somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছু তিক্ত কথাঃ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সকল শিক্ষার্থীদের পুরোটা পড়ার অনুরোধ রইল সেই সাথে জানিয়ে রাখছি এখানে কিছু সরকারবিরোধী কথা বলা হবে যার জন্যে আমায় জেলে নিয়ে গেলেও আমি আপত্তি জানাব না। কারণ আমি যথেষ্টই হতাশ !

০৯ ই জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৩:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি শুভ। ৩ ভাই বোনের মাঝে মা-বাবার বড় সন্তান। মধ্যবিত্ত ফ্যামিলি বলতে ঠিক যা বোঝায় তাই হচ্ছি আমরা। বৈমানিক হবার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পর পরিকল্পনা ছিল বিমানবাহিনীতে যোগদান করবো। কিন্তু আমার বাবা তাতে সায় দেন নি। একপর্যায়ে পরিবারের নানা চরাই উৎরাই পেরিয়ে বাধ্য হয়ে প্রাইভেট ফ্লায়িং একাডেমীতে ভর্তি হই আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন পূরণের জন্যে। সেখানেও অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে মধ্যবিত্ত পরিবারের নানা অর্থনৈতিক প্রতিকূলতায় ১.৫ বছর পড়ার পর বাবার ইচ্ছেয় ভর্তি হই একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিঙ কোর্সে।
.
.
আমায় প্রতিদিন দেখতে হয় কিভাবে আমার বাবা ভোর ৫টায় বেড়িয়ে রাত ১২টায় ঘরে ফেরেন এই পরিবারের মানুষগুলোর ভাগ্যের চাকা সচল রাখার জন্যে। আমায় দেখতে হয় কিভাবে আমার মা দিনের পর দিন মধ্যবিত্ত পরিবারের অজস্র সমস্যার মুখোমুখি হয়ে এই পরিবারের শান্তির রাশ টেনে ধরে রাখেন। আমায় প্রতিদিন দেখতে হয় শুধু মধ্যবিত্ত হবার অপরাধে জীবনের নানা স্বাদ , রুপ , রস , গন্ধ , ইচ্ছে , আকাঙ্ক্ষা এমনকি কখনও কখনও আমার ন্যূনতম সাধ পূরণ না হবার আক্ষেপ। মধ্যবিত্ত পরিবারে সর্বদাই আমাদের সবাইকে চারপাশের মানুষগুলোর চোখে আত্মসম্মানের ভয়ে সুখি থাকার অভিনয় করে যেতে হয়।
.
.
আমাদের দেশে মোট শিক্ষার্থীর ৪০% ভর্তি হতে পারে পাবলিক ভার্সিটিগুলোতে যেথায় পড়াশোনার খরচ কম এবং এর কারনেই সুযোগ রয়েছে নিজের ও পরিবারের স্বপ্ন পূরণের। কিন্তু বাকি ৬০ ভাগ শিক্ষার্থী কোথায় যাবে ? তারা কি শিক্ষার মৌলিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে ? তাদের কি পড়ালেখার প্রয়োজন নেই ? তাই বাকিদের ভর্তি হতে হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়ুয়া ৯৫ভাগ শিক্ষার্থীই মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা। কারও বিশ্বাস না হলে তারা যাচাই করে দেখতে পারেন তথ্যটি। এখানে ৪ মাস পর পর প্রায় গড়ে ৫০০০০-৬০০০০ টাকা দিতে দিতে আমাদের শিক্ষার্থী যারা আছি আমাদের পরিবারে নাভিশ্বাস উঠে যায়। নাক মুখ চোখ বন্ধ করে সবাই দিন জপতে থাকে কবে ৪টা বছর শেষ হবে। সে এক নরকবাসের সমতুল্য অভিজ্ঞতা।
.
.
তো মিঃ মাননীয় অর্থমন্ত্রী আপনি ও আপনার সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রাইভেটে আমরা যারা পড়ি আমাদের সবারকে আমাদের এই লক্ষ লক্ষ টাকার কোর্সফির ওপরে উল্টো আরও আপনাদের ৭.৫% - ১০% মুসক বা ভ্যাট দিতে হবে। বলি পাগল কে ? আপনারা নাকি আমরা যারা পড়াশোনা করছি তারা ?
.
.
মাননীয় অর্থ মন্ত্রী সাহেব,
... ... ... প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির সামনে স্টুডেন্ট'সদের পার্কিং করা গাড়ি গুলো দেখে কি এতোই লোভ হয় যে বাজেটের নামে সেখান থেকেও ৭.৫% - ১০% মেরে দেবার প্রক্রিয়া করলেন? কিন্তু সেখানে যে কতো হাজারো মধ্যবিত্ত পরিবারের মা বাবারা একমাত্র সহায় সম্বল জমিটাও বিক্রি করে খরচ পাঠায় তার সন্তানদের ইঞ্জিনিয়ার / শিক্ষিত বানানোর জন্য, তাদের কথা ভাবলেন না?
.
.
আচ্ছা মূসক =মূল্য সংযোজন কর। আমরা কিসের উপরে তাহলে ট্যাক্স দেবো ? মূসক তো ক্রেতাকেই দিতে হয়। তো প্রশ্ন হচ্ছে আমরা কি ক্রেতা নাকি শিক্ষার্থী?? এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয়ার মানে টা কি জনাব মাল ? আপনার কাজকর্মের সাথে তো আপনার নামের ব্যাপক মিল পাওয়া যাচ্ছে। আমরা তো শিক্ষার্থী। ক্রেতা হবো কেন!!! আর কর যেসব কারনে নেয়া হয় তার মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে বিনিয়োগও একটা। আমাদের কাছ থেকে কর নিয়ে তা শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়নের জন্য দেয়া হয়। তাহলে সেই শিক্ষাক্ষেত্র থেকে কিসের কর!!!!!! তাহলে কি সরকারি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরাই শিক্ষার্থী!!!!!!"
.
.
.
পাবলিক ইউনিভার্সিটিগুলো এখনও সরকারের ভর্তুকি দিয়ে চলে। আর সেই ভর্তুকির টাকার বড় অংশ আসে এই বেসরকারি ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের বাবা-মার দেয়া করের টাকা থেকে। পরোক্ষভাবে আমাদের মা-বাবারা কিন্তু নিজের সন্তানের পাশাপাশি এই দেশের অন্যান্য বাবা-মার মেধাবী সন্তানদের পড়াশুনার অর্থ যোগানে সরকারকে সাহায্য করছে। নাকি এটাও ভুলে গেছেন ?? আমি এখানে পাবলিক ভার্সিটির ছাত্রদের ছোট করার জন্যে কথাটা বলি নি। বলেছি সরকারের বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ভুল সিস্টেমের কথা।
.
.
প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক করে দিচ্ছেন , খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষার ব্যাবস্থা করছেন , নারীদের উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি করে দিচ্ছেন , ফ্রি বই দিচ্ছেন , মিলাদের পর ফ্রি তোবারকের মত গণ্ডায় গণ্ডায় জিপিএ ৫ বিলিয়ে দিচ্ছেন। তো এতকিছুর পরিনাম কি এই ? দেশের বেশিরভাগ স্টুডেন্টদের উচ্চশিক্ষার পথ শিক্ষার খরচ বাড়িয়ে দিয়ে তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দেয়ার জন্যে !! পারেন বটে :(
.
.
মন্ত্রী হয়েছেন বলে তো আপনি মাথা কিনে নেন নি। আমাদের মৌলিক অধিকারের ওপর নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ আপনি করতে পারেন না। প্রতিটি পদে পদে আপনার সরকার এবং আপনি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটাকে "হীরক রাজার দেশ" বানিয়ে ছেড়েছেন। জনগনের টাকায় ভূরিভোজন করে মুখ মুছছেন সেই জনগনের অধিকারেই।
.
.
জানেন আসলে একটা সত্যি কথা ? নিজেদের দুর্নীতির কারনে পদ্মা সেতুর জন্যে ঋণ না পেয়ে নিজস্ব অর্থায়নে সেতু করবেন আপনারা , হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে কয়েক হাজার কোটিটাকার দুর্নীতি চাপা দিতে উল্টো কালপ্রিটদেরই আবার প্রায় ৫০০০ কোটি টাকার ঋণ দিচ্ছেন। এখন এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চাচ্ছেন আমাদের সাধারন জনগনের গলা টিপে ধরে। এটায় সেটায় নির্লজ্জ যুক্তিহীন ট্যাক্স বসিয়ে।
.
.
আপনি তো কথায় কথায় ডায়লগ দিয়ে থাকেন 'রাবিশ' , 'বোগাস'।
ডু ইউ নো মিঃ মাল ? ইউ আর দ্যা গ্রেটেস্ট রাবিশ এন্ড বোগাস আই হ্যাভ এভার সিন। ইফ আই হ্যাভ টু রুইন মাই ফ্যামিলি এন্ড মাই ক্যারিয়ার ফর ইউ দেন আই মেনশন ইউ এজ আ ব্লাডি বাস্টার্ড। মিডল ফিঙ্গার ফর ইউ মিঃ রাবিশ।
......
......
এহেন বিধ্বংসী সিদ্ধান্তের জন্যে বলছি 'গভর্নমেন্ট ইজ মাই ফুট'
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৩:১৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:১৪

