প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার খরচ কমানোর উপায় ঃ
(সামহোয়ার ইন ব্লগ এ প্রকাশিত নিবন্ধ “ছোট প্রশ্ন, বড় উত্তরঃ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার খরচ” নিবন্ধ থেকে সংগৃহীত)
(১) ভ্যাট না নেবার ঘোষনাঃ কোন কোন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় যে পড়াশোনার খরচ বেশী নিয়ে থাকে তা ইতিমধ্যেই প্রমান হয়ে গেছে । ভ্যাট প্রত্যাহারের আন্দোলনের সময় একটি বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষনা করেছিল যে তারা ছাত্রদের কাছ থেকে ভ্যাট নেবে না । যেহেতু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে লোকসান দেবার সুযোগ নেই তাই ধরে নেয়া যায় যে এই বিশেষ বিশ্ববিদ্যালয়টি ভ্যাটের সমপরিমান টাকা কমালে তাদের কোন ক্ষতি হবে না জেনেই এমন ঘোষনা দিয়েছিল । যেহেতু সরকার ভ্যাট প্রত্যাহার করেছে তাই এই বিশ্ববিদ্যালয়টির উচিত হবে তাদের দেয় ফী থেকে এই পরিমান খরচ কমানো । অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলি অবশ্য এমন ঘোষনা দেয় নি, তাই তাদেরকে এই চাপ দেয়া যাচ্ছে না ।
(২) সেমিষ্টার সংখ্যাঃ আমাদের দেশের অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় দাবী করে থাকে যে তারা প্রধানতঃ আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুকরন করে থাকে । আমেরিকায় দীর্ঘকাল যাবত নানা কারনে এবং পরিপ্রেক্ষিতে অনেক ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে । অনেক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে ধনী মানুষের দানে । এইগুলিতে তাদের নিজেদের বিশেষ বিশেষ ইচ্ছার প্রতিফলন হয়েছে। এখানে আমেরিকার কয়েক ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বিষয় আলোচনা করব। সেখানে কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে বৎসরে দুইটি সেমিস্টার, আবার কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি সেমিষ্টার রয়েছে । প্রশ্ন হতে পারে, সাধারনভাবে বৎসরে দুই সেমিষ্টার গ্রহনযোগ্য প্রমানিত হবার পরেও তিনটি সেমিষ্টার থাকার কারণ কি । এর কয়েকটি কারণ হলো-
(ক) কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দোক্তারা চেয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন রিসার্চ কাজ বেশী চলে । তারা দেখেছেন, দুইটি সেমিষ্টার সমানে চললে শিক্ষকরা রিসার্চের সুযোগ তেমন পায় না । তাই তারা একটি তৃতীয় সেমিষ্টার রেখেছে যখন প্রধানতঃ রিসার্চের কাজ করা হয় ।
(খ) কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় দুই সেমিস্টারের মাঝে আরও একটি সেমিষ্টার রেখেছে যাতে পড়াশোনার দিক দিয়ে কিছুটা দূর্বল ছাত্ররা যাতে তাদের পিছিয়ে পড়া বিষয়গুলি কভার করতে পারে ।
(গ) কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় সেমিষ্টারটি রেখেছে যাতে আর্থিক ভাবে দরিদ্র ছাত্ররা অতিরিক্ত সেমিষ্টারটিতে পার্ট-টাইম কাজ করে পড়ার খরচ যোগাড় করতে পারে ।
দেখা যাচ্ছে, উপরের একটি কারণও আমাদের দেশের প্রযোজ্য নয় । তারপরেও অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তনটি সেমিশটার চালূ রেখেছে । সম্প্রতি বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব আর্কিটেকটস যৌক্তিক কারণে বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্য কোর্সে দুইটি সেমিষ্টার প্রবর্তনের আহবান জানিয়েছে । আমাদের দেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দোক্তারা বিদেশ থেকে সেই সব নিয়মই গ্রহন করেছে যেটি তারা ব্যবসা সহায়ক হবে বলে মনে করেছে । বৎসরে তিনটি সেমিষ্টার থাকলে প্রতি সেমিষ্টারে কিছুটা বেতম কম রেখেও বৎসরে দুই সেমিষ্টারের চেয়ে বেশী আয় করা যায় । যেমন, বৎসরে দুই সেমিষ্টার এবং প্রতি সেমিষ্টারের খরচ এক লক্ষ টাকা হলে বৎসরে খরচ হবে দুই লক্ষ টাকা। বৎসরে তিন সেমিষ্টার এবং প্রতি সেমিষ্টারে খরচ আশি হাজার টাকা হলে বৎসরে মোট খরচ হবে দুই লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা । তিন বার পরীক্ষায় ফি বাবদেও বেশী টাকা নেয়া যায় । প্রতিটি পরীক্ষার জন্য আগে প্রিপারেটরী লিভ, পরীক্ষা গ্রহন, ফল প্রকাশ ইত্যাদি বাবদ অনেক সময় লাগে । এর ফলে বৎসরে তিনবার পরীক্ষা হলে শিক্ষাদানের সময় পাওয়া যায় কম । যে সব বিশ্ববিদ্যালয় পার্টটাইম শিক্ষক দিয়ে কাজ চালায়, তারা সাধারনণতঃ লেকচারের সংখ্যার ভিত্তিতে টাকা দিয়ে থাকে । তিনটি সেমিস্টার চালু থাকলে শিক্ষার দিন-সংখ্যার সাথে সাথে লেকচারের সংখ্যা কমে যায় এবং এতে তাদের কিছু লাভ বাড়ে ।
(৩) কোর্স এর সংখ্যা ঃ আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বা পাচ বৎসর মেয়াদী স্নাতক কোর্সে সাধারনতঃ ১৪০ থেকে ২০০ ক্রেডিট স্বাভাবিক বলে ধরে নেয়া হয় । আমাদের দেশের অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় কিছু অতিরিক্ত কোর্স যুক্ত করে, বা কোন কোন ক্ষেত্রে একটি কোর্সকে কয়েকটি অংশে ভাগ করে কোর্সের সংখ্যা বাড়িয়েছে । সহজেই বোঝা যায় যে, কোর্সের সংখ্যা বাড়ালে আয় বাড়ে । অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আবার তাদের বা তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কিছু প্রকল্পের বিষয়কে অনাবশ্যক ভাবে বিভিন্ন প্রোগ্রামে ঢুকিয়ে কোর্সের সংখ্যা বাড়িয়েছে । কোর্স বা সেমিষ্টারের সংখ্যা বাড়ালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় বাড়ে, কিন্তু পড়ার মান বাড়ে না ।
সাধারনভাবে বলা যায়, তিন সেমিস্টারের স্থলে দুই সেমিস্টার করা হলে এবং কোর্সের সংখ্যা কমালে বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ কমবে এবং সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ছাত্রদের বেতনও কিছুটা কমানো সম্ভব হবে । তবে এ বিষয়ে ছাত্রদেরকেই অগ্রনী ভূমিকা নিতে হবে। আশার কথা এই যে আমরা দেখেছি, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ইতিমধ্যেই তাদের একটি ন্যায্য দাবী আদায় করার সংগ্রামে সাফল্য লাভ করেছে ।
অধ্যাপক বিজন বিহারী শর্মা । স্থাপত্য বিভাগ । আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



