somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পদার্থবিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা : জুতা না থাকার কারনে হেনস্তা

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[img|http://s3.amazonaws.com/somewherein/pictures/alam1007/09-2014/db655c91241bf512683f41a9228f8cde_tiny.jpeg
মেঘনাদ সাহার জীবনের জুতার কারনে হেনস্তা
জুতো কেনার টাকা নেই। তাই সে খালি পায়েই স্কুলে যায়।কিন্তু সেদিনটা ছিল অন্যরকম। বাংলার গভর্নরের আগমণ উপলক্ষে ঢাকায় ছাত্ররা প্রতিবাদ-মিছিল বের করেছে। পায়ে জুতো না-পরাটাও ছিল প্রতিবাদের অংশ। কলেজিয়েট স্কুলে খালি-পায়ের ছেলেদের ধরে শাস্তির ব্যবস্থা করা হলো। অনেকের সাথে মেঘনাদকেও স্কুল থেকে বহিস্কার করা হলো। বাতিল করা হলো তার বৃত্তি।

ব্যক্তিগত জীবন

অশিক্ষিত মা-বাবার সন্তান হয়েও মেধা, পরিশ্রম ও নিষ্ঠার জোরে একজন মানুষ যে কত বড় হয়ে উঠতে পারেন মেঘনাদ সাহা তার জ্বলন্ত প্রমাণ। আধুনিক জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের ভিত্তি গড়ে উঠেছে যে ক’জন মানুষের মৌলিক তত্ত্বের ওপর – অধ্যাপক মেঘনাদ সাহা তাঁদের অন্যতম। ১৯২০ সালে মেঘনাদ সাহার তাপীয় আয়নায়নের সমীকরণ প্রকাশিত হবার পর থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানে যত গবেষণা হয়েছে তাদের প্রায় সবগুলোই সাহার সমীকরণ দ্বারা প্রভাবিত।

সাহা সমীকরণ জানতে চাইলে : Click This Link

ঢাকা থেকে প্রায় পঁয়তাল্লিশ কিলোমিটার দূরে শেওড়াতলী গ্রাম (বর্তমানে এই গ্রামটি গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানায় অবস্থিত)। গ্রামের দরিদ্র মুদি দোকানী জগন্নাথ সাহা ও ভুবনেশ্বরী দেবীর ঘরে ১৮৯৩ সালের ৬ই অক্টোবর রাতে মেঘনাদের জন্ম। ভীষণ ঝড়বৃষ্টির মধ্যে জন্মেছিলেন বলে ঠাকুরমা নাম রেখেছিলেন মেঘনাথ। পরে স্কুলে যাবার সময় নাম বদলে মেঘনাদ করা হয়। আট ভাই-বোনের মধ্যে মেঘনাদ পঞ্চম। ছয় বছর বয়সে গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হন।এরপর শিমুলিয়া জুনিয়র হাই স্কুলে মেঘনাদের লেখাপড়া শুরু হলো। নিম্ন-মাধ্যমিক পরীক্ষায় সমগ্র ঢাকা জেলার মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ঢাকার কিশোরী লাল জুবিলী স্কুল থেকে ১৯০৯ সালে পূর্ব-বাংলায় প্রথম স্থান অধিকার করে এন্ট্রান্স ও ১৯১১ সালে ঢাকা কলেজ থেকে সমগ্র বাংলায় তৃতীয় স্থান অধিকার করে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করলেন মেঘনাদ সাহা। ১৯১৩ সালে গণিতে অনার্স সহ বিএসসি ও ১৯১৫ সালে মিশ্র-গণিতে এমএসসি পাশ করলেন মেঘনাদ সাহা।শেষ দুই পরীক্ষায় মেঘনাদ সাহা প্রথম শ্রেণীতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করলেন, আর প্রথম হলেন সত্যেন বসু।

