somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রোজার মাসের রম্য বাসভ্রমন

২১ শে জুন, ২০১৫ সকাল ১১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাতসকালে ঘুম থেকে উঠে রেডি হয়ে গাড়িতে চেপে বসলাম। যাত্রাবাড়ী থেকে বিকল্প পরিবহনের বাসে উঠেই ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে দেখি একটা সিট ফাঁকা। আধবোজা চোখে তাকিয়ে থেকে মুখে মুচকি হাসি টেনে মনে মনে বলতে লাগলাম 'মওকা মওকা'
.. কারণ সারাটা রাস্তা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে গান শুনতে শুনতে যেতে আর কোন প্রবলেমই হবে না।

চোখ বন্ধ করে গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে গেছি। হঠাৎ ঘুম ভাঙলো কন্ডাক্টরের চেঁচামেচিতে। মুখটা হাসি হাসি করে বলল -' ভাড়া দ্যান '
/
পকেট থেকে ৫০ টাকার নোট বের করে দিয়ে হাত পেতে আবার চোখ বন্ধ করে বসে রইলাম। হঠাৎ মনে খটকা লাগলো - মামুর ব্যাটাকে ৫০ টাকার নোট দিলাম , বাকি খুচরো টাকা দিতে তো এতক্ষন লাগার কথা নয়।
তখনও আমি সিটে হেলান দিয়ে শুয়ে আছি। আলসেমির কারনে সোজা হয়ে বসতে ইচ্ছে করছে না। চোখ খুলে ডাকলাম ব্যাটাকে , আমার টাকা মেরে দেয়ার ধান্দা (!!)
/
- ঐ কন্ডাক্টর বাকি টাকা দাও
- কিসের টেকা ??
- কিসের টাকা মানে !!!! ?
- আফনে তো আমার কাছে কোন টেকা পান না
- এই ব্যাটা বলে কি ? যাত্রাবাড়ী থেকে ধানমণ্ডি-৩২ তো ২০ টাকা ভাড়া। আমার বাকি টাকা কি পদ্মাসেতু করার তহবিলে চলে গেল নাকি ??
- ঐ মিয়া অপ যান। দুইজনের ভাড়া ৫০ টেকা। হুদাই বাৎচিত কইরেন না দেহি।
/
আমি এবার আকাশ থেকে পড়লাম। দুইজন পেলো কই ?
/
- ঐ ব্যাটা আমি তো একাই। দুইজন পেলি কই ?
- ক্যান আফনে আর আফামনি ?
- তোমার আফামনি আমদানি হল কোত্থেকে আবার ?
- লগে লইয়া ঘুমাইতাছেন , আবার জিগান কইত্তে আমদানি ? মজা লন মিয়া ?
/
ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি আমার পাশে জানালার সাথের সিটে এক সুন্দরী তরুণী আমার কাঁধেই মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে। আমিও চোখ বন্ধ করে গান শুনতে শুনতে ঘুমাচ্ছিলাম তাই আর খেয়াল করা হয় নি। একেই ব্যাটা ভেবেছে "লগে লইয়া ঘুমাইতাছি"। জীবনটা আমার পুরাই গেবন বানাইয়া দিল বাসভর্তি লোকের সামনে।
আশপাশ থেকে শুনছি কেউ কেউ বলছে
- দেখছ কি কিউট কাপল
- ভাইবোন মনে অয় , চেয়ারায় তো মিল আছে।
- বেলাজ , বেশরইম্মা রোজার দিনেও গাড়িত উইট্টা... ... ছিছিছি...ছি
/
কান গরম হয়ে যাচ্ছে সাইড কমেন্ট শুনতে শুনতে। চুপ করে থাকলে বিপদ .. ..
- এরে আমি চিনি না।
- হইছে হইছে এমুন ভাড়া না দেয়ার লাইজ্ঞা বহুত ব্যাডাই গাড়িতে উইঠা আর লগের মাইয়ারে চিনে না। অপ যান , কুনু ভাড়া ফিরত পাইবেন না।
- একবার বলছি না এই মেয়ে আমার সাথের না। ভুল করে ঘুমিয়ে গেছে কাঁধে মাথা রেখে।
/
কেমন মেয়ে মানুষ মাইরি ! এতকিছু হয়ে যাচ্ছে কিন্তু সেতি কি সুন্দর নির্বিকারভাবে ঘুমুচ্ছে। কন্ডাক্টর ডাকলো জোরে জোরে
- আফা এই আফা, আফা , আফনে যাইবেন কই ? (প্রায় ১০-১৫বার ডাকার পর মেয়ের ঘুম ভাঙ্গে)
- আসাদগেট। (এই বলেই সুন্দরী আবার ঘুম )
/
