somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোহাম্মদ আলী আকন্দ
আমি ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে ১৯৭৭ সালে এস.এস.সি এবং আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ১৯৭৯ সালে এইচ.এস.সি পাশ করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৪ সালে এলএল.বি (সম্মান) এবং ১৯৮৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.এম পাশ করি।

ত্রি-পক্ষীয় চুক্তি

১৫ ই মার্চ, ২০০৭ সকাল ১১:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ (?) দলীয় জোট একটি দাবী পূরণ হওয়ার পর আরেকটি দাবী উত্থাপন করে একের পর এক আন্দোলন করে যাচ্ছে। শক্তিশালী মিডিয়ার সমর্থনে এবং জনসাধারণকে জিম্মি করে তারা তাদের অসাংবিধানিক দাবী দাওয়া আদায়ের খেলায় মেতে উঠেছে। প্রথম তারা দাবী করেন, জাস্টিস কে এম হাসান প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণে অসম্মত হলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। শেখ হাসিনার আহ্বানে আওয়ামী লীগের উচ্ছৃঙ্খল , প্রতিহিংসাপরায়ণ কর্মীরা রাস্তায় লগি বইঠা দিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় পিটিয়ে মানুষ হত্যা শুরু করলে-জিম্মি জনতা এবং জাস্টিস কে এম হাসান মনে করেন তিনি প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণে অসম্মত হলেই আওয়ামী লীগ আন্দোলনের নামে অরাজক অবস্থার অবসান হবে। কিন্তু জিম্মি মানুষ বুঝতে পারেনাই, জাস্টিস কে এম হাসান ইস্যু শেষ হওয়ার পর আর কোন দাবী উত্থাপিত হবে। দুর্বৃত্ত একবার ভয় দেখিয়ে কোন কিছু আদায় করতে সৰম হলে শাস্তি না পাওয়া পর্যন্ত বার বার একই অপরাধ করতে থাকে।

একই কায়দায় অবরোধের নামে মানুষকে জিম্মি করে এবারের দাবী হ'ল জাস্টিস এম এ আজিজকে পদত্যাগ অথবা প্রেসিডেন্ট কর্তৃক বরখাস্ত করতে হবে। মিডিয়া খুবই উৎসাহ নিয়ে প্রচার শুরু করল-জাস্টিস আজিজই এক মাত্র সমস্যা। জাস্টিস আজিজ চলে গেলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এমনকি যারা এতদিন জাস্টিস আজিজের সমর্থক ছিলেন তারাও বলতে শুরু করলেন, একটা লোকের জন্য পুরো জাতি বন্দি হয়ে গেছে। তিনি কেন পদত্যাগ করেন না। তিনি পদত্যাগ করলেই তো সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। জাতি অবরোধ থেকে মুক্তি পায়। যেন অবরোধটা জাস্টিস আজিজই করেছেন। গ্রামবাসী যেমন গৃহকর্তাকে অভিযুক্ত করছেন, ডাকাত চাওয়া মাত্রই কেন চাবি ডাকাতের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। তাহলে তো ডাকাতের হাতে মার খেতে হতো না।

মিডিয়া যে কত শক্তিশালী এবং ৰত্র বিশেষ ভয়াবহ হতে পারে, তার প্রমাণ-ইরাক আক্রমণের সময় আমেরিকান মিডিয়া এবং জাস্টিস আজিজের ছুটিতে যাওয়ার আগে আমাদের মিডিয়ার ভূমিকা । যা হউক, আজিজ সাহেব ছুটিতে গেলেন। অবরোধ বহাল রেখে ১৪ (?) দল বিজয় উল্লাস করল। জিম্মি মানুষ হাফ ছেড়ে বাঁচল, তারা জিম্মি দশা থেকে মুক্ত হলেন। কিন্তু না আরো দাবী আছে, এগুলো না মানলে আবারো অবরোধ। আরো কঠিন অবরোধ। এবং অবশেষে চতুর্থ দফা অবরোধ আবার শুরু হয়েছে। মানুষও জিম্মি হয়ে পরেছে। আমরা ইতিহাসে পড়েছি, যখন কোন বিদেশী রাষ্ট্র অপর কোন রাষ্ট্র দখল করতে চায় তখন প্রথমেই সেই রাষ্ট্রটিকে অবরোধ করে এর পণ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। অবরুদ্ধ রাষ্ট্রের জনগণ জিম্মি হয়ে পরে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ফলে নাগরিক জীবন বাধাগ্রস্ত হয়। ক্রমে ক্রমে সরকার দুর্বল হয়ে পরে। জন অসন্তোষ বাড়তে থাকে। অবশেষে রাষ্ট্রের পতন হয়।

তৃতীয় দফা দাবী দাওয়া পূরণের জন্য আবারো তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং উপদেষ্টাগণ তৎপর হয়ে উঠেছেন। আশা করি, মিডিয়ার কল্যাণে এমন একটি বাতাবরণ সৃষ্টি হবে যাতে জিম্মি জনগণও দাবী জানাবেন, দাবী মেনে নিলেই তো সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। খামখা কেন দাবী মানতে দেরি করা হচ্ছে। দাবী মানা বা না মানা নিয়ে আমাদের কোন বক্তব্য নাই। আমাদের বক্তব্য হ'ল, এবার দাবী পূরণ করার আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, ১৪ (?) দল ও ৪ দলের মধ্যে একটি ত্রি-পক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর হতে হবে। যাতে থাকবে, বর্তমান দাবী পূরণ হওয়ার পর কোন দল আর কোন দাবী উত্থাপন না করে নির্দিষ্ট সময়ে সংবিধান মোতাবেক নির্বাচনে অংশ নিবে, নির্বাচনের ফলাফল মনে নিয়ে নিয়মিত ভাবে সংসদ কার্যক্রমে অংশ নিবে, রাস্তায় কোন মিটিং, মিছিল, সমাবেশ না করে দাবী দাওয়া সংসদে আলোচনা করবে। এধরনে চুক্তি ছাড়া আর কোন দাবী মানা হলে, নিশ্চিত ভাবে আওয়ামী লীগ অন্য কোন দাবী দিয়ে এদেশের মানুষকে আবার জিম্মি করবে তাদের তাদের দাবী পূরণের জন্য।

তবে এ ব্যাপারে কোন নিশ্চয়তা দেওয়া যাবেনা যে লিখিত চুক্তি ভঙ্গ করে আওয়ামী লীগ আর কেন আন্দোলন করবেনা। আন্তর্জাতিক ৰ্যাতি সম্পন্ন দুই তিন জন আইনজীবী মিডিয়ার সামনে হয়তো চুক্তি ভঙ্গের ব্যাখ্যা দিবেন। জনগণ সেই ব্যাখ্যাও হয়তো গ্রহণ করবেন। মিডিয়ার মাধ্যমে মানুষ জানবে, আওয়ামী লীগ কোন চুক্তি ভঙ্গ করে নাই। বরং অপর পৰই চুক্তি ভঙ্গ করেছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুলাই, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৪৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×