somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোহাম্মদ আলী আকন্দ
আমি ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে ১৯৭৭ সালে এস.এস.সি এবং আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ১৯৭৯ সালে এইচ.এস.সি পাশ করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৪ সালে এলএল.বি (সম্মান) এবং ১৯৮৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.এম পাশ করি।

ভয়েড আয়্যেব ইনিটিও (Void ab initio)

১৮ ই জুলাই, ২০২৪ রাত ১১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশে প্রচলিত কোটা প্রথা শুরু থেকে অকার্যকর, বাতিল বা ভয়েড আয়্যেব ইনিটিও। বাংলাদেশ সংবিধানের প্রেক্ষাপটে কোটা সংক্রন্ত আইন, বিধিমালা, এবং সব সার্ক্যুলার শুরু থেকেই এমন ভাবে অবৈধ এবং বাতিল বলে বিবেচিত হবে যেন কোটা সংক্রান্ত আইন কখনও বিদ্যমান ছিল না বা কোনো আইনি প্রভাব ছিল না। অর্থাৎ কোটা সংক্রান্ত বিষয়টি একটি শূন্য বা ফাঁফা বিষয় বা এর কোন অস্তিত্বই নাই বলে ধরতে হবে।

কোটা প্রথা সহজাত ভাবেই অবৈধ এবং অসাংবিধানিক। এর অনেকগুলি মৌলিক ত্রুটি আছে। কোটা প্রথা সংক্রান্ত সকল আইন এবং সব নিয়োগের ত্রুটি বা অবৈধতা এতটাই মৌলিক যে কোটা প্রথার ধারণাই আসলে অকার্যকর। অবৈধ ক্ষমতার প্রভাবে, বা অবৈধ ভাবে অথবা জালিয়াতির মাধ্যমে এই প্রথা চালু এবং বহাল রাখা হয়েছে।

তাই কোটা প্রথা সংক্রান্ত কোন আইন কানুন এবং এই সব আইনকানুনের দ্বারা নিয়োগ সমূহের কোন আইনগত বৈধতা নেই। যেহেতু এটি শুরু থেকেই অকার্যকর, বাতিল এবং অবৈধ তাই পরবর্তী কোনো আইন বা আদালতের রায় বা চুক্তির দ্বারা এটি অনুমোদন বা বৈধ করা যাবে না।

বাতিলযোগ্য আর বাতিল এক বিষয় নয়। কোটা সংক্রান্ত আইনকানুনগুলি বাতিলযোগ্য নয় বরং সরাসরি বাতিল। বাতিলযোগ্য আইনকে আরেকটি আইন দ্বারা বা আদালতের রায়ে বাতিল করা যায় বা বৈধতা দেয়া যায়। কিন্তু শুরু থেকেই বাতিল আইনকে বাতিল করার জন্য কোন আইন বা আদালতের রায়ের প্রয়োজন হয় না। কোটা সংক্রান্ত আইনকানুনগুলি সরাসরি বাতিল বলে আইন দ্বারা বা আদালতের রায় দ্বারা বাতিল করার কোন প্রয়োজন নাই।

সংবিধানের তৃতীয় ভাগের মৌলিক অধিকার অনুচ্ছেদের ২৬ ধারার (২) উপধারায় বলা হয়েছে যে: [দ্রষ্টব্যঃ অনুচ্ছেদ নয় ধারা]

(২) রাষ্ট্র এই ভাগের কোন বিধানের সহিত অসামঞ্জস্য কোন আইন প্রণয়ন করিবেন না এবং অনুরূপ কোন আইন প্রণীত হইলে তাহা এই ভাগের বিধানের সহিত যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইয়া যাইবে।

সংবিধানের ভাষাটা লক্ষ্যণীয়, 'বাতিল হইয়া যাইবে" অর্থাৎ বাতিল করার কোন প্রয়োজন নাই নিজে নিজেই বাতিল হয়ে যাবে। বিচার, নির্বাহী বা আইন বিভাগের কিছু করার প্রয়োজন নাই। সংবিধান নিজ ক্ষমতা বলে এই ধরণের আইনকে বাতিল করে দিয়েছে।

কোটা প্রথা সংবিধানের ২৭, ২৮ এবং ২৯ ধারা অর্থাৎ তৃতীয় ভাগের বিধানের সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই ২৬ ধারার বিধান মতে এই সংক্রন্ত সকল আইন কানুন বিধি-বিধান বাতিল হয়ে যাবে। এই ব্যাপারে আদালতের রায়ের কোন প্রয়োজন নাই। যে আইনের অস্ত্বিত্ব শুরু থেকেই নাই সেই কথিত আইন অনুসারে সব নিয়োগ অবৈধ এবং অকার্যকর।

