
বাড়ির ফেরার সময় যখন হাতের কড়ি টেনে গণা হয় । যখন মনে হয় আর কয়টা দিন বাকি মাত্র । প্রিয়জনদের বলে রাখা বাহানা গুলো যখন জানিয়ে দেওয়া হয় এবার ঈদে লম্বা ছুটি পাবো । ঘুরতে যাবো সবাই মিলে । ঠিক সেই মুহূর্তে ভাবনার সকল আশা ক্রন্দিত হয় একটি দু:সংবাদ । জহিরুল অনেক দিন কাজ করেন আমাদের ফ্যাক্টরিতে , ছোট পদবী থেকে আজ সে সুপারভাইজার । কাজে, কর্মে, মনে কোন অহংকার নেই । সবাই কে সম্মান করে । নিয়ম মেনে নামাজ পড়ে । রংপুরের তারাগঞ্জ থানা তার বাড়ি । গার্মেন্টসে কাজ করছে ঠিক গণা গণা ৮ বছর । প্রতি ঈদ ছাড়া তেমন একটা বাড়ি যাওয়া হয় না । আর ঈদ আসলেই খুশির জোয়ারে আনন্দে বাসেন । দীর্ঘদিন অনেক দূরে থাকেন বলে এরা নিজেদের বিদেশী মনে করে । বছর শেষে জমে থাকা ছুটি গুলো পরিবার পরিজনের সাথে ব্যায় করবে বলে আকুল হয়ে থাকে বাড়ির ফেরার পথে । কখন হবে বন্ধ এই মেশিনের পাঠশালা । জহিরুল বিয়ে করেছে ৪ বছর হয়েছে , সুখের সংসার । একটি মাত্র ছেলে যার বয়স ২ বছর ৩ মাস । বাবা বলতে পারে, হাঁটতে ও পারে । তাই বাবার আদরের ছেলের সাথে রোজ কথা হয় । কথা হয় বাবাকে আদর করে বাবা ডাকতে । হয়তো বাবা মধুর শব্দটা জহিরুলের সারাদিনের ক্লান্ত শরীরের শক্তি । যে শক্তি জোগান না হলে কাজ করাটা দায়বার হয়ে যায় । পৃথীবির সব বাবাদের খবর জানি না , আমার বাবা ও আমাকে ভালোবাসতেন । আমি ও ভালোবাসতাম আমার প্রিয় বাাবকে । বাবাদের আদরের শেষ থাকে না । যাই হউক নিচে ফ্লোর ভিজিট দেতে গিয়ে দেখি অনেকগুলো মানুষের ভিড়ে কে যেনো কাদঁছে । ভাবলাম কোন সমস্যা , তাই তাড়াহুড়ি করে জানতে চাইলাম কি হয়েছে জহিরুল কাদঁছে কেনো । হাওমাউ করে কাঁদছে , মরা কান্নার মতো । কেউ একজন দূর থেকে বলছে স্যার জহিরুলের আড়াই বছরের বাচ্চাটা আজ কিছুক্ষণ আগে পানিতে ডুবে মারা গেছে । মারা গেছে শব্দটা শুনতেই নিরব পশমগুলো কেমন করে যেনো দাড়িয়ে গেলো । জহিরুলের শোকের কান্নাটা কেমন যেনো পুরো সেকশনে স্তব্ধ হয়ে রহিলো । জহিরুল একজনের কাধ থেকে আরেক জনের কাধে ধরে ধরে চিৎকার করছে , এমন কেনো হলো আমার সাথে । সকালে ও কথা বললাম আমার ছোট্ট খোকার সাথে , গতকাল ওর জন্য কতোগুলো খেলনা কিনলাম । বাবা বলে বলে সকালে ও কতো কথা হলো । আর এখন শুনলাম আমার আরিফ নেই । বাড়িতে গিয়ে কি দেখবো । কাকে বলবো আমাকে বাবা ডাকতে । মধুর বাবা ডাকটা কি আর শুনতে পাবোনা । শোকেই যেনো কাতর হয়ে গেলো জহিরুল । জিবনের মায়া বুজি হারিয়ে গেলো । বুকে আঘাত করতে করতে ব্যাথিত জহিরুলের শ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো । একটা মাত্র ছেলে তাও পানিতে ডুবে মারা যাবে । আল্লাহ এমন শাস্তি কেনো আমাকে দিলো । ছোট শিশুদের প্রতি মায়া সকলের থাকে । তাই এমন ভরা দু:সংবাদ আমি ও মানতে পারছিলাম না । স্বান্তনা দেওয়ার ভাষা ও ছিলো না । চোখেঁর কোণে জ্বল মুছতে মুছতে বলতে লাগলাম আল্লাহ এমন পরীক্ষায় মানুষকে ফেলো না , যাদের আপন মানুষ অকালে হারিয়ে যায় । যাদের হারিয়া যাওয়া স্মৃতি অজরে কাঁদায় আজীবন । জহিরুলের মতো অনেকেই মন পুশে আছেন ঈদ হবে আপন জনের সাথে , আপন নীড়ে । বসে আছে কবে বাজবে ছুটির ঘন্টা । কোন ছুটির ঘন্টা যেনো শেষ বেলায় শেষ না হয়ে যায় । সেই দোয়ায় রহিলো সবার জন্য । ।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৪:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