আমি বললাম দুইজনের ভাড়া ৪০ টাকা রেখে বাকীটা ফেরত দাও। কন্ডাক্টর কিছুক্ষন বিমর্ষ বদনে চেয়ে থেকে ১০ টাকা ফেরত দিয়ে চলে গেল।
/
.. .. .. ভার্সিটির কাছাকাছি এসে পড়েছি। এবার আমি ডাকলাম মেয়েকে...
- এই যে হ্যালো , ম্যাডাম ভিক্টোরিয়া , এই যে শুনছেন
- জি বলুন।
- আমার কাঁধ থেকে নামুন। আমাকেও বাস থেকে নামতে সুযোগ দিন।
- সরি সরি , খেয়াল করতে পারি নি। আমি আসলে সারারাত ঘুমাইনি তো তাই ভুলে ঘুমিয়ে গেছি গাড়ির ভেতর।
- হ্যাঁ হ্যাঁ অন্নেক ভালো কাজ করেছেন। আমায় একেবারে উদ্ধাআআর করেছেন। দিন ২০টা টাকা দিন আমি সামনের স্টপেজে নেমে যাবো।
- ২০ টাকা কেন ?
- কেন আবার ! আপনি আমার কাছে ঋণী। তাই ২০ টাকা দেবেন।
- ভুল করে না হয় আপনার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়েই গেছি , তাই বলে আপনি এর জন্যে ২০ টাকা চাইতে পারেন না।
- কি বিপদ ! আপনি ঘুমিয়েছিলেন বলে আপনার ভাড়া আমি দিয়ে দিয়েছিলাম।
- আপনি কেন আমার ভাড়া দেবেন !!
- কারণ আপনি আর আমি একসাথে ভেবে ১মে আমার কাছ থেকে দুজনের ভাড়াই কেটে নিয়েছিল। আপনি ঘুমুচ্ছেন দেখে আর আমি বিরক্ত করি নি। ভেবেছিলাম নামার সময় আপনার কাছ চেয়ে নেবো।
/
পাশের সিটের যাত্রীরাও আমায় সমর্থন জানিয়ে বিজ্ঞের মত মাথা দোলালেন। সুন্দরীও আমায় ৫০ টাকার নোট দিয়ে বলল .. .. ..
..
- আমার কাছে ভাংতি নেই
- আমার কাছেও তো নেই
- আরেকদিন না হয় কখনও দেখা হলে ফেরত দেবেন
- এটা হয় নাকি !
- হবে না কেন ! প্লিজ নিন
- আচ্ছা
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুন, ২০১৫ সকাল ১১:৩৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:১৪

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?
--------------------------------------------------------------------
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিকে কেন্দ্র করে ইউপিএলের বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা, কর্মীদের আটকে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ
একটি বইকে কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Extra Long - Dual Coverage!

লিখেছেন মুনতাসির, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

আজান দিলে আমাদের দেশের অনেক নারীর মাথায় কাপড় দেওয়ার একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। আজান শুরু হলো, ওড়না মাথায় উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে মাঝখানে চিন্তাভাবনার বিশেষ সুযোগ নেই।

সমস্যা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল-জলন্ত

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
অলকা থাকে আমেরিকার ফারগো নামক শহরে। খুবই ছোট শহর। শহরটি ছবির মতন সুন্দর। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত পড়ে। এলিন নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে অলকা দুই রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩

গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16



১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×