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে এতো ভয় কেন?
--------------------------------------------------------------------
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিকে কেন্দ্র করে ইউপিএলের বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা, কর্মীদের আটকে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ
একটি বইকে কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Extra Long - Dual Coverage!

লিখেছেন মুনতাসির, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫

আজান দিলে আমাদের দেশের অনেক নারীর মাথায় কাপড় দেওয়ার একটা দীর্ঘদিনের অভ্যাস আছে। আজান শুরু হলো, ওড়না মাথায় উঠল। ব্যাপারটা এত দ্রুত ঘটে যে মাঝখানে চিন্তাভাবনার বিশেষ সুযোগ নেই।

সমস্যা হচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল-জলন্ত

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
অলকা থাকে আমেরিকার ফারগো নামক শহরে। খুবই ছোট শহর। শহরটি ছবির মতন সুন্দর। শীতের সময় প্রচণ্ড শীত পড়ে। এলিন নামের এক বৃদ্ধার কাছ থেকে অলকা দুই রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনে কোটি কোটি মানুষকে টাকা দেওয়া হয়েছিলো?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৩

গানঃ হাল্লাজের কাপড়
গানের লিংকঃ https://on.soundcloud.com/Vctd83PVm40VJ64T16



১) ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনকে অনেকে আম্রেকিয়া আর শিবিরের প্ররোচনায় হয়েছে বলে প্রচার করেন। আমার প্রশ্ন, আম্রিক্যা ও শিবির কাউকে কাউকে হয়তো 'ভাড়া' করে থাকতে পারে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×