এরপর ইন্ডিয়ান ফাইনেন্সিয়াল সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দেবার জন্য দরখাস্ত করলেন মেঘনাদ সাহা। । কিন্তু পরীক্ষা দেবার অনুমতি পেলেন না । ব্রিটিশ গোয়েন্দারা রিপোর্ট দিয়েছে – মেঘনাদ সাহা বিপ্লবীদের সাথে যুক্ত। ব্রিটিশ রাজত্বে সরকারী চাকরির সব সম্ভাবনাই বন্ধ হয়ে গেলো মেঘনাদের।

তড়িৎচুম্বক তত্ত্ব ও বিকিরণের চাপ সংক্রান্ত থিসিসের জন্যে ১৯১৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি প্রদান করে মেঘনাদ সাহাকে।

নোবেল বিজয়ী পদার্থবিজ্ঞানী চন্দ্রশেখর সুব্রাহ্মনিয়ামের চেষ্টায় আইনস্টাইনের রচনার প্রথম অনুবাদের স্বীকৃতি পান সাহা ও বসু। সেই অনুবাদ এখন প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির আইনস্টাইন আর্কাইভে রাখা আছে।

১৯৯৯ সালে প্রকাশিত মেঘনাদ সাহার তৃতীয় কন্যা চিত্রা রায়ের লেখা থেকে মেঘনাদ সাহার কিছুটা ব্যক্তিগত পরিচয় পাওয়া যায় । ১৯১৮ সালে বিক্রমপুরের রাধারাণীর সাথে বিয়ে হয় মেঘনাদের। মেঘনাদের বয়স তখন ২৬, আর রাধারাণীর মাত্র ১৪। রাধারাণী ও মেঘনাদের তিনটি ছেলে ও চারটি মেয়ে। বড় ছেলে অজিত পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি করে সাহা ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের অধ্যাপক ছিলেন (মৃত্যু- ১৯৯১), মেজ ছেলে রঞ্জিত ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও বোম্বের টাটা হাইড্রোইলেকট্রিক্‌সে কাজ করতেন (মৃত্যু – ১৯৯৩)। ছোট ছেলে প্রসেনজিৎ – সেন্ট্রাল গ্লাস এন্ড সিরামিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ডেপুটি ডিরেক্টার ছিলেন। বড় মেয়ে ঊষা এমএসসি পাশ করেন(মৃত্যু- ১৯৯৭)। দ্বিতীয় মেয়ে কৃষ্ণা এমবিবিএস পাশ করেন। । তৃতীয়া কন্যা চিত্রা ইংরেজি সাহিত্যে পিএইচডি করে সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেছেন। ছোট মেয়ে সংঘমিত্রা দিল্লিতে ইতিহাসের অধ্যাপিকা।

রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা অনুভব করে সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নিলেন অধ্যাপক সাহা ।১৯৫১ সালে কংগ্রেসের রাজনীতির কঠোর সমালোচক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লোকসভার নির্বাচনে দাঁড়ালেন। কংগ্রেসের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে উত্তর-পশ্চিম কলকাতা আসনে লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হলেন অধ্যাপক সাহা। লোকসভায় তিনি সক্রিয় সদস্য হিসেবে ভূমিকা রাখেন শিক্ষায়, শিল্প-নীতিতে, নদী ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে এবং বিশেষ করে পারমাণবিক শক্তি সংক্রান্ত নীতিতে।

১৯৫৬ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে প্ল্যানিং কমিটির অফিসে যাবার পথে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান মেঘনাদ সাহা।
সূত্র: ইন্টারনেট



০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জঙ্গল পরিষ্কার করে সাপ তাড়ানাে...

লিখেছেন অপলক , ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪১

নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে: পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে বসবাসকারী স্থায়ী হিন্দু অধিবাসীরা চাইলে খুব সহজে তাদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত। যদি এই খবরটা সত্য হয়, তবে বাংলাদেশের জন্য সেটা মারাত্মক ভয়ঙ্কর ঘটনা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাড়ে হাজার বিজ্ঞানী এবং একটি স্ক্যামের গল্প

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২৮


জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। সেই সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নলেজ করিডোর’-এর আওতায় আল্লামা ইকবাল বৃত্তি চালু করে। ২০২৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×