
করোনাভাইরাস লেব্রটারীতে সৃষ্ট কোন ভাইরাস না।
একটা বহুল প্রচারিত গল্প হচ্ছে করোনাভাইরাস লেব্রটারীতে সৃষ্টি হয়ে চীনের উহান নগরীতে ছড়িয়ে পড়েছে।
তারপর চীন থেকে সারা বিশ্বে ছড়িয়েছে।
করোনাভাইরাস একটা বৃহৎ ভাইরাস পরিবারের নাম।
এই পরিবারের সদস্যরা হচ্ছে:
১. HKU1,
২. NL63,
৩. OC43,
৪. 229E
৫. SARS,
৬. MERS এবং
৭. নবীন সদস্য SARS-CoV-2
স্ক্রিপস রিসার্চের ইমিউনলজি এবং মাইক্রোবায়োলজির সহযোগী অধ্যাপক ক্রিস্টিয়ান অ্যান্ডারসন এবং তার সহকর্মীরা ভাইরাসটির পিঠে থাকা লম্বা লম্বা কাঁটার মত স্পাইকগুলির প্রোটিনের জেনেটিক টেম্পলেটটি পরীক্ষা করে দেখেছেন।
SARS ভাইরাসটির সাথে এই নতুন SARS-CoV-2 ভাইরাসটির অনেক মিল আছে। SARS ভাইরাসটি এই ভাইরাসটির মতো একই ধরণের শ্বাসযন্ত্রে তীব্র সমস্যার সৃষ্টি করে। বৈজ্ঞানিকরা দেখেছেন এই দুই ভাইরাসের মধ্যে জেনেটিক কোডে সামান্য পার্থক্য আছে।
কম্পিউটারে মডেল (computer simulation) তৈরি করে দেখা গেছে ভাইরাসটি মানব কোষের সাথে খুব ভাল ভাবে সংযুক্ত হতে পারে না। বিজ্ঞানীরা যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে এই ভাইরাসটি সৃষ্টি করতেন তাহলে তারা এই ধরণের ভাইরাস বেছে নিতেন না যেটির কম্পিউটার মডেল (computer simulation) ঠিক মত কাজ করে না। তবে বিজ্ঞানীরা স্বীকার করেছেন সৃষ্টিকর্তা বিজ্ঞানীদের চেয়ে অনেক জ্ঞানী, কারণ দেখা গেছে বিজ্ঞানীরা যে ভাবে কম্পিউটার মডেল করেছেন ভাইরাসটি তারচেয়ে ভিন্ন ভাবে মানব কোষের সাথে নিজেকে যুক্ত করতে পারে।
করোনাভাইরাস যে লেব্রটারীতে সৃষ্টি হয় নাই তার আরেকটা সূত্র হচ্ছে। এই ভাইরাসের সামগ্রিক আণবিক কাঠামো (molecular structure) আগের করোনাভাইরাস থেকে পৃথক ধরণের। বরং বাদুড় এবং পাঙ্গোলিনে পাওয়া করোনা ভাইরাসগুলির সাথে অনেক মিল আছে। তবে বাদুড় এবং পাঙ্গোলিনে পাওয়া করোনা ভাইরাসগুলি মানুষের কোন ক্ষতি করতে পারে এখন প্রমাণ পাওয়া যায় নাই।
গবেষকরা বলেছেন কেউ যদি মানুষের ক্ষতি করার জন্য কোন কিছু অর্থাৎ প্যাথোজেন (pathogen) সৃষ্টির কথা ভাবতো, তাহলে তারা এখন একটা ভাইরাসকে বেছে নিতো যে ভাইরাসটা মানুষকে অসুস্থ করে এই ব্যাপারে তারা নিশ্চিত ভাবে যান।
তাহলে ভাইরাস কোথা থেকে এল? গবেষক দল দুইটা সম্ভাবনার কথা বলেছেন।
একটা সম্ভাবনা হচ্ছে আগের করোনা ভাইরাসগুলো যে ভাবে এসেছে এটাও সে ভাবেই এসেছে। অর্থাৎ SARS ভাইরাস প্রথমে খাটাস বা সিভেট এবং MERS ভাইরাস প্রথমে উটে জন্ম নিয়ে তারপর মানুষের শরীরে এসেছে। এই ভাইরাসটিও প্রথমে বাদুড় তারপর পাঙ্গোলিনে বিকাশ লাভ করে তারপর মানুষের শরীরে এসেছে। প্রাণীর দেহ থেকে মানুষের দেহে আসার আগেই এর জিনগত বৈশিষ্ট্য এমন ছিল যে এটা মানুষের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে।
দ্বিতীয় সম্ভাবনাটা হচেছ, এই ভাইরাসটার বৈশিষ্ট্যগুলি তখনই বিকাশ লাভ করে যখন ভাইরাসটি প্রাণী দেহ থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। অর্থাৎ প্রাণীর দেহে থাকার সময় এটা নিরীহ ধরণের থাকে। প্যাঙ্গোলিনের শরীরে যে করোনাভাইরাস থাকে সেটার গঠন একটা হুকের মত যা দিয়ে সে অন্য কোষের রিসেপ্টরকে ধরে। SARS-CoV-2 ভাইরাসের স্পাইক ঠিক একই রকম। এতে বুঝা যায় প্যাঙ্গোলিন থেকে সরাসরি অথবা অন্য কোন ভাবে ভাইরাসটি মানুষের শরীরে এসেছে। মানব দেহে প্রবেশ করার পর ভাইরাসটি অন্য আরেকটি বৈশিষ্ট্য ধারণ করতে পারে। মানুষের কোষে প্রবেশ করার পর এটা এমন একটা নতুন রূপ ধারণ করে যে সহজেই মানুষের দেহে ছড়াতে পারে।
সূত্র:
১. লাইভ সায়েন্স
২. নিউ সায়েন্টিস্ট
৩. ইউএস টুডে
৪. দ্যা সায়েন্টিস্ট
৫. ভক্স
৬. সিডিসি
৭. মেডিসিন নেট
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০২০ সকাল ৭:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




