আমার "কঠিন বাস্তবতা (আমার মৃত্যু ভাবনা)..." নামক পোষ্ট-এ শুধু "মৃত্যু" যে একটা কঠিন বাস্তবতা সেই সম্পর্কে লিখতে চাইছিলাম। কিন্তু কিছু ব্লগার আমার এই পোস্ট-এ কথা গুলোকে টেনে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের কথা তুলছেন।
আমরা জানি সৃষ্টিকর্তাকে দেখা যায় না। তার মানে এই নয় যে তিনি নাই। যা কিছুর অস্তিত্ব আছে তা যে দেখা যেতেই হবে এমন কোন কথা নাই। তবে হ্যাঁ বিভিন্ন ভাবে অনুভব করা যেতে পারে। যেমন আলোর বর্ণালীর শুধু নীল থেকে লাল পর্যন্ত আমরা দেখতে পাই, নীলের নিচে অতিবেগুনী এবং লালের উপরে ইনফ্রারেড কোনটাকেই আমরা দেখি না। এর মানে এই নয় যে এগুলোর অস্তিত্ব নাই। (এটা শুধু একটা উদাহরণ। আবার মনে করবেন না যে আমি অতিবেগুণী আর ইনফ্রারেডকে সৃষ্টিকর্তার সাথে তুলনা করছি।)
আমি সৃষ্টি কর্তাকে কিভাবে অনুভব করি সেটা তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।
প্রথমে কিছু ছোট্ট প্রশ্ন করি তাহলে বুঝতে সহচ হবেভ
ধরুণ আপনি হঠাৎ খেয়াল করলেন যে আপনার টেবিলে একটা পানির গ্লাস। যেটা আগে ছিল না। তাহলে আপনার মন সহজেই বলে দিবে যে এটা নিশ্চয় কেউ রেখে গেছে। ঠিক কিনা? নাকি আপনি বলবেন যে গ্লাসটা এখানে নিজে নিজে সৃষ্টি হয়েছে?
আবার ধরুণ, আপনার গায়ে কোথাও একটা আঁচরের দাগ দেখলেন, কিন্তু আঁচরটা কিভাবে পড়ল আপনি খেয়াল করেন নি। কিন্তু আপনার মন ঠিকই কোন কারণ খুজতে থাকবে।
এবার ধরুণ, আপনি আপনার ব্যাগ থেকে একটা বই নিতে গেলেন যার নির্দিষ্ট অংশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আপনি সচরাচর ওই অংশটা নারাচারা করেন। কিন্তু গিয়েই দেখলেন যে ব্যাগে বইটা নাই। অথচ আপনি ভালো করেই জানেন যে আপনি বইটা ব্যাগেই রেখেছিলেন। আশেপাশে খুজে বইটা অন্য রুমে পাওয়া গেল। কিন্তু দেখলেন যে আপনি যে অংশটা পড়েন সে অংশটা নাই। অর্থাৎ সেই অংশটা ছেঁড়া। তাহলে আপনার কি মনে হবে না যে, এই কাজটা সুপরিকল্পিত? নাকি মনে হবে যে, এটা হতেই পারে?
