somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চায়ের আড্ডা থেকে . . . . . . .. . . .. !!!

২০ শে এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তৌহিদ মাহমুদ
তারিখ ১৯ এপ্রিল ২০১৩

চারিদিকে সবুজ আর সবুজ । মাঝখানে একটি টংয়ের ছাউনি । এটাই আমাদের টিয়া চাচার চায়ের দোকান । শুক্রবারের অলস বিকেলটা, আমাদের এখানেই কাটে জম্পেস আড্ডার মধ্য দিয়ে ।
রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, ধর্ম, প্রেম-ভালবাসা, সংসার-কর্ম কোন কিছুই বাদ পড়ে না আমাদের আড্ডার বিষয়বস্তুর তালিকা থেকে ।
দূরথেকে হাটতে হাটতে আসল আমাদের আরেক প্রিয় মানুষ কলিম চাচা। ছন্নছাড়া পোশাক, উস্কো খুস্কো চুল আর মুক্তিযুদ্ধে ডানহাত হারানো আমাদের কলিম চাচাকে দেখতে অনেক বিষন্ন লাগছিল । কলিম চাচাকে চা খেতে বলে জিগ্যেস করলাম, চাচা তোমাকে এত বিষন্ন দেখাচ্ছে কেন ?

চায়ে চুমুক দিয়ে কপালে ভাঁজ ফেলে কলিম চাচা বলতে শুরু করলেন, মাঝে মাঝে দেশটাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে পারি না । কোথায় যাচ্ছি আমরা । রাজনীতি প্রবেশ করেছে আমাদের প্রতিটি রন্দে¦্র রন্দে¦্র , শিরায় শিরায় । সবকিছুতেই রাজনীতিকরণ, এভাবে কি একটি দেশ চলতে পারে ? এর জন্য কি ৭১ এ দেশটাকে স্বাধীন করেছিলাম ?

৪২ বছর পর যুদ্ধোপরাধী বা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে গিয়ে বস্তুত দেশটাকেই দুই খন্ডে বিভক্ত করার শুরু । অথচ স্বাধীনতার ৪২ বছর পূর্বে স্বাধীনতার মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন সকল যুদ্ধোপরাধীদের সাধারন ক্ষমা ঘোষনা করেছিলেন তখন তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কেন এমন করলেন। তখন তিনি বলেছিলেন কার বিচার করব ? বিরোধীরা কেউ তোমার ভাতিজা, উমুকের চাচা, তমুকের মামা । বিচার করতে গেলে জনগনের মধ্যে বিভাগ জন্মাবে । জনগনকে বিভক্ত করে আর যাই হোক দেশ চালানো যায় না।
অথচ ৪২ বছর পর বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধোপরাধী বা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে গিয়ে পুরো দেশটাকে অশান্ত করে ফেলেছেন । কি হত যদি দলমত নির্বিশেষে নিরপেক্ষ, আন্তর্জাতিক মানের বিচার করা হত? বস্তুত দেশটাই যেন আজ দুই খন্ডে বিভক্ত । আর এই বিভাজন দেখে আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীর মত বুদ্ধিজীবিরা কিভাবে যে এর পক্ষে বলে বুঝিনা।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে কলিম চাচা বলতে থাকেন, শাহবাগ এর গনজাগরণ দেখে ভেবেছিলাম নতুন প্রজন্ম বুঝি জেগে উঠেছে, এইবার যদি পরিবর্তন হয়। পরে দেখলাম এর পেছনেও ক্ষমতার শিকারীরা। প্রজন্ম চত্বর থেকে প্রথমদিকে যুদ্ধোপরাধীদের ফাঁসির শ্লোগান নিয়ে আসলেও পরে এটি আর এই একটি মাত্র শ্লোগান এ সীমাবদ্ধ থাকেনি । পরে তা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ, হরতাল বিরোধী মিছিল এর মাধ্যমে রাজনীতিকরণ করা হয়েছে । পরে শুনলাম এর পেছনে নাকি প্রতিবেশী দেশও জড়িত। এদের কতকজনের লেখার উদ্ধত্যতা প্রকাশ পাবার পর হেফাজতে ইসলাম এর আবির্ভাব দৃশ্যত জনগনকে দুই ভাগে ভাগ করে ফেলেছে । একদিকে নাস্তিক শাহবাগ চত্বর অন্যদিকে ইসলাম, দুই ভাগে বিভক্ত দেশ।

বিচার ব্যাবস্থায় বিভাজন অনেকদিনের। তারপরও তার একটি সীমা ছিল । এখন যেন এটি সীমা ছাড়িয়ে গেছে। উচ্চ আদালতে সিনিয়র বিচারপতি যে রায় দেয়, জুুনিয়র বিচারপতি তার উল্টো রায় দেয় । আইনজীবিদের মধ্যে বিভাজনতো আরও প্রকট। আর এ বিভাজন নির্ধারণ হয় রাজনীতি দিয়ে।

ভলতেয়ার বলেছিলেন, ’’তোমার মতের সাথে আমার মতের মিল নাও থাকতে পারে কিন্তু জীবন দিয়ে হলেও আমি তোমার মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করব।” আর এখনকার কথা হল আমার মতের সাথে তোমার মতের মিল না হলে আমি তোমাকে জেলের ভাত খাওয়াব । হায়রে স্বাধীন দেশ।
সাংবাদিকদের মাঝে কিছু কিছু বিভাজন থাকলেও, সাগর-রুনির হত্যাকান্ড সবাইকে এক ছায়াতলে এনেছিল । সরকার নিজের সমালোচনা সহ্য করতে পারলেন না। আর সরকার নিজের সমালোচনা ব›ধ করার জন্য সাহসী মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করল। এর মাধ্যমে এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্থাপন নিয়ে সাংবাদিকরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ল । এখানেও রাজনীতিকরণ ।

পিজি হাসপাতালের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ঘোষনা দিয়েছেন, বিএনপিপন্থি সকল ডাক্তারকে হাসপাতাল থেকে বের করে দিবে, এর মাধ্যমে ডাক্তারদের মধ্যে বিভাজনও শুরু হয়ে গেল। কবে যেন ঘোষনা দেন আর চিকিৎসা নয় এবার মানুষ মারার পালা। হায়রে কপাল ।

এর জন্য কি ৭১ এ দেশটাকে স্বাধীন করেছিলাম ? স্বপ্ন দেখেছিলাম আমাদের দেশ হবে এক শান্তিময় দেশ । অভাব থাকবে না, দুর্নীতি থাকবে না। কিন্তু কি পেলাম ? পদ্মা সেতু দুর্নীতি, হলমার্ক কেলেঙ্কারী, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি, তিস্তার পানি, ফেলানী-বিশ্বজিৎ হত্যাকান্ড, গুম, গনহত্যা এইতো? এর জন্যতো আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি। মানুষের জীবনের আজ কোন দাম নাই । পত্রিকা পড়লে মনে হয় মানুষের জীবনের চেয়ে গাছের জীবনের দাম অনেক বেশী।

আজ এদেশে ঐক্য অনেক প্রয়োজন। কবে যে জাতি বিভাজন ভূলে সামনে তাকাবে । স্বপ্ন দেখবে এক সুন্দর ভবিষ্যতের । এই বিভাজন বন্ধের জন্য একজন মাহাথির এর খুব প্রয়োজন । যার নেতৃত্বে এক নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে ।

কলিম চাচার কন্ঠ ভারী হয়ে আসে । মুক্তিযুদ্ধ শেষে ছোট্ট ছেলেটা যখন প্রশ্ন করেছিল, বাবা মুক্তিযুদ্ধ কেন করেছ? বলেছিলাম বড় হও, দেখবে অনেক সুন্দর এক সোনার বাংলা । দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে ভাবি, সুনীলদার মত ছেলেটা না প্রশ্ন করে, বাবা আমি আর কত বড় হব? সেই সোনার বাংলা কবে পাব ? উত্তর জানা নাই।

ততক্ষণে সন্ধা হয়ে আসছে । ঝিরি ঝিরি দক্ষিণা বাতাস বইছে। দূর মসজিদ থেকে ভেসে আসছে মাগরিবের নামাজেন আযান।

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১১:৫০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×