সংবিধান যা অনুমোদন করে না সেই ধরণের কাজ, আইন ইত্যাদি শুরু থেকেই অবৈধ এবং বেআইনি। আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ বা নির্বাহী বিভাগের কোন আইনগত ক্ষমতা নাই যে সংবিধানের পরিপন্থী কোন আইন প্রণয়ন করবে। আর যদি ক্ষমতা বহির্ভুত ভাবে সংবিধানের পরিপন্থী কোন আইন প্রণয়ন করেও তা শুরুর সময় থেকেই অকার্যকর এবং বাতিল।

রাজনৈতিক উদ্দেশ সাধনের জন্য প্রতারণামূলক তথ্য বা প্রতারণার উপর ভিত্তি করে কোটা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। জন সমর্থন বা সম্মতির ভিত্তিতেও যদি সংবিধান পরিপন্থী কোন আইন প্রণয়ন করা হয় সেটাও সংবিধান অনুসারে অকার্যকর এবং বাতিল।

কোন কোন সুবিধাভুগী যুক্তি দিচ্ছেন যে জনগণের জন্য সংবিধান, সংবিধানের জন্য জনগণ না। এই কথা সঠিক। কিন্তু জনগণ যদি কোটা প্রথা চায় তাহলে আগে সংবিধান সংশোধন করে এই সংক্রান্ত বিধি সংবিধানে সংযোজন করতে হবে। তারপর সংশোধিত সংবিধানের আলোকে কোটা প্রথা প্রচলন করা যেতে পারে।

কোন আইন যদি ভয়েড আয়্যেব ইনিটিও (Void ab initio) হয় তাহলে এই আইনের অধীনে প্রাপ্ত সুবিধা ফেরত দিতে হবে। এই নীতির আলোকে কোটা সংক্রন্ত আইনের অধীনে যারাই যেসব সুবিধা ভোগ করেছেন তা ফেরত দিতে হবে। কোটা প্রথার অধীনে নিয়োগ, প্রাপ্ত বেতন ভাতা, সুযোগসুবিধা ইত্যাদি সব অবৈধ। অবৈধ ভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত ব্যক্তিদের সব কৃতকর্মও অবৈধ।

কোন আইন যদি ভয়েড আয়্যেব ইনিটিও (Void ab initio) হয় তাহলে যেহেতু এটি শুরু থেকেই অকার্যকর তাই পরবর্তী কোন আইন বা অনুমোদন বা পদক্ষেপ বা সিদ্ধান্ত দ্বারা বাতিল আইনটিকে বৈধ করা যাবে না।

আইনের শাসন এবং সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুলাই, ২০২৪ রাত ১১:৩৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খাম্বা/খাল তারেক কে কিছু উপলব্ধি শেয়ার করছি

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪২

আজ আর মনের মাধুরী মিশিয়ে বকাঝকা করব না। আজ কিছু ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা শেয়ার করব।



খাল খনন বা ঢাকার বাসস্ট্যান্ড সরানোর চেয়ে কি কি গুরুত্বপূর্ন কাজ এই অর্থবছরে করা যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গানটি প্রিয় রাজীব নূর ও কবি স্বপ্নের শঙ্খচিলকে উৎসর্গ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:০৬

আমার খুব প্রিয় একটি কবিতার সাথে ব্লগার স্বপ্নের শঙ্খচিলের কবিতা মিলিয়ে গানটি বুনেছি।
শোনার আমন্ত্রণ রইলো।
============================

এই জল ভালো লাগে;
বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে
ধুয়েছে আমার দেহ- বুলায়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কদমের পাপড়ি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


এ আষাঢ়ের চোখ কেমন জানি-
চৈত্রের হাওয়ায় কদম নয় যেনো
আগুন- আগুন- তবু ভেজে যাচ্ছে-
শান্তি চুক্তির গন্ধ বাতাস-বাতাসে;
আনন্দময় আষাঢ়ে কাম ভাবনায়
শুধু মাটির বুক গড়ে- গড়ে আসে
জলকাঁদার শ্রেষ্ঠ হাসি অথচ বসন্ত
কান্না... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: কুয়ালালামপুরের ছায়া সম্রাট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



বালির নীল দিগন্ত
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের একটি নির্জন পাথুরে সৈকত। ভারত মহাসাগরের বিশাল নীল ঢেউ আছড়ে পড়ছিল তীরে। সমুদ্রের ঠিক ওপরের একটি আধুনিক কাঁচের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহলে হাদিস বিরোধী পোষ্টে ব্লগে লাইক না থাকলেও গ্রুপে লাইক পাঁচ হাজার আটশত

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪



হাদিস প্রেমিক হলো নাস্তিক ও আহলে হাদিস। উভয় দল হাদিস দিয়ে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। আমি যেহেতু মুসলিমদের হেদায়াতের জন্য কাজ করি সেহেতু আমাকে আহলে হাদিস বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×