আমি ঢাকায় এসেছি তিন বছর হল। শুরুতে দেখেছিলাম মসজিদের প্রথম কাতারে ইমাম সাহেবের পিছনে বেশ কয়টি জায়নামাজ বিছানো থাকে যেখানে সাধারনত কেও বসেনা। নামাজের একটু আগে জায়গা গুলোতে লোক বসে যায়। তখন ভেবেছিলাম এটাই হয়তো ঢাকার মসজিদের নিয়ম। পরে শুনলাম ওগুলো মসজিদ কমিটির সভাপতি, সেক্রেটারী বা অন্যান্য নেতাদের জন্য সংরক্ষিত কিছু আসন। কিছুটা অবাক হয়েছিলাম কারন আমি বেশি ইসলামী বই পরিনি তবে কমও পরিনি, তাতে কোথাও পাইনি যে, কোন ব্যাক্তির জন্য মসজিদে জায়গা সংরক্ষন করা যায় ইমাম সাহেব ছাড়া।
গত শুক্রবার ০৩.০৮.২০১২ ইং তারিখে একটি পাঁচতলা মসজিদে নামাজ পড়তে গেলাম, জায়গা হবে না বলে দুপুর ১২ টার আগেই পৌছে গেলাম, দেখলাম নীচতলায় বেশ কিছু জায়গায় টুপি, মেসওয়াক, জায়নামাজ ইত্যাদী রাখা। একটি জায়গায় দেখলাম একজন ভদ্রলোকের মত বসে আছেন তার বাম পাশে একটি জায়নামাজে ছোট একটি বাচ্চা এবং ডান পাশে একটি টুপি রাখা অর্থাৎ তিনটি জায়গা দখল করে তিনি বসে আছেন। আমি বুঝতে না পেরে সেখানে গেলাম এবং বসার চেষ্টা করতেই সে বলে উঠে আগে আসতে পারেন না? এখানে লোক আছে, অন্য জায়গায় যান। আমি বললাম লোক কই? দেখছিনা তো? সে বলে ওযু করতে গেছে । আসলে আল্লাহ ভাল জানেন আদৌ সে জায়গায় কোন লোক আসবেন কিনা? নিজের অজান্তেই মুখ থেকে বের হল মসজিদেও জায়গা দখল? কোথায় যাব? আল্লাহ মাফ কর।
এটি বলার সাথে সাথে এসির মধ্যেও পরিবেশ গরম হয়ে গেল। এটি আমি কি বললাম? তারা আসছে নামাজ পড়তে এবং অন্যদের জন্য জায়গা রাখতে, আমি কেন তা বলতে গেলাম?
এবার পাঠক সমাজের কাছে আমার প্রশ্ন:
# আমি কি অন্যায় কিছু বলেছি না কি সে অন্যায় কিছু করেছে?
# সে যা করেছে তাহা ইসলামের কোথাও আছে কিনা?
# ইমাম এবং মসজিদ কমিটির লোকরা যারা এটি করে আসছে তারা গুনাহগার হবে কিনা?
# যারা ছোট একটি মসজিদের মাঝে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে পারে না তাদের দ্বারা সারা দেশে বা বিশ্বে ইসলাম কিভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে?
ইসলাম সাম্য-শান্তির ধর্ম, এখানে রাজা-প্রজা, ধনী-গরীব সবাই সমান আর মসজিদ? সেখানেতো কথাই নেই। আসুন ভেদাভেদ ভুলে আল্লাহর ইবাদত করি, আল্লাহ কারও শরীর, পোশাক বা ধন সম্পত্তির দিকে তাকায় না তাকায় মানুষের অন্তরের দিকে। আসুন অন্তরকে পরিশুদ্ধ করি। দুনিয়া এবং পরকালকে মজবুত করি।
মামুন ভাই এর সৌজনেয
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে এপ্রিল, ২০১৩ দুপুর ১২:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



