অনীকের ব্যবহারটা বাড়ীর সকলের কাছে একটা বাড়াবাড়িতে পরিনত হচ্ছে। কী এমন লুকিয়ে আছে এই সবুজ সোয়েটারে; লতিফা হাত দিতেই সে রেগেমেগে কেড়ে নিয়ে নিজের হাতে; কেঁদে ফেললো। সেদিন স্বামীর সম্মুখে বড্ড লজ্জায় পড়েছিলেন লতিফাও।
তিনি তো কম করেন না অনীকের জন্য; কোলে পিঠে আগলে রাখে তিনি। না হয় আপন, কিন্তু তারতো আর পিছুটান নেই যে অনীককে অবহেলা করবেন। বিয়ের পর থেকে তিনি অনীককে বড্ড আপন করে নিয়েছেন। লতিফাকে পেয়ে অনীকের বাবা রহমত সাহেবও অনেক সন্তুষ্ট; বিশেষিত ছেলের দিকে খেয়ালটা তাকে খুব আড়োলিত করে। এব্যাপারে অনীকের তেমন কোনো আপত্তি নেই।
সেদিন বাক্স থেকে শীতের পোষাক বের করার পরই এই ঘটনা। লতিফা চেয়েছেন সবকিছু লন্ড্রি করার পর ব্যবহার শুরু হবে। অনীক তার পুরানো সোয়েটার দেখতে পেয়েই টেনে হাতে নিলো। সে বার বার গায়ে পড়তে যাচ্ছে কিন্তু লতিফার অই একই কথা, আগে পরিষ্কার করা; তারপর গায়ে দেওয়া।
দুই নাছোড়ের যখন তুমুল রেশারেশি; ঘটনা সামলাতেই পাশের ঘর থেকে রহমত সাহেব এসে যোগ দিলেন। ফলে অনীকের জেদ একটু বেড়েই উঠলো। লতিফার কন্ঠভারী শুনাতেই রহমত সাহেব তড়িঘড়ি নরোম গলায় অনীককে প্রশ্ন করলেন
ঃ বাবা, তুমি কেন সোয়েটারটা পরিষ্কার করতে চাইছো না?
তার কোন উত্তর না পেয়েই তিনি বলতেই থাকলেন বিভিন্ন যুক্তি; সব শেষে বললেন
ঃ জানো তো বাক্সবন্ধি কাপড়ে রোগজীবাণু থাকতে পারে। পরিষ্কার পোষাক পরা স্বাস্থ্যকর।
তারপর তিনি সত্যিই কিছু একটা উত্তরের জন্য অনীকের দিকে তাকালেন।
সে ফুপিয়ে কেঁদে চোখ কচলায়ে খুব ক্ষীণ কন্ঠে বাবার দিকে ফিরে মিনমিন করে বলল
ঃ ওটা ধুঁলে মার গন্ধ চলে যাবে।
মা মারা যাওয়ার বছরে এই সোয়েটারটা বুনে, তার গায়ে পরিয়ে দিয়েছিলেন। প্রতিদিন সন্ধ্যায় বায়না করে মার হাতে পরে নিত। এক নিঃশ্বাসে বলে সে যখন বাবার দিকে তাকালো; রহমত সাহেবের দুচোখে অঝোর বৃষ্টি। নিঃসন্তান লতিফা স্বাশতজননীর মার্ধুয্য মৃণালে জড়িয়ে ধরা গলায় বললেন
ঃ আয়, বাবা আমার বুকে থাক। তোর সোয়েটারটা এভাবেই গুছিয়ে রাখিস সারাজীবন।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




