somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোহাম্মদ আলী আকন্দ
আমি ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে ১৯৭৭ সালে এস.এস.সি এবং আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ১৯৭৯ সালে এইচ.এস.সি পাশ করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৪ সালে এলএল.বি (সম্মান) এবং ১৯৮৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.এম পাশ করি।

ইসলামিক রেডিক্যালিজম বিশ্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ--প্রেসিডেন্ট বুশ

১৪ ই মে, ২০০৭ রাত ১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রেসিডেন্ট বুশ বলেছেন গত শতকের পতিত কমিউনিজমের ন্যায় ধ্বংসাত্মক আদর্শবাহী ইসলামিক রেডিক্যালরা হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের বড় চ্যালেঞ্জ।
ইন্দোনেশিয়া থেকে স্পেন পর্যন্ত তারা উদারপন্থিদের উচ্ছেদ করে একটি ইসলামি সাম্রাজ্য গড়তে চায়।
মানবতা, গণতন্ত্র ও মুক্তবিশ্বের স্বার্থে তাদের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে দেয়া হবে না।
বুশ বলেন, চরমপন্থিরা জিহাদের ভুলব্যাখ্যা দিয়ে খ্রিস্টান, হিন্দু ও ইহুদিদের হত্যা করছে।
এমনকি সেসব মুসলমান তাদের হাত থেকে নিস্তার পাচ্ছেন না যারা তাদের ধারণা ও আদর্শের সাথে একমত নন। এসব চরমপন্থির কোনো সীমান্ত নেই। আন্ত:দেশীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী চলছে তাদের সন্ত্রাসী তৎপরতা। এরা ইতোমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্বর হামলা চালিয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী ঘটনা এর অন্যতম প্রমাণ।
প্যারামিলিটারি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের গেরিলা হিসেবে তাদের নেটওয়ার্ক রয়েছে আলজেরিয়া, সোমালিয়া, ফিলিপাইন, পাকিস্তান ও চেচনিয়ায়।
আল কায়দার সাথে বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত তাদের নেটওয়ার্ক। যদিও তাদের অধিকাংশ সেল নস্যাৎ করে দেয়া হয়েছে।
এ চরমপন্থিরা মধ্যপ্রাচ্য থেকে পশ্চিমা ও আমেরিকান প্রভাবের ইতি চায়। কারণ সেসব দেশে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার পক্ষে রয়েছে আমাদের অবস্খান। আল কায়দা নেতা লাদেন তার অনুসারীদের বেহেশতের জন্য শহীদ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অথচ সে নিজেই প্রাণ বাঁচাতে লুকিয়ে আছে। এতেই তাদের আদর্শের অন্ত:সারশূন্যতা প্রমাণিত হয়।
বুশ বলেন, চরমপন্থিরা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তি অর্জনে এজন্যই তৎপর যে, তারা মানবতাবিধ্বংসী অস্ত্র উৎপাদন, ইসরাইলকে ধ্বংস, ইউরোপকে ভীত সন্ত্রস্ত ও যুক্তরাষ্ট্রকে ব্ল্যাকমেইল করতে চায়। সভ্যতার ইতিহাসে উন্মাদ হিটলার, স্ট্যালিন এবং পলপট ইতিহাস থেকে বিদায় নেয়ার আগেই পুরো জাতিকে যুদ্ধে ঠেলে দিয়ে মেতে উঠেছিল গণহত্যায়।
এমন পিশাচরা কোনো ধরনের অপকর্ম সংঘটনের আগেই তাদের প্রতিহত করা উচিত। সাধারণের হতাশা, দ্বন্দ্ব ইত্যাদি পুঁজি করে রেডিক্যাল আদর্শ প্রচারের কেন্দ্র কিছু মসজিদের মাধ্যমে তারা সংগ্রহ করছে নিজেদের সদস্য। এ কাজে তাদের হাতে অপব্যবহার হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে অনলাইনে লোক রিক্রুট ও প্রশিক্ষণ। এ অবস্খায় বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত কিছু দেশ তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও মদদ দিচ্ছে। ইরান ও সিরিয়া হচ্ছে এর অন্যতম। উপরোক্ত দেশসমূহ যুক্তরাষ্ট্র ও উদার দেশসমূহসহ ইসরাইলকে আহত করতে চায়। