উকিল কোর্ট মোহরার তিন নাম জপতে জপতে রহিমার তিনদিন কেটে গেল। তবু কুলকিনারা পেলোনা। উকিলের কাছে থেকে শুধু জানতে পেরেছে স্বামী আইনুল্লা তিন বোতল ফেন্সিডিলসহ ধরা পড়েছে।
ফেন্সিডিল কি—রহিমা জানেনা। আর আইনুল্লা তা কোথায় পেলো সে হিসেবও মেলাতে পারছেনা। তার গো-বেচারা স্বামী, ফেন্সিডিল দিয়ে কি করবে। অথচ এজাহার বলছে- আইনুল্লা ব্যবসা করে।
তওবা তওবা। যে মানুষটা বাজারের ফর্দ ভুলে যায়, সে ব্যবসা করে?তা হতে পারেনা। পুলিশ হয়তো ভুল করে আমার স্বামীকে মামলায় ঢুকিয়ে চালান দিয়েছে।
এ ক’দিনে উকিল কোর্ট আর মোহরার এই শব্দগুলো রহিমা এতবার জপেছে যে, যদি এভাবে আল্লাহর নাম জপতো, তবে বেহেস্তের দরজা খুলে যেত।
কিন্তু স্বামী এই তিনদিন ধরে জেলে। বাড়িতে খাবার বলতে পাতিলে রাখা কিছু চাল। এই দিয়ে তিনটে সন্তানের মুখে কি করে কি দেবে,ভাবতে মাথা ঘুরে যায়।তবু যদি বেইলটা হয়ে যায়।
উকিল সাহেব বলেছেন, এটা নাকি মদের মামলা।রহিমার মাথা ভনভন করে। এজাহারে ফেন্সিডিল লেখা।অথচ উকিল সাহেব বলছেন, মদের মামলা।
মোহরার এসে বললো না,বেইল হয়নি। জেল গেটে গিয়ে দরখাস্ত করলে স্বামীর সাথে দেখা করতে পারবে।
এদিকে বেলা গড়িয়ে যাচ্ছে।তাই রহিমা জেল গেটে গিয়ে কারারক্ষীকে অনুনয় করে বললো, তিন দিন থেকে আমার স্বামী জেলে।আমি দেখা করতে চাই।
কারারক্ষী ধমক দিয়ে বললো, কে তোমার স্বামী? আর কেইছ নং, থানার নাম লিখে দরখাস্ত এবং দু’শ টাকা নিয়ে এসো, তারপর ব্যবস্থা করে দেব।
রহিমা বললো, তার নাম আইনুল্লা,থানা-গোয়াইনঘাট।আমি লেখা-পড়া জানিনা স্যার।আর দু’শ টাকা! আমার কাছে এই পঞ্চাশ টাকা আছে। বাড়ি যেতে ষাট টাকা ভাড়া। আমি বাড়ি যাই কি করে আর আপনাকে দু’শ টাকা কোত্থেকে দেই।
দয়া করে এই বিশ টাকা নিয়ে আমার স্বামীর সাথে দেখা করার ব্যবস্থা করে দিন স্যার। আজ তিন দিন থেকে আমি না খেয়ে আছি। ছেলে-মেয়েগুলো আমার পথ চেয়ে আছে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