একথাগুলো আমরা আমাদের সাধারণ অভিজ্ঞতা থেকে সহজেই বুঝতে পারি।
কিন্তু আমরা সৃষ্টি রহস্য জানি না বলে সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে সহজে চিন্তা করতে পারি না।
সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব প্রমাণ করা হয়তো সম্ভব নয় (আমার পক্ষে) কিন্তু আমরা একটু গভীরভাবে চিন্তা করলেই সৃষ্টিকর্তাকে সহজে অনুভব করতে পারি।
আমি আমার ভাবনাগুলোকে নিচে উপস্থাপন করার চেষ্টা করলাম।
আমরা যদি আমাদের দেহটার দিকে ভালো করে খেয়াল করি তাহলেই তাঁর অস্তিত্ব অনুভব করতে পারি।
একটু খেয়াল করেন,
মানুষের দুইটা হাত আছে। দুইটা পা আছে। একটা মাথা আছে মাঝখানে একটা পেট আছে। এগুলো কি সবই নিজে নিজে সৃষ্টি হয়েছে। আরও ভালো করে খেয়াল করুণ মানুষের খাওয়ার জন্য একটা পথ আছে সেটাকে মুখ বলে। এবার চিন্তা করেন আমাদের হাতে যদি কনুই না থাকতো তাহলে হাত গুলো হতো একটা লাঠির মতো আপনি হাজার কসরত করেও এই হাত দিয়ে কিছু মুখে দিতে পারতেন না। তারপর ভাবুন, আঙ্গুলের কথা, আপনার আঙ্গুল গুলোতে দেখুন ৩ টা ভাজ আছে, এই ভাজ গুলে না থাকলে হাতটা হতো একটা কাঁটা চামচের মতো। শুধু তাইনা বৃদ্ধ আঙ্গুলটা যদি না থাকত তাহলে আপনি আপনার খাবার যেমন ধরতে পারতেন না তেমনি কোন কাজই ঠিক মতো করতে পারতেন না। হাতের কথা বাদ দিলাম। এবার দেখেন আপনার চোথের দিকে, কি সুন্দর প্লেসমেন্ট!! আচ্ছা একবার চিন্তা করুণ তো চোখ গুলো যদি কপালের নিচে না হয়ে আপনার পেটের ভিতর হতো? অথবা পায়ের নিচে হতো? চোখের কথা বাদ দিলাম, আপনার যদি নাকটা যদি গালের ভিতর হতো তাহলে কেমন হতো? আচ্ছা এটা ও বাদ দিলাম, এবার দেখেন আপনার শরীরের ভিতর, আপনার মুখের সাথেই একটা পাইপ ফিট করা আছে পাকস্থলী বরাবর। আচ্ছা, এই পাইপটা যদি না থাকতো তাহলে আপনার খাবার যাই মুখে দিতেন তা ফুসফুসে চলে যেত বা অন্য কোথাও চলে যেত। তারপর এখানেই শেষ না। পেটের মধ্যে এমন মেকানিজম আছে যেটা দিয়ে আপনার খাবার থেকে প্রয়েজনীয় অংশ বের করে শরীরে নিয়ে যাচ্ছে এবং ড্রেইনেজ এর ব্যবস্থাও আছে। আচ্ছা, পায়ু পথ যদি না থাকতো তাহলে কি অবস্থা হতো? পেটের ভিতর সব লোড হয়ে সেখানেই কাত।
মানবদেহ যদি নিজে নিজে সৃষ্টি হতো তাহলেতো এভাবে মুখের সাথে পেটের সংযোগ থাকার কথা ছিল না। হাতগুলোতে এতগুলো ভাজ দিয়ে ফোল্ড করার সিস্টেম থাকতো না। চোখগুলোই বা কেন পায়ের নিচে হবে না? কেনই বা পায়ের গোড়লীটা হাটুর উপরে হবে না? এরকম আরও হাজারো প্রশ্ন আছে।
এই প্রশ্নগুলোর একটাই উত্তর হতে পারে, "There is Someone Who controls it". এই চিন্তাগুলো করলে যে কোন বিবেক সম্পন্ন ব্যাক্তি বুঝতে পারে এর পিছনে অবশ্যই সুচিন্তিত কেউ আছে। নাহলে এতগুলো ব্যাপার কাকতালীয় ভাবে এমনি এমনি ঘটতে পারে না।
এই সুচিন্তিত কেউ-ই হচ্ছেন আমার সৃষ্টিকর্তা।
স্রষ্টাকে অনুভব করার জন্য আর কোন প্রমান প্রয়োজন আছে কি?
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুলাই, ২০১৩ সকাল ১০:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




