somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোহাম্মদ আলী আকন্দ
আমি ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে ১৯৭৭ সালে এস.এস.সি এবং আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ১৯৭৯ সালে এইচ.এস.সি পাশ করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৪ সালে এলএল.বি (সম্মান) এবং ১৯৮৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.এম পাশ করি।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা-১০

১৯ শে জুন, ২০১৭ রাত ১০:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনুচ্ছেদ ১
ধারা ৯।
দফা ১। যেহেতু কোনো কোনো রাজ্যে ওই ধরণের দেশান্তরিত বা আমদানিকৃত মানুষদের প্রবেশকে সঠিক মনে করে, কংগ্রেস এক হাজার আট শত এবং আট সালের আগে তা নিষিদ্ধ করতে পারবে না, কিন্তু ওই ধরণের আমদানির ক্ষেত্রে কর বা শুল্ক আরোপ করা যাবে, যা প্রতি ব্যক্তির ক্ষেত্রে দশ ডলারের বেশি হবে না।
ভাষ্য
যুক্ত্ররাষ্ট্রে সংবিধানে কোথাও ক্রীতদাস শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। ক্রীতদাস শব্দের বদলে 'এই ধরনের ব্যক্তি' এমন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। দাসপ্রথার মতো ঘৃণিত কাজকে নরম শব্দের আড়ালে একটু ঢেকে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। সংবিধানের এই বিধানের ফলে কংগ্রেস ১৮০৮ সালের আগে দাস আমদানি নিষিদ্ধ করতে পারেনি। ১৮০৮ সালের পরপরই কংগ্রেস দাস আমদানি নিষিদ্ধ করে দেয়, যদিও পরবর্তী ৬০ বছর অর্থাৎ গৃহযুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ বাজারে দাস কেনাবেচা অব্যাহত থাকে।

দফা ২। হেবিয়াস কর্পাস রিটের অধিকারকে স্থগিত করা যাবে না, যদি না রাষ্ট্রদ্রোহ বা জনগণের নিরাপত্তার উপর আক্রমনের ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রয়োজন হয়।
ভাষ্য
নাগরিক স্বাধীনতার একটা গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হচ্ছে এই হেবিয়াস কর্পাস রিট। হেবিয়াস কর্পাস একটা ল্যাটিন পরিভাষা, যার আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে, 'তোমার শরীর থাকতে হবে'। আর বাস্তব অর্থ হচ্ছে, কোনো ব্যক্তিকে বিনা অভিযোগে জেলে আটক রাখা যাবে না। উপযুক্ত আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে অনিদৃষ্টকাল আটক রাখা যাবেনা। এই বিধানকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে লঙ্ঘন করা হয়েছে। যেমন, আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ হেবিয়াস কর্পাস রিটের অধিকারকে স্থগিত করেছিলেন।

দফা ৩। বিল অফ এটেন্ডার বা এক্স পোস্ট ফ্যাক্টো আইন পাস করা যাবে না।
ভাষ্য
বিল অফ এটেন্ডার হলো কারো বিচার না করে, আইন বা আদেশের মাধ্যমে ঘোষণা করে দেয়া হলো ওই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ অপরাধী এবং কথিত অপরাধের ভিত্তিতে সাজা দিয়ে দেয়া হলো। কংগ্রেস এই ধরণের কোনো আইন বা আদেশ পাস করতে পারবে না। আবার এটাকে ঘুরিয়ে এভাবেও বলা যায়, কংগ্রেসের কোনো ক্ষমতা নাই বিনা বিচারে শুধু আদেশ বলে বিচারক বা জুরিদের মতো কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের রায় প্রদান করার। পক্ষান্তরে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এই ক্ষমতা আছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষরা আইনসভার এই ক্ষমতাটাকে মানুষের স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন বলে মেনে করেন, তাই সংবিধানিক ভাবে কংগ্রেস তথা আইনসভার এই ক্ষমতাটাকে চিরতরে নিষিদ্ধ করে দেন।

এক্স পোস্ট ফ্যাক্টো আইন হলো এমন আইন, যা কোনো ঘটনা ঘটার সময় আইনটি ছিলোনা। কিন্তু ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর করা হয়েছে। অন্য কথায় বললে, যখন কাজটি করা হয়েছে তখন কাজটি অবৈধ ছিলোনা, কিন্তু পরবর্তী সময়ে কাজটিকে অবৈধ করে আইন পাস করা হয়েছে। এইধরণের কাজের জন্য কোনো ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা যাবে না।

দফা ৪। রাজ্যগুলির মধ্যে কোনরূপ ভাগাভাগি না করে এবং আদমশুমারি বা গণনার উপর নির্ভর না করে, কংগ্রেস আয়ের উপর, তা যে উৎস থেকে আসুক না কেন, কর আদায় করতে পারবে।

ভাষ্য
মূল সংবিধানে ব্যক্তির আয়ের উপর কর আদায় করার বিধান ছিল না। রাজ্যের জনসংখ্যার অনুপাতে কর ধার্য করা হতো। সংবিধানের ১৬ তম সংশোধনীর মাধ্যমে আধুনিক কর ব্যবস্থা চালু করা হয়। আয়কর ব্যবস্থা প্রচলন করা হয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০১৭ রাত ১০:০১
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×