somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অসহায় শৈশবে আমাদের শিশুরা, নির্বাক আমি ও আমরা!

০২ রা এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৩:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“ভিড় করে ইমারত আকাশটা ঢেকে দিয়ে চুরি করে নিয়ে যায় বিকেলের সোনারোদ, ছোট ছোট শিশুদের শৈশব চুরি করে গ্রন্থকীটের দল বানায় নির্বোধ”
নচিকেতার একটা গান দিয়ে লেখাটা শুরু করলাম-
আমার মেয়ের নাম ‘পলা’ বয়স পুরো পাঁচ বছর এখনো হয়নি। জানুয়ারী-১৮তে বাসার পাশে ১টা কিন্ডারগার্ডেনে ভর্তি করিয়ে ছিলাম নার্সারীতে।স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে তার পড়ার বিষয় কয়টা জানতে চাইলে আমাকে জানানো হলো ৮টি বিষয়। আমি ভর্তি করাতে চাইলাম না। কিন্তু আমার বউয়ের চাপাচাপিতে ভর্তি করাতে হলো। এখন তার ডেইলী রুটিন এমন হয়ে দাড়িয়েছে- সকালে ঘুম থেকে উঠে স্কুলে যাওয়া তারপর স্কুল থেকে ফিরে আরবী টিউটরের কাছে পড়া তারপর গোসল, দুপুরের খাবার খেয়ে উঠতে না উঠতে তার আবার টিউটর আসবে স্কুলের পড়া দেখানোর জন্য তার পর আবার তার মা বই খাতা নিয়ে বসবে তার হোমওয়ার্ক করানোর জন্যে। এর মধ্যে প্রতি সপ্তায় তথা কথিত পরীক্ষা, ফিস, চিত্রাংকন, আরো নানান ফন্দি-ফিকির।
মেয়েটা আমার তিন মাসের মাথায় অসুস্থ্য হয়ে পড়ল। তাকে নিয়ে ডাক্তার দেখালাম, ঔষধ খাওয়ালাম এখন সে সুস্থ্য অনেকটা। আমি তার মায়ের সাথে কাউন্সেলিং করলাম বিষয়টা নিয়ে বাচ্চার মা আমার কোন যুক্তির সাথে একমত নয়। তার কথা মেয়ে পাশের ফ্লাটের ভাবীর মেয়ে এতো এতো পারে ও পারবেনা কেন? তারও পারতে হবে। আমি বোঝাতে ব্যার্থ হলাম, এক পর্য়ায় রাগা রাগী কথা কাটাকাটিতে পৌছালো।
এখন আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি মেয়েকে আর ওখানে পাঠাবো না আগামি বছর আমি সরকারী প্রাইমারি স্কুলে শিশু শ্রেণীতে ভর্তি করাবো। এমনিতেই আমার বাচ্চাদের শৈশবটা কেটে যাচ্ছে এক প্রকার বন্দি দশায়, শহুরে ফ্ল্যাট বাসার চারদেয়ালের মধ্যে।তারউপর এত এত চাপ দিয়ে পড়ালেখার ইদুর দৌড়ে তাদের যন্ত্র বানিয়ে চলেছি।তাদের মানসিক বিকাশ কিভাবে হবে? বাচ্চাদের সুন্দর একটা শৈশব কিভাবে উপহার দিবো সেটাই ভাবতেছি।
আমাদের দেশে শিক্ষা ব্যাবস্থা এমন অবস্থায় আছে যেখানে শিশুদের ক্রিয়েটিভিটি নষ্ট করে দিচ্ছে শুরুতেই। বৈষম্য মুলক মানসিক অবস্থা তৈরি করে দিচ্ছে শিশুকালেই।কারন নিম্নবিত্তের, মধ্যবিত্তের, উচ্চবিত্তের স্কুল আলাদা আলাদা এতে করে নিম্মবিত্তের প্রতি ঘৃনার এবং উচ্চ বৃত্তের প্রতি অকৃষ্টতা অতি বাল্যকাল থেকেই তৈরী হচ্ছে।
মনে মনে ভাবি আমি তো কোনদিন ভালো রেজাল্ট করিনি, ফার্স্ট হবার পিছনে দৌড়াইনি, খুব কমই ভালো রেজাল্ট করেছি, আমাদের ছেলেবেলা কতো আনন্দে কেটেছে আর ওদের জীবনটা শুরুই করতেছে বইয়ে মুখ গুজে। মায়েদের অতিরিক্ত সতর্কতা আর সেরা হবার প্রতিযোগীতায় তাদের প্রতিনিয়ত চাপ নিতে নিতে প্রযুক্তি নির্ভর এই যুগে বাইরের জগৎ সম্পর্কে তারা উদাসিন ভাবে বেড়ে উঠতেছে।এর কি কোন প্রতিকার নেই?
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৩:৫৬
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

‘সবচেয়ে কঠিন’

লিখেছেন আবু সিদ, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:১৫


আমি সাদ। আমার বয়স ১৭ বছর। আমি ক্লাস টেনের ছাত্র। আমার ক্লাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বয়স ১৫ বা তার আশপাশে। আমারও ১৫ বছর বয়সে ক্লাস টেনে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্চে রাজনৈতিক বিভাজন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৪



উদীচী পুড়ার সময় কি হারমোনিয়াম, তবলা, একতারা, দোতারা, সেতার কিংবা বাঁশি পুড়েনি?, মনে রাখবেন তখন আগুন শুধু কিছু বাদ্যযন্ত্র পোড়ায়নি, -পুড়েছিল এই বাংলার সংস্কৃতির, এই বাংলার শত কোটি মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মেটিকুলাসলি ডিজাইন' করে সিলেটকে অশান্ত করে তোলার অর্থ কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:১৫

সিলেটে এন,সি,পি সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল।
দলের ভিতরে কোন্দল মারাত্মক তা ফেসবুকে দলীয় নেতা কর্মীদের পোস্ট দেখে বুঝা যায়।
অথচ, সামনে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন।
এই পরিস্থিতিতে, দলের মানুষদের 'গরম' করে তোলার একটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৮

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।
================================
ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। যে জাতি তার মানুষের কান্না, আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের দাবি ভুলে যায়, সে জাতির ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
আজ এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দহনের ওপারে প্রশান্তি

লিখেছেন মুহাম্মদ তমাল, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



প্রিয় আকাশ,
মাঝে মাঝে তোমার দিকে তাকিয়ে মনে হয়, তুমিই সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে নিঃশব্দ প্রাঙ্গণ। তাই আমার সমস্ত অভিযোগ, অনুযোগ, ক্ষোভ, দীর্ঘশ্বাস আর অব্যক্ত আর্তনাদ তোমার দিকেই ছুড়ে দিই। তুমি নির্লিপ্ত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×