মধ্যবিত্ত পরিবারের একটা ছেলেকে তার ছোটবেলা থেকেই তার বাবা মায়ের কাছে যে কথাটা সবচেয়ে বেশি শুনতে হয় সেটা হলো তাকে অনেক বড় হতে হবে। এই বড় হওয়া মানে লম্বায় বড় হওয়া নয়। টাকা পয়সায় বড় হওয়া...... অনেক বড়ো হওয়ার জন্য একটা বাড়ি, একটা গাড়ি খুব প্রয়োজন। সহজে বাড়ি গাড়ি পাওয়ার উপায় হিসেবে বাবা মায়েরা তাদের সন্তানদের ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বানাতে চান। একটা ছেলে যতোটুকু না সত্যিকার অর্থে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় তারচেয়ে বেশি ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় টাকা পয়সা বাড়ি গাড়ির জন্য !
একজন বাবা তার ছেলেকে বড়ো কোনো ডাক্তারের চেম্বার, দৈনিক ৩০০০০ - ৪০০০০ হাজার টাকার ইনকাম দেখিয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখায়! তারচেয়ে বাবা টা যদি তার ছেলেকে কোনো হাসপাতালে নিয়ে যায়। তারপর দেখায় অসংখ্য অসুস্থ মানুষকে ডাক্তাররা সুস্থ করে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছে,আরো অসংখ্য মানুষ আসছে তাদের কাছে সুস্থ হওয়ার জন্য ! বাবা টা যদি তার ছোট সন্তানকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়া একজন বৃদ্ধের হাসির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়, মানুষকে সুস্থ করে দেয়ার আনন্দের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। এরপর বলে
- তুমি যদি ডাক্তার হও তাহলে এইরকম মানুষকে সুস্থ করতে পারবে। মানুষকে সুস্থ করার মধ্যে একটা আনন্দ আছে। ডাক্তার হলে সারাজীবন সেই আনন্দের মধ্যে থাকবে ! হবে তুমি ডাক্তার ??
তাহলে সেই বাবাটাকে আর কখনোই তার সন্তানকে পড়াশোনার জন্য জোর করতে হবে না। ছেলেটা নিজে নিজেই পড়াশোনা করে ডাক্তার হবে ।একজন সুখী ডাক্তার হবে !
একজন বাবা যদি তার সন্তানকে স্টেডিয়ামে নিয়ে যায় ক্রিকেট খেলা দেখানোর জন্য ! এরপর স্টেডিয়াম ভর্তি মানুষদের দেখিয়ে তার সন্তানকে বলে
- এই পুরো স্টেডিয়াম ভর্তি হাজার হাজার মানুষ এসেছে এই এগারোটা ছেলের খেলা দেখার জন্য! পুরো বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে এই এগারোটা ছেলের দিকে! তুমি যদি ক্রিকেটার হও তাহলে এই স্টেডিয়াম ভর্তি মানুষকে,পুরো বাংলাদেশকে আনন্দ দিতে পারবে !তুমি এদের জন্য কিছু করতে পারবে ! হবে তুমি ক্রিকেটার ??
এই ছেলেটা যদি ক্রিকেটার হয় তাহলে সে সবসময় মানুষের জন্য খেলবে ।আনন্দে খেলবে। টাকা, গ্ল্যামার, মেহজাবিন, গ্ল্যাক্সোজ, লাইফবয়, টিফিন বিস্কুটের জন্য খেলবে না! কখনোই না!
এভাবে একটা বাবা মা তার সন্তানকে শিক্ষক হওয়ার আনন্দের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে পারে, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার আনন্দের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে পারে, পরিচয় করিয়ে দিতে পারে আশেপাশে যতরকমের কাজ আছে, পেশা আছে তার আনন্দের সঙ্গে ! এরপর সন্তান যা হতে চায় হবে। সিদ্ধান্তটা সন্তানের ।বাবা মা শুধু সবসময় সবচেয়ে ভালো বন্ধু হয়ে সন্তানের পাশে দাড়িয়ে থাকবে !! সন্তানের সুখের জন্য !
বাবারা কেনো একটা ছেলে কিংবা একটা মেয়েকে টাকা পয়সার জন্য বড় করে তোলার চেষ্টা করে? আমি জানি না!
বাবা তার সন্তানকে অ আ ক খ শেখায় কিন্তু কখনো জোছনা দেখা শেখায় না! "লেখাপড়া করে যে, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে" এই লাইন শেখায় কিন্তু বৃষ্টিতে ভেজা শেখায় না! ছেলে মেয়ে বৃষ্টি ভিজতে গেলেই "ঠান্ডা লাগবে" বলে ঘরে আবদ্ধ করে রাখে । ছেলে মেয়ের আশেপাশের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আনন্দের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় না ।
বরং তাকে সবসময় শেখায় পাশের বাড়ির ছেলেটার মতো তাকে পরীক্ষায় ফার্স্ট হতে হবে। নীচতলার ভাইয়াটার মতো মেডিকেলে পড়তে হবে ! শুধু প্রতিযোগিতা আর প্রতিযোগিতা!!
কি সেলুকাস! কি প্যাথেটিক ! কতো বাবা মা এর উপর সন্তানেরা চাপা অভিমান রাখে তার খবর তারা রাখে না!
বাবা মা রা বরং তার সন্তানকে টাকা পয়সার সাখে পরিচয় না করিয়ে সুখ আনন্দের সাথে পরিচয় করিয়ে দিক! তাদের সন্তানকে নিয়ে জোছনা দেখুক, বৃষ্টিতে ভিজুক! এতোটুকু শিখিয়ে দিক তিনচাকার রিক্সাওয়ালাটা চার চাকার গাড়িতে বসে থাকা মানুষের চেয়ে সুখে থাকতে পারে ! নদীর ধারে খালি পায়ে দাড়িয়ে বাতাস খাওয়াতে যে আনন্দ আছে, এসি ঘরে বসে সে আনন্দ পাওয়া যাবে না! এতোটুকু শিখিয়ে দিক- জীবনে টাকা পয়সা ই সবকিছু না। সুখে থাকটাই বড়ো কথা! বরং টাকা পয়সা,প্রতিযোগীতার পেছনে ছুটলে সুখেরা জীবন থেকে দূরে সরে যাবে!
এই সন্তানেরা সুখী হবে!জীবনে যদি কিছু করতে নাও পারে তবুও একটা কবিতা লিখে সে সুখে থাকবে! বাবা মায়ের প্রতি চাপা অভিমান জন্মাবে না। বাবা মা রা বৃদ্ধাশ্রমেও যাবে না!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