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এটা হচ্ছে তাদের অন্যতম কৌশল। এর বাইরে তাদের অন্যতম সহযোগী হচ্ছে দুর্নীতিগ্রস্ত স্বেচ্ছাসেবী বিভিন্ন সংস্খা। যারা বিশ্বের অস্খিতিশীল দেশসমূহে সন্ত্রাস বিস্তারে সরবরাহ করছে ফান্ড। এক্ষেত্রে বিভিন্ন আরব নিউজ মিডিয়াও তাদের সহযোদ্ধার ভূমিকায় নেমেছে। আমেরিকা ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ লিপ্ত­ এ ধারণা প্রচারের আড়ালে তাদের মতলব হচ্ছে ঘৃণা, বিদ্বেষ ও ইহুদিবিরোধী চেতনাকে উসকিয়ে দেয়া। অথচ আফগানিস্তান, বসনিয়া, সোমালিয়া, কায়রো, কুয়েত এবং ইরাকের মুসলমানদের রক্ষায় আমাদের ভূমিকা তারা তুলে ধরে না। ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত মানুষের জন্য আমেরিকান সাহায্যের বিষয়টি সবাই জানে। উগ্রবাদের উথানের জন্য সবাই ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্খানকে দায়ী করেন। তাদের উদ্দেশে বলতে হয় ১১ সেপ্টেম্বরের সময়তো আমরা ইরাকে ছিলাম না। তাহলে আল কায়দা আমাদের আক্রমণ করল কেন? বুশ বলেন, আসলে বছরের পর বছর থেকে এসব চরমপন্থি পশ্চিম তীরে ইসরাইলের উপস্খিতি, সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্খান, তালেবানদের হঠানো এবং হাজার বছর আগের ক্রুসেডকে আক্রমণের ভিত্তি হিসেবে উপস্খাপন করছে। এ অবস্খায় আমরা কখনো তাদের সামনে নতি স্বীকার করতে পারি না। চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অভিযান ব্যাহত হবে না।
ইসলামিক রেডিক্যালিজম ও কমিউনিজমের মধ্যে রয়েছে সাদৃশ্য। গত শতাব্দীতে কমিউনিজমের পতন ঘটানো হয়েছে। একইভাবে এখন উগ্রবাদকেও নিশ্চিহ্ন করতে হবে। কমিউনিস্ট মতবাদের ন্যায় এ ধারার বাহকরা নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে জীবন উৎসর্গের কথা বলেন- যার অসহায় শিকার হচ্ছে নিরীহ অসংখ্য মানুষ।
এ ধারণায় তারা ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করেছে ডেনিয়েল পার্ল নিকোলাস বার্গ, মার্গারেট হেনসেনসহ অগণিত মানুষকে। নেদারল্যান্ডের একটি কোর্ট রুমে হত্যার শিকার একটি পরিবারকে লক্ষ্য করে ঘাতক বলেছে একজন অবিশ্বাসী নাস্তিককে শাস্তি দিয়েছি আমি। তাই আমার কোনো অনুশোচনা নেই। এ ধরনের অধিকাংশ ঘটনার পেছনেই দায়ী হিসেবে মুসলমানদের পাওয়া গেছে। এ অবস্খায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জঙ্গিদের চিহ্নিত করার জন্য সেসব দেশের সরকারকে সাথে নিয়েই সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ চলছে। পাকিস্তানের আব্দুল কাদের খানের কাছ থেকে পারমাণবিক প্রযুক্তি কোথাও চোরাচালান হয়েছে কি না সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
লিবিয়া ইতোমধ্যেই তাদের নিউক্লিয়ার ও মারণাস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগ করেছে। ইরানসহ বিভিন্ন দেশ যাতে দূরপাল্লার ব্যালেস্টিক মিসাইল অস্ত্র উৎপাদন না করে সে জন্য নেয়া হয়েছে বিশেষ কর্মসূচি। এ অবস্খায় কোনো দেশ যদি সন্ত্রাসী বা উগ্রপন্থিদের প্রশ্রয় বা মদদ দেয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এটাকে কোনোভাবেই সহ্য করবে না। এক্ষেত্রে সন্ত্রাসী ও সংশ্লিষ্ট দেশ একইভাবে দোষী বলে দায়ী হবে।
১৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×