেবল একটি দলের ভাগ্যের প্রশ্ন নয় এটি রাজনৈতিক ভারসাম্য, গণতান্ত্রিক কাঠামো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীর বুকে এই দুর্যোগ যেন কোনওদিন না আসে

লিখেছেন অর্ক, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২২



পৃথিবীর বুকে এই দুর্যোগ যেন কোনওদিন না আসে। দুর্ধর্ষ মাফিয়া একটি রাষ্ট্রের মালিক হতে যাচ্ছে। দেশ সীমানা ভূখণ্ডের গণ্ডি পেরিয়ে, পৃথিবীর জন্যই অত্যন্ত বিপদজনক। অবশ্য নির্মম বাস্তবতা হলো, আগাগোড়া অসভ্য,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবশেষে দেশে গণতন্ত্র কায়েম হইলো

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৩

দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে এখন আমাদের আর কোন টেনশন রইলো না। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের বিজয়ী প্রার্থীদের আজ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই মূলত দেশ আবার গণতন্ত্রের ট্রেনে যাত্রা শুরু করলো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রঙিন ডালিম ফলের একটি ব্যতিক্রমি অঙ্গ বিশ্লেষন ( Anatomy of Pomegranate )

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১১


সবুজ পাতার আড়াল ভেঙে
ডালিম ঝুলে লাজুক রঙে
বাইরে রক্তিম খোলস কঠিন
ভিতরে দারুন জীবন রঙিন।
শত দানার গোপন ভুবন
একসাথে বাঁধা মধুর টান
হৃদয়ের হাজার স্বপ্ন যেন
লুকিয়ে থাকা রক্তিম গান।

উপরে প্রচ্ছদ চিত্রে রেনেসাঁ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×