somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আকাশ ইকবালট
সদা সত্যের পক্ষে

অসহায় এক মা

২৭ শে জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমাদের সমাজে প্রতিনিয়ত যৌতুকের বলিতে কোরবানী হচ্ছে হাজার হাজার মেয়ে, নষ্ট হচ্ছে তাদের জীবন সংসার। প্রতিনিদিন পত্রিকার পাতা উল্টালে দেখতে পাওয়া যায় এরকম আট দশটা খবর। এমনদিন নেই যে দিনে একটু শান্তি ভাবে পত্রিকার পাতা উল্টাতে পারবো। খুন, ধর্ষণ তো লেগেই আছে। পাড়ার বন্ধু থেকে শুরু করে শিক্ষক ও নিজের বাবা ভাইয়ের হাতেও নষ্ট হচ্ছে আমাদের সমাজের মেয়েরা। শুধু ধর্ষণ নয় লোভ আর নিজেদের ভুল সিন্ধান্তের কারণে নষ্ট হয়ে যায় ছোট ছোট মেয়েদের জীবন। যদিও আইন অনুযায়ী মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮। কিন্তু কে শুনে কার কথা, কে মানে কার আইন। আমাদের দেশের গরিব পরিবারগুলো অধিক ছেলে সন্তানের আশায় অধিক কন্যা শিশুও জন্ম দেয়। তারপর তাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার পরিবর্তে তাদের অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দেয়। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতে পাষুন্ড স্বামী আর স্বামীর পরিবার মিলে নামে বেনামে টাকা আদায় করে থাকে। আর টাকা আদায় না করতে পারলে শারিরিক ভাবে নির্যাতন চালায়। এরপরেও না পারলে হত্যা করার সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। শারীরিক নির্যাতন করার ফলে অনেক সময় গর্ভে থাকা শিশু মারা যায়। আর মারা না গেলেও ঐ শিশু প্রতিবন্ধী হয়ে জন্¥ নেয়। আর কেন প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নিয়েছে তার অজুহাত দেখিয়ে তালাক দেয়, নির্যাতন চালায়। প্রতিবন্ধী শিশুর কোন দায় দায়িত্ব নেয় না। যদিও এটা শিশু নির্যাতন আইনের অধিনে পড়ে। কিন্তু টাকা আর ক্ষমতার দাপটে ভিকটিম তার সুবিচার পায় না। উল্টা তার উপর সব দোষ চাপিয়ে দেয়। ঠিক এমননি একটা ঘটনা ঘটেছে মীরসরাই উপজেলার এক নং করেরহাট ইউনিয়নের ফারজানা আক্তার পেন্সির সাথে। খুব চটপটে মেয়েটি। জন্ম নেয়ছে এক গরিব পরিবারে। এসএসসি পাশ করে ভর্তি হয়েছে কলেজে। খুব সন্দুর ও ছাত্রী ভালো হওয়াতে কলেজ থেকে বাড়ি পেরার পথে অনেক সময় অনেক ভখাটে পেন্সিকে ইভটিজিং করতো। বাবা মা এ ব্যাপারে জানতে পারলে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। তখন থেকে পাত্র খুঁজা শুরু। কিন্তু ফারজানা এত তাড়াতাড়ি বিয়ে করবেনা। সে আরো অনেক পড়া লেখা করবে। ফারজানার মা ও তার বাবা অনেকটা জোর করে বিয়েতে রাজি করাল। পাত্র ও খুঁজে পেলো। শিক্ষিত। সরকারি চাকুরি করে। পারিবারিক অবস্থানও ভালো। এইচ.এস. সি পরিক্ষা দেওয়ার সাথে সাথে রেজাল্ট আসার আগেই বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের সময় দেন মহর হিসেবে ৭ লক্ষ টাকা লেখা হয়। ( সাধারণত এই টাকা গুলো লেখা হয় মেয়েটির সংসার যদি কোন দিন ভেঙ্গে যায় তাহলে এই টাকা গুলো দিয়ে মেয়েটিও তার সন্তান নিয়ে জীবন কাটাতে পারে) আর মেয়ে পক্ষ যৌতুক হিসেবে প্রায় ১লক্ষ ৫০ হাজার টাকার বিভিন্ন জিনিস পত্র দেয়। বেশ ভালোই যাচ্ছিলো তাদের সংসার। কিন্তু হঠাৎ একদিন স্বামীর পরিবার বেশ কিছু টাকা চেয়ে বসে। টাকা আনতে দেরি হচ্ছে দেখে তাকে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করতে শুরু করে। আর ফারজানা প্রতিবাদ করলে স্বামীর পরিবার স্বামীকে ফারজানার বিরুদ্ধে এটা সেটা বলে স্বামীর হাতেও নির্যাতন করাতো। এভাবে প্রায় এক বছর কেটে গেল। নির্যাতনের আঘাতে গর্ভে থাকা সুন্দর পুটপুটে মেয়ে শিশুটি জন্মানোর সময় প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নিলো। শিশু প্রতিবন্ধী হওয়ারও অভিযোগ তার উপর আনে। প্রতিবন্ধী শিশুর দায়িত্ব নিবেনা বলে ঔ শিশুকে গলা টিপে হত্যা করারও চেষ্টা করেছিলো পাষুন্ড শাশুড়ী। এক পর্যায়ে তাকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো। সামাজিক ভাবে মেয়ের বাবা মা কয়েক জন গন্য মান্য ব্যাক্তিকে নিয়ে সুবিচার পাওয়ার জন্য শালিসের আয়োজন করেছিল। কিন্তু টাকা ও ক্ষমতাসীন দলের দাপটে ফারজানার উপর সব দোষ নিয়ে আসলো। যেন স্বামীর পরিবার দোয়া তুলসী পাতা। মেয়েটির সংসার ভেঙ্গেছে প্রায় ৫ মাস। আর শিশুটির বয়স ১৬ মাস। এখন পর্যন্ত কোনো রকম খোঁজ খবর নিলো না তার স্বামী ও স্বামীর পরিবার। ফারজানার উপর এই নির্যাতন ও সন্তানের উপর এত বড় দায়িত্বহীনতার কারণে ফারজানা সিদ্ধান্ত নিলো আইন আদালতের মাধ্যমে যেভাবে হোক সঠিক বিচার করাবে। কিন্তু এদিকে ফারজানার পরিবার তার পাশে থাকছে না। যদিও এর পেছনে কারণ আছে। পরিবার চাপসৃষ্টি করেছে তাকে তার এই সিন্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়াতে। কিন্তু ফারজানা তার সিদ্ধান্তে অনড়। সেই জন্য সাংবাদিক থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের ও আইনের আশ্রয় নিতে তাদের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। যাতে ফারজানা সঠিক বিচার পায়। এদিকে ফারজানা তার ফেসবুক ওয়ালে বার বার লিখে আসছে তার প্রতি অন্যায়ের সঠিক বিচার পেতে।
অনেক গুলো সাংবাদিক তার প্রতি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লেখা লেখিও শুরু করেছে।
আমি প্রশাসন ও সরকারের কাছে অনুরোধ করছিযে ফারজানার উপর অত্যাচার এবং শিশু সাইফার প্রতি এমন অন্যায়ের সুবিচার করে। ফারজানা ও শিশু সাইফা যেন তার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ২:১